জিহাদ সরদার

সামন্তীয় যুগে সামন্তীয় রাজারা যখন নতুন কোনো জায়গির পরিদর্শনে যেত বা প্রজাদের মাঝে উপস্থিত হতেন বা মজলিসে উপস্থিত হতেন বা নতুন কোনো রাজ্য আক্রমণ করতেন তখন সেখানে তার দাম্ভিক উপস্থিতির প্রমাণ স্বরূপ বিউগল ইত্যাদি বাজিয়ে রাজার দাসকবিদের লেখা কবিতাংশ বা গান বা ছান্দিক কোনো বাক্য বাজানো হত। যাতে তার সদম্ভ উপস্থিতি ঘোষিত হয়। আযান হচ্ছে ইসলামি সাম্রাজ্যবাদের সে রকমই এক দাম্ভিক ঘোষণা। আযানকে ঘিরে মুসলমানদের মধ্যে নানা ফেনোমেনা প্রচলিত আছে। আযান হলে অন্তরাত্মা কাঁপেনা সেরকম মুসলমান নাই।

মুসলমানদের মসজিদে দিনে পাঁচবার এই বিকট আরবি ভাষায় আরবি সাম্রাজ্যের ঘোষণা দেয়া হয়। এই আযান যা এখনও মুসলিমদের প্রথম স্তম্ভের ভীতিকর বিউগল। যা ইতিমধ্যে বিশ্বের দেশে দেশে বন্ধ করে দেয়ার জন্য শোর উঠেছে অথবা মাইক পরিহার করে শুধু কণ্ঠে আযান দেয়ার প্রস্তাব উঠেছে এখন দেখা যাক সেই আযানের সম্পর্কে কিছু বলা যায় কিনা। গুজরাতে মুসলমান নিধনের প্রথমদিকে গুজরাতের হিন্দুদের প্রথম অভিযোগ ছিল দিনে পাঁচবার মাইকে এই বিকট আরবি চিৎকার বন্ধ করতে হবে। ইসলামি সাম্রাজ্যবাদের শুরু থেকেই দাম্ভিক প্রচারকে খুবই গুরুত্ব দেয়া হত। এখনও তাই। আরকানেও রাখাইনদের অভিযোগ ছিল মাইকে দিনে পাঁচবার এই আরবি বিকট চিৎকার বন্ধ করতে হবে। চায়নাতে এরই মধ্যে মাইকে আযান দেয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ডকিন্সের রিলিজিয়ান ভাইরাসের দোহাই দিয়ে বলা যায় এ একধরণের ভাইরাসের লালা। ইসলামি ভাইরাসের টিকে থাকার অন্যতম পদক্ষেপ এই আযান। এই আযান যেমন একেক জায়গায় একেক রকম। আযান নিয়ে রয়েছে আরও অনেক বিরক্তিকর ইতিহাস। এমনকি আরব রাষ্ট্রগুলোতে আযান হওয়ার সাথে সাথে যে যেখানে আছে যে অবস্থায় আছে সে অবস্থায় মসজিদের দিকে ছুটতে হয়। এখন দেখি আযানে ঠিক কি বলা হয়।

আরবিতে

আল্লাহু আকবার ৪ বার।
আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ ২ বার।
আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসুলুল্লাহ্- ২বার।
হাইয়্যা আলাছ ছালাহ্ -২ বার।
হাইয়্যা আলাল ফালাহ্- ২ বার।
আল্লাহু আকবার-২ বার।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-২ বার।

বাংলায়

আল্লাহই মহান ও সর্বশ্রেষ্ঠ
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে এক আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ আঃ) আল্লাহর প্রেরিত রসুল।
তোমরা নামাযের দিকে ছুটে এসো।
তোমরা সাফল্যের দিকে ছুটে এসো।
আল্লাহই মহান ও সর্বশ্রেষ্ঠ।
এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই।

কোরানসহ ইসলামি অন্যান্য যে কোনো সুরায় খুব সুক্ষভাবে আল্লাহর কথা বলতে বলতে মুহাম্মদের প্রসঙ্গ ঢুকিয়ে দেয়া হয়। সেটা হচ্ছে নবী বা প্রেরিত পুরুষ হিসাবে মুহাম্মদের বৈধতা দেয়া। কোনো কোনো মুসলমান ওয়াজকারিরা বয়ান করেন মুহাম্মদ আল্লাহর দোস্ত। তিনি নুরের তৈরি। মুহাম্মদকে মাঝে মাঝে জাদুকর হিসাবেও উপস্থাপন করা হয়। এই আযানের মধ্যেও যেটা আমরা লক্ষ্য করি সেই অর্থহীন কথাবার্তার মূলসূত্র। সে বায়বীয় আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব যা বিশ্বাস ব্যবসায়ীদের প্রথম খুটি। আর দ্বিতীয় মুহাম্মদকে বায়বীয় আল্লাহ কর্তৃক স্বীকৃতির মাধ্যমে মুহাম্মদের স্থানটা প্রশ্নহীন করে তোলা।

এখন এই বিজ্ঞানের যুগে যেখানে ইশ্বরের অস্তিত্বহীনতা প্রায় প্রমাণিত। বা যা অধিকাংশ মানুষের আর দরকারই নাই। মুহাম্মদের সমস্ত ছলাকলা মিথ্যাচার যেখানে প্রমাণিত প্রায়। দেশে দেশে মানবজাতির ক্ষতিকর এই এইসলামি অপবিশ্বাস বিলুপ্ত হওয়ার পথে সেখানে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে দারিদ্র্যের ছলে কোনোমতে ইসলাম এখনো টিকে আছে। সেখানে দিনে পাঁচবার আযান রীতিমতো অত্যাচার। ইসলাম টিকে আছে প্রচুর মিথ্যাচারের ওপর ভিত্তি করে। এটা সেই মিথ্যাচারের চুড়ান্ত সারসংক্ষেপ।

জিহাদ সরদার এর ব্লগ   ১৩২ বার পঠিত