অতিথি লেখক

ড. অজয় রায়। বিশিষ্ট পদার্থবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের প্রায় সব গণতান্ত্রিক ও নাগরিক আন্দোলনের সামনের কাতারের মানুষ। তাঁর ফ্ল্যাটে পা দিতেই চোখে পড়ল দুটি ভাস্কর্য। একটি অজয় রায়ের সন্তান অভিজিৎ রায়ের, অপরটি দ্রোহী লেখক হুমায়ুন আজাদের। দুজনই জঙ্গিগোষ্ঠীর হামলার শিকার। ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলা থেকে ফেরার পথে অভিজিৎকে হত্যা করে জঙ্গিগোষ্ঠী। সেই থেকে বাবা সন্তান হারানোর শোক বহন করছেন। কয়েক দিন আগে হাসপাতাল থেকে এসেছেন; অসুস্থ শরীর। কিন্তু মনের দিক থেকে সতেজ; ব্যক্তিগত শোক ছাপিয়ে মনে হলো তিনি বাংলাদেশ নিয়েই বেশি চিন্তিত। প্রথম আলোর সঙ্গে তাঁর কথোপকথনে উঠে আসে অভিজিৎ হত্যা মামলার তদন্ত, সরকারের ভূমিকা, তরুণ প্রজন্ম, নাগরিক আন্দোলন, মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির অশুভ তৎপরতা ইত্যাদি। প্রথম আলোর পক্ষে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সোহরাব হাসান, যা দৈনিক প্রথম আলোয় প্রকাশিত হয়েছে। মুক্তমনা ও সেক্যুলার আন্দোলন-সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে অজয় রায় এর এই সাক্ষাৎকারটির গুরুত্বপূর্ণ মনে করায় এখানে তা হুবহু তুলে ধরা হলো।

 

অধ্যাপক অজয় রায়। ফটো: বিবিসির সৌজন্যে

 

প্রথম আলো:অভিজিৎ হত্যা মামলার তদন্ত কত দূর? তদন্তকারী কর্মকর্তারা কী বলছেন?

অজয় রায়: কয়েক দিন আগে একজন তদন্ত কর্মকর্তা টেলিফোন করে বললেন, একজন আসামি ধরা পড়েছে। নাম সম্ভবত আবদুল্লাহ আল শাকিব। ওরফে সোহেল। সে হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তার দায়িত্ব ছিল অভিজিৎ রায়ের গতিবিধি জেনে ঘাতক চক্রকে জানানো। ওরা চারবার চেষ্টা চালিয়েছে। শেষ চেষ্টা ছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি একুশের বইমেলায়। অভিজিৎ ঢাকায় এসে উঠেছিল তার স্ত্রী বন্যার মামার বাসায়, ইন্দিরা রোডে। ঘাতকেরা সেখানেও হানা দিয়েছিল। কিন্তু প্রহরীরা ঢুকতে দেননি। আল ফরাজি নামের একজন যুক্ত ছিল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র। পরে পড়াশোনা ছেড়ে ছাত্রশিবিরের অ্যাকটিভিস্ট হয়ে যায়। মুকুল রানা নামের আরেক হত্যাকারী পুলিশের ক্রসফায়ারে মারা গেছে।

অন্যদিকে অভিজিৎ যেহেতু আমেরিকার নাগরিক, সেহেতু মার্কিন আইন অনুযায়ী এফবিআইও তদন্ত করেছে। সংস্থাটির তদন্ত কর্মকর্তারা বাংলাদেশেও এসেছিলেন। এফবিআই তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে।

প্রথম আলো: তদন্ত যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে আপনি কতটা আশাবাদী?

অজয় রায়: আমি নৈরাশ্যবাদী মানুষ নই। আমি আশা রাখতে চাই। তবে তদন্ত যেভাবে চলছে, তাতে আমি অসন্তুষ্ট। বিচারিক আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আদালত যথাযথ হয়নি বলে ফেরত পাঠিয়েছেন। আদালত কিছু পরামর্শও দিয়েছেন।

প্রথম আলো: অভিজিৎ হত্যার পর সরকারের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

অজয় রায়: ঘটনার পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে টেলিফোন করেছিলেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাসায় এসেছিলেন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এসেছিলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এসেছিলেন, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এসেছিলেন। কিন্তু তাঁরা কেউ পত্রিকায় কোনো প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন বলে মনে পড়ে না।

প্রথম আলো: অভিজিৎ হত্যার প্রায় পৌনে তিন বছর পার হয়েছে। এখনো তদন্তকাজ শেষ হয়নি। এ ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছার অভাব আছে বলে মনে করেন?

অজয় রায়: সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতি আমার অনাস্থা নেই। কিন্তু যেসব অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরকার কাজ করে, সেসব অঙ্গপ্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশবিরোধী লোকজন আছে, জামায়াত-হেফাজতের লোকজন আছে। তারা তো চাইবে না অভিজিৎ হত্যার বিচার হোক। কেবল অভিজিৎ হত্যা কেন? গত কয়েক বছরে মৌলবাদী-জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এর মধ্যে একমাত্র রাজীব হত্যার বিচার হয়েছে। দুজনের মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যদের যাবজ্জীবন। আর ওয়াশিকুর হত্যার বিচার চলছে। সেই ঘটনায় তৃতীয় লিঙ্গের দুজন মানুষ এক ঘাতককে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।

প্রথম আলো: অভিজিতের লেখালেখি নিয়ে আপনি কি তাঁকে সতর্ক করেছিলেন?

অজয় রায়: আমি তার লেখালেখির বিষয়ে সতর্ক করিনি। ২০১৫ সালে বাংলাদেশে আসার আগে ১২ ফেব্রুয়ারি আমাকে অভিজিৎ টেলিফোন করেছিল। আমি তাকে বললাম, দেশের অবস্থা ভালো নয়। এখন তোমার না আসাই ভালো। এরপর ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় নেমে বিমানবন্দর থেকে আমাকে ফোন করল। আমি বললাম, এসেই যখন পড়েছ, তখন সাবধান থাকবে। বইমেলায় একা যাবে না এবং সন্ধ্যার আগে বইমেলা থেকে ফিরে আসবে। অন্যান্য দিন তা-ই করত। কিন্তু ২৬ ফেব্রুয়ারি ওরা যখন বইয়ের স্টল থেকে চলে আসবে, তখন বুয়েটেরই একজন শিক্ষক, যিনি ইলেকট্রিক্যাল প্রকৌশলী, ওকে ডেকে বললেন, ‘অভিজিৎ দা, আমরা আড্ডা দিচ্ছি, আপনার বই নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। আপনিও আসুন।’ এরপর অভিজিৎ ও বন্যা সেই আড্ডায় যোগ দিল, সাড়ে আটটা পর্যন্ত আড্ডা চলল। তখন ওই িশক্ষক কাঁটাবনে তাঁর আমন্ত্রণ আছে বলে চলে গেলেন। ঘাতকের দল ওত পেতে ছিল। অভিজিৎ ও বন্যা বের হতেই ওরা আক্রমণ করল।

প্রথম আলো: পরে বুয়েটের ওই শিক্ষকের সঙ্গে কি আপনার দেখা হয়েছে?

অজয় রায়: হ্যাঁ, হয়েছে। ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির একটি অনুষ্ঠান শেষে চলে আসার পথে দেখি, একজন সিঁড়ির কাছে দাঁড়িয়ে আছেন। আমাকে বললেন, ‘আপনার সঙ্গে একটু কথা বলতে চাই।’ আমি বললাম, চলুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে যাই। সঙ্গে তাঁর স্ত্রীও ছিলেন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে না এসে আমাকে নিয়ে বুয়েটের ক্লাবে গেলেন। তিনি আমার কাছে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি কি মনে করেন, আমি অভিজিৎ হত্যার সঙ্গে জড়িত?’ আমি বললাম, হয়তো প্রত্যক্ষ ভূমিকা নেই। সেটাই তিনি পরে সাফাই হিসেবে ব্যবহার করলেন। এর আগে পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, তাঁকে বলা হয়েছিল ঢাকা কিংবা দেশের বাইরে গেলে পুলিশের অনুমতি লাগবে।

প্রথম আলো: এই যে জঙ্গিদের হাতে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটল, সমাজে তেমন প্রতিবাদ হলো না কেন?

অজয় রায়: প্রতিবাদ হয়েছে। সাধারণ মানুষ যথেষ্ট এগিয়ে এসেছে। শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। সারা দেশে সেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ইমরান এইচ সরকার অনেক দিন আন্দোলন ধরে রেখেছিল। কিন্তু এর ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয়নি। তবে আমি মনে করি, তরুণ প্রজন্মই বাংলাদেশের ভরসা। তারাই আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

ব্যক্তিগতভাবে আমি অভিজিৎ, হুমায়ুন আজাদসহ যাঁরা জঙ্গি-মৌলবাদী গোষ্ঠীর হাতে প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের স্মৃতি রক্ষায় বেশ কিছু ভাস্কর্য তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এসব ভাস্কর্য শহরের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত হলে মানুষ জানতে পারত এই মানুষগুলো বাক্‌স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছেন। কিন্তু কাজটি অনেক দূর এগিয়ে মনে হলো, এটি তো ব্যক্তিগত বিষয় নয়। সিটি করপোরেশন কাজটি করতে পারে।

প্রথম আলো: সব সম্প্রদায়ের সম-অধিকারের প্রত্যয় নিয়েই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু এখনকার বাস্তবতা কী?

অজয় রায়: সাম্প্রদায়িকতা এমন ব্যাধি, যাকে সহজে নির্মূল করা যায় না। এর সঙ্গে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ জড়িত। যখন কেউ দেখে হিন্দুদের সম্পত্তি আছে, দখল করার চেষ্টা করে। সেটি কেবল ধর্মীয় সংখ্যালঘুর ক্ষেত্রে ঘটছে না। উত্তরাঞ্চলে বিশাল সাঁওতাল গোষ্ঠী ছিল। এখন তারা একেবারে প্রান্তিক হয়ে গেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর কিংবা রংপুরে সংখ্যালঘুদের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে ধর্মীয় উন্মাদনা তৈরি করে। ধর্ম অবমাননার কথা বললেই মানুষকে উত্তেজিত করা হয়। এখানেই সরকারের দায়িত্ব। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। শাস্তি দিতে হবে। তবে আশার কথা, মাঝেমধ্যে সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠলেও সামগ্রিকভাবে সমাজ প্রগতির পথেই আছে। সাধারণ মানুষও মৌলবাদী-জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে, ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে। হতাশার জায়গা হলো, তাদের সামনে এগিয়ে নেওয়ার সংগঠন নেই। আবার যারা ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে, তাদের মধ্যেও বাংলাদেশের আদর্শবিরোধী, জামায়াত-হেফাজতের লোক ঢুকে গেছে। রাজনীতিতে সুবিধাবাদ জেঁকে বসেছে। একাত্তরের চেতনার কথা বলা হলেও এর বাস্তবায়ন নেই। তারপরও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আরজি রাখব, পিতার আদর্শ গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা থেকে তিনি যেন বিচ্যুত না হন। আর বিএনপি তো মুসলিম লীগ হয়ে গেছে।

প্রথম আলো: আপনি বলছেন, বিএনপি মুসলিম লীগ হয়ে গেছে, কিন্তু আওয়ামী লীগ আমলেও তো সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হচ্ছে।

অজয় রায়: ২০০১ সালে নির্বাচনের পর দেশব্যাপী সংঘটিত হামলার সঙ্গে বর্তমানের হামলা তুলনীয় নয়। তখনকার হামলা ছিল পরিকল্পিত এবং সারা দেশে। এখন ঘটছে স্থানীয়ভাবে।

প্রথম আলো: ২০০১-এর সাম্প্রদায়িক হামলার পর আপনি বিভিন্ন স্থানে গিয়েছেন, আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তা করেছেন। কোন বোধ থেকে সেটি করেছিলেন?

অজয় রায়: আমি মনে করেছি, এই মানুষগুলোকে রক্ষা করতে হবে। সেই কাজ করতে গিয়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে বহু মানুষের সহায়তা পেয়েছি। হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ আমাকে সহযোগিতা করেছেন। ভোলায় আমরা প্রায় সাড়ে তিন শ বাড়িঘর তৈরি করে দিয়েছিলাম। অপরাধীরা চিহ্নিত হয়েছিল। সিরাজগঞ্জে পূর্ণিমার পরিবারকেও সহায়তা দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীও সহায়তা করেছেন। পূর্ণিমা কয়েক দিন আগেও এসেছিলেন।

প্রথম আলো: এত কিছুর পরও আপনার ভরসার জায়গাটা কোথায়?

অজয় রায়: আমি বাংলাদেশের মুসলমানদের পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের মুসলমানদের সঙ্গে এক করে দেখি না। এখানকার মানুষ পরমতসহিষ্ণু। শত শত বছর ধরে তারা পাশাপাশি শান্তি ও সৌহার্দ্যের সঙ্গে বাস করে আসছে। এর কারণ, এখানে ইসলাম এসেছে সুফিদের মাধ্যমে। বাংলাদেশের ইসলাম মধ্যপ্রাচ্যের ইসলাম থেকে ভিন্নতর।

প্রথম আলো: পাকিস্তান আমল থেকে দেখেছি, এ ধরনের দুর্যোগে নাগরিক সমাজ এগিয়ে আসে। কিন্তু এখন নাগরিক আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়ল কেন?

অজয় রায়: এটা দুর্ভাগ্যজনক যে আমরা ওই ধরনের গণসচেতনতা তৈরি করতে পারছি না। সরকার তো সব সময় সুবিধাবাদী চরিত্রের হয়। যেদিকে পাল্লা ভারী, সেদিকে সে ঝুঁকবে। এ কারণে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জনমত প্রবল করতে হলে গণসংগঠনগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। কয়েক দিন আগে আমরা মধুর ক্যানটিনে বসে ছিলাম। কামাল লোহানীকে সাংগঠনিক প্রধান করে একটা উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি, অসাম্প্রদায়িক সামাজিক সংগঠনগুলোকে রাজপথে নামতে হবে। তারা শক্তি দেখাতে পারলে সরকারও মৌলবাদী বা সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে হাত মেলানোর আগে চিন্তা করবে। এই আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইনজীবী, লেখক-বুদ্ধিজীবীদেরও শরিক করতে হবে। মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক শক্তির বাইরের সবাইকে একত্র করতে হবে। আমি সব সময় আশাবাদী মানুষ। সামনের নির্বাচন ঘিরে যাতে অশুভ শক্তি কোনো অঘটন না ঘটাতে পারে, সে জন্য সজাগ থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে শক্ত ভূমিকা রাখতে হবে।

প্রথম আলো: আপনাকে ধন্যবাদ।

অজয় রায়: আপনাকেও ধন্যবাদ।

 

কৃতজ্ঞতা: দৈনিক প্রথম আলো

অতিথি লেখক এর ব্লগ   ৫২১ বার পঠিত