পর্যবেক্ষক

ভূমিকা: 

২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় আওয়ামী লীগের এক জনসভায় গ্রেনেড হামলা হয়। যে হামলায় ২৪ জন নিহত হয় এবং তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রায় ৩০০ লোক আহত হয়। এই হামলায় নিহতদের মধ্যে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নারী নেত্রী মিসেস আইভি রহমান অন্যতম, যিনি বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী।

২০০৪ সালের সারাদেশে জঙ্গিদের বোমা হামলা এবং গোপালগঞ্জে পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ২১ আগস্ট বিকেলে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশের প্রধান অতিথি শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানস্থলে বিকেল পাঁচটায় পৌঁছালে, একটি ট্রাকের ওপর তৈরি মঞ্চে তিনি কুড়ি মিনিটের বক্তৃতা শেষে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করার ঘোষণা দেন। শেখ হাসিনা মঞ্চ থেকে নিচে নেমে আসতে থাকেন। ঠিক এমন সময় শুরু হয় মঞ্চ লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা। মাত্র দেড় মিনিটের মধ্যে বিস্ফোরিত হয় ১১টি শক্তিশালী গ্রেনেড। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন এবং পরে হাসপাতালে আরও ১২ জন নিহত হন।

এ ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক জিয়া, চারদলীয় জোট সরকারের সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু, হরকাতুল জিহাদ প্রধান মুফতি হান্নান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৫২ জনকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে অন্য মামলায় মুফতি হান্নানসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড হওয়ায়, তিনজন ছাড়াই বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

ঘটনাস্থল ও সময়:

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ বর্বরোচিত ও নৃশংস গ্রেনেড হামলার ঘটনাটি ঘটে ওই দিন বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ জঘন্যতম নজিরবিহীন ওই গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগপত্র:

ঘটনার প্রায় চার বছর পর ২০০৮ সালের ৯ জুন অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে এ মামলা অধিকতর তদন্তের আদেশ হয় ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট। তদন্ত শেষে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়া হয় ২০১১ সালের ২ জুলাই।

পিছন ফিরে দেখা:

বহুল আলোচিত এই গ্রেনেড হামলার ঘটনায় ২টি মামলা করা হয়, একটি হত্যা মামলা এবং একটি বিস্ফোরক আইনের মামলা। মামলায় মোট আসামি ৪৯ জন, এর মধ্যে কারাগারে রয়েছেন ৩১জন, এবং তারেক রহমানসহ ১৮জন আসামি পলাতক রয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষী দিয়েছেন ২২৫ জন মানুষ। অন্যদিকে, আসামি পক্ষে সাক্ষী দিয়েছেন ২০ জন। মামলা দুটির বিচারকাজ এ বছরের ১৮ই সেপ্টেম্বর বিচারিক আদালতে শেষ হয়েছে। মামলার বাদিপক্ষ গ্রেনেড হামলার সময় এবং তারপরের তদন্ত নিয়ে পুলিশের নিস্ক্রিয়তায় তৎকালীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। উল্লেখ্য, জজ মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে গ্রেনেড হামলার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়ার বিষয়টি সেসময় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।

২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ওই হামলার ঘটনায় পুনরায় তদন্ত হয়। সেখানে নিষিদ্ধ সংগঠন হরকাতুল-জিহাদ-আল-ইসলাম নেতা মুফতি আবদুল হান্নান এবং তৎকালীন বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর নাম আসে। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে পুনরায় এই মামলার তদন্ত শুরু হয়। ওই তদন্তে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপি’র অন্যতম শীর্ষ নেতা তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর সহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা এবং পুলিশের সাবেক তিনজন মহাপরিদর্শক বা আইজিপি’র নাম আসে।

বিএনপি অবশ্য ওই তদন্তকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক‘ বলে বর্ণনা করে। তদন্তে বেরিয়ে আসে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই ওই হামলা চালানো হয়েছিল। হামলায় ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেনেড এসেছিল পাকিস্তান থেকে। ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এই গ্রেনেড হামলার ১৪ বছর এবং এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রথম অভিযোগপত্র দাখিলের ১০ বছর পর রায় ঘোষণা হলো।

তদন্তে যা বলেছিলেন মুফতি হান্নান: 

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার বিষয়ে জবানবনন্দি দিয়েছিলেন ঘটনার অন্যতম হোতা হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী (হুজি)-র প্রধান মুফতি হান্নান। বার্তা সংস্থা বাসস সূত্রে সংবাদ মাধ্যমে আসা সেই জবানবন্দি ছিল নিম্নরূপ:

মুফতি হান্নান

‘২০০১ সালের অক্টোবরে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হলে, বিএনপি জামায়াতের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে সরকার গঠন করে। তখন বিএনপি’র সাথে আমাদের সাথে সংগঠনের স্বার্থে সম্পর্ক আরো জোরদার করার লক্ষ্যে হরকতের আমীর মাওলানা আবদুস সালাম, শেখ ফরিদ, মাওলানা ইয়াহিয়া, আবু বক্কর, জাহাঙ্গীর বদর একত্রে চট্টগ্রামের বিএনপি’র এমপি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও কুমিল্লার মুরাদনগরের এমপি কায়কোবাদের সাথে যোগাযোগ করে। তারা আমাদের আমীর মাওলানা আ. সালামসহ তাদের সঙ্গে দেখা করে। ১৯৯৬ সালের যে ৪১ জন ধানখালীতে গ্রেফতার ছিল তাদেরকে হাইকোর্ট থেকে জামিনের ব্যবস্থা করে দেয়। এই ভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত থাকে এবং আমরা তাদের সহায়তাও পেয়ে আসতে থাকি। ২০০৩ সালের শেষের দিকে আমাদের আমীর মাওলানা আবদুস সালাম, শেখ ফরিদ, মাওলানা তাজউদ্দিন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সাথে যোগাযোগ করে। যোগাযোগের মাধ্যমে তারা বাবর সাহেবের বেইলি রোডের সরকারি বাসায় যায়। সেখানে উপস্থিত জিকে গাউস, আরিফুল ইসলাম আরিফ (কমিশনার), ইয়াহিয়া (মাওলানা), আবু বক্কর, ওরফে আবদুল করিম (মৌলভীবাজার ও বড়লেখা) উপস্থিত ছিল। এ সময় আমিও উপস্থিত ছিলাম। সেখানে আমীর সাহেবের সাথে কথা বলে এবং জিকে গাউস এবং আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফকে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (এখন) এদেরকে সিলেটের কাজের ব্যাপারে বলে এবং স্থানীয়ভাবে কাজের জন্য হুকুম দেয়। সেখানে স্থানীয় বিএনপি ও হরকতের লোক দ্বারা বিভিন্ন জায়গায় গ্রেনেডের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে ২০০৪ সালের প্রথম দিকে হরকাতুল জেহাদের একটি মিটিং হয় সেখানে উপস্থিত ছিল আমাদের আমীর মাওলানা আবদুস সালাম, মাওলানা শেখ ফরিদ, হাফেজ হাজাঙ্গীর বদর (জান্দাল) ঐ মিটিং হয় মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডস্থ দারুল আরকান মাদ্রাসা (হরকতের অফিস)-এর দোতলায়। ঐ মিটিং-এ আবু বক্কর ও ইয়াহিয়াও উপস্থিত ছিল। এরা মিটিং করে কিভাবে তারেক জিয়া ও বাবরের সঙ্গে কি কথা বলা যায়। আমরা পরে মোহাম্মদপুর সাত মসজিদে মাওলানা আবদুস সালাম, মাওলানা আবদুর রউফ, মাওলানা তাজউদ্দিন, কাশ্মিরী নাগরিক আবদুল মাজেদ বাটসহ একত্রে পরামর্শ করে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যার পরিকল্পনা করি। মাওলানা তাজউদ্দিন গ্রেনেড সরবরাহ করার দায়িত্ব নেয়। তাজভাই উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু ও প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর আমাদের সাহায্য করবে মর্মে জানায় এবং তারেক জিয়ার সাথে যোগাযোগের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর একদিন (তারিখ ও সময় মনে পড়ছে না) মুরাদনগরের এমপি কায়কোবাদ সাহেব আমাদেরকে হাওয়া ভবনে নিয়ে গিয়ে তারেক জিয়া ও হারিছ চৌধুরী সাহেবদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় আমরা আমাদের কাজ কর্মের জন্য তাদের সাহায্য ও সহযোগিতা চাইলে তারেক জিয়া আমাদের সর্ব প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দেয়। এরপর আমরা শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতাদের হত্যার জন্য মোহাম্মদপুরসহ আরো কয়েক জায়গায় গোপন মিটিং করি।’

‘আমরা ২০০৪ সালের আগস্ট মাসে সিলেটে গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে ঢাকার মুক্তাঙ্গনে আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ সভার সংবাদ জানতে পারি। সেখানে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের উপর আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেই। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পুনরায় তারেক জিয়ার সাথে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত হয়। আমি, মাওলানা আবু তাহের, শেখ ফরিদ, মাওলানা তাজউদ্দিন আল মারফাজুলের গাড়িতে করে মাওলানা রশিদসহ হাওয়া ভবনে যাই। সেখানে হারিছ চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর, জামায়াতে ইসলামের মুজাহিদ ব্রিগেডিয়ার রেজ্জাকুল হায়দার, ব্রিগেডিয়ার আবদুর রহিমকেও উপস্থিত পাইছি, কিছুক্ষণ পর তারেক জিয়া আসেন। আমরা তাদের কাছে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের উপর হামলা করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তাদের সহায়তা চাই। তখন তারা আমাদের সকল প্রকার প্রশাসনের সহায়তার আশ্বাস দেয়।

তারেক সাহেব বলেন যে, আপনাদের এখানে আর আসার দরকার নাই, আপনারা বাবর সাহেব ও আবদুস সালাম পিন্টুর সাথে যোগাযোগ করে কাজ করবেন, তারা আপনাদের সকল প্রকার সহায়তা করবে।

১৮ আগস্ট আমি, আহসান উল্লাহ কাজল, মাওলানা আবু তাহের আবদুস সালাম পিন্টুর ধানমন্ডির সরকারি বাসায় যাই। সেখানে আবদুস সালাম পিন্টু, বাবর, মাওলানা তাজউদ্দিন কমিশনার আরিফ ও হানিফ পরিবহনের হানিফ উপস্থিত ছিল। আবদুস সালাম পিন্টু ও লুৎফুজ্জামান বাবর বলে যে, কমিশনার আরিফ ও হানিফ সাহেব আপনাদের সকল প্রকার সাহায্য সহযোগিতা করবে এবং আমাদের সকল প্রকার নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। সে মোতাবেক ২০ আগস্ট মুফতি মঈন ওরফে আবু জান্দাল ওয়া ও আহসান উল্লাহ কাজল আবদুস সালাম পিন্টুর বাসা থেকে ১৫টি গ্রেনেড ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করে বাড্ডার বাসায় নিয়ে আসে। ২১ তারিখ আগস্ট মাস, ২০০৪ ইং আমরা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে গ্রেনেড হামলা চালাই।’

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামীগণ:

ওই ঘটনায় হত্যা, হত্যা চেষ্টা, ষড়যন্ত্র, ঘটনায় সহায়তাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়, যাতে আসামি সংখ্যা মোট ৫২ জন (ইতোমধ্যে অন্য মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় এখন আসামি ৪৯ জন)। একই ঘটনায় ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনে (সংশোধনী-২০০২) অপর একটি মামলায় আসামি সংখ্যা ৩৮জন।

ওই ঘটনায় হত্যা, হত্যা চেষ্টা, ষড়যন্ত্র, ঘটনায় সহায়তাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আনা মামলায় ৫২জন আসামি হচ্ছেন- ১) মুফতি আবদুল হান্নান ওরফে আবুল কালাম ওরফে আব্দুল মান্নান (অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর) ২) মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি ৩) শরিফ শাহেদুল আলম বিপুল (অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর) ৪) মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর ৫) আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল ৬) মো: জাহাঙ্গীর আলম ৭) হাফেজ মাওলানা আবু তাহের ৮) শাহাদাত উল্লাহ ওরফে জুয়েল ৯) হোসাইন আহম্মেদ তামিম ১০) আব্দুস সালাম পিন্টু ১১) মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ ১২) আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক ১৩) রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ১৪) মো: উজ্জল ওরফে রতন ১৫) হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া ১৬) মো: লুৎফুজ্জামান বাবর ১৭) মেজর জেনারেল (অব:) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ১৮) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আব্দুর রহিম ১৯) আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ (অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর) ২০) মাওলানা শেখ আব্দুস সালাম ২১) মো: আব্দুল মাজেদ ভাট ২২) আব্দুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ ২৩) মাওলানা আব্দুর রউফ ওরফে পীর সাহেব ২৪) মাওলানা সাব্বির আহমেদ ওরফে আব্দুল হান্নান সাব্বির ২৫) মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ ২৬) অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি মো: আশরাফুল হুদা ২৭) অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি শহুদুল হক ২৮) অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি খোদা বক্স চৌধুরী ২৯) রুহুল আমীন, বিশেষ পুলিশ সুপার (অব:) ৩০) আব্দুর রশিদ অবসরপ্রাপ্ত এএসপি ৩১) মুন্সী আতিকুর রহমান অবসরপ্রাপ্ত এএসপি ৩২) লে.কমান্ডার সাইফুল ইসলাম ডিউক ৩৩) মাওলানা মো: তাজউদ্দিন ৩৪) মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন ৩৫) আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন ৩৬) মো: খলিল ৩৭) জাহাঙ্গীর আলম বদর ৩৮) মো: ইকবাল ৩৯) আবু বক্কর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার ৪০) লিটন ওরফে মাওলানা লিটন ৪১) তারেক রহমান ওরফে তারেক জিয়া ৪২) হারিছ চৌধুরী ৪৩) কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ৪৪) হানিফ পরিবহনের মালিক হানিফ ৪৫) লে. কর্নেল (অব: ) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার ৪৬) মেজর জেনারেল এ,টি,এম, আমিন (এলপি আর) ৪৭) মুফতি শফিকুর রহমান ৪৮) মুফতি আব্দুল হাই ৪৯) রাতুল আহাম্মদ বাবু ওরফে রাতুল বাবু ৫০) ডিআইজি, খান সাঈদ হাসান ৫১) পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান খান ৫২) আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ কমিশনার।

এদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি মো: আশরাফুল হুদা, অবসরপ্রাপ্ত আই,জি,পি শহুদুল হক, অবসরপ্রাপ্ত আইজিপি খোদা বক্স চৌধুরী, রুহুল আমীন, বিশেষ পুলিশ সুপার (অব:), আব্দুর রশিদ অবসরপ্রাপ্ত এএসপি , মুন্সী আতিকুর রহমান অবসরপ্রাপ্ত এএসপি, লে.কমান্ডার সাইফুল ইসলাম ডিউক. লে.কর্নেল (অব:)সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার , মেজর জেনারেল এ,টি,এম, আমিন (এলপি আর), ডিআইজি, খান সাঈদ হাসান ও পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান খানসহ এ ১১ জনের বিরুদ্ধে ২১ আগস্টের একই ঘটনায় ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনে (সংশোধনী-২০০২) অভিযোগ আনা হয়নি।

আসামিদের মধ্যে ৩৮ জন উভয় মামলায়ই আসামি। এর মধ্যে হত্যা মামলায় ৪৯ জন ও বিষ্ফোরক আইনের মামলায় ৩৮ জন আসামি।

সাক্ষী সংখ্যা:

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২২৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেয়। আসামিপক্ষ সাক্ষীদের জেরা করেছে। গত বছরের ৩০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দের জেরা শেষের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। অপরদিকে আসামীপক্ষ ২০ জন সাফাই সাক্ষ্য দেয়। রাষ্ট্রপক্ষ তাদের জেরা করেছে।

মামলার ফলাফল:

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া দুই মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে মামলা দুটিতে বিএনপি-জামায়াত সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বাকি ১১ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। বিস্ফোরক ও দণ্ডবিধির এই দুই মামলায় ৫২ আসামির মধ্যে তিন জনের অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বুধবার (১০ অক্টোবর) পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে স্থাপিত ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

এদিন সকাল ১১টা ২০ মিনিটে প্রথমেই আসামি লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। আসামিদের আদালতে উপস্থিত করার পর সাংবাদিকদেরকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় আদালতে। এরপর ১১টা ৩৭ মিনিটে বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন এজলাসে ওঠেন। এ সময় মামলার রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেন এবং রায় ঘোষণার জন্য আদালতের কাছে প্রার্থনা করেন।

রায় ঘোষণার জন্য বিচারক বক্তব্য শুরু করতেই ১১টা ৪০ মিনিটে বিদ্যুৎ চলে যায়। ফলে আদালতে উপস্থিত আইনজীবী, সাংবাদিক ও আসামিদের বিচারকের বক্তব্য শুনতে বেশ কষ্ট পোহাতে হয়। এ মামলার দীর্ঘ শুনানিতে সহযোগিতা করার জন্য উভয়পক্ষের আইনজীবীদের ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোনের টর্চ জ্বালিয়েই রায় পড়া শুরু করেন আদালত। মূল রায় পড়া শেষের দিকে, ১২টা ৩ মিনিটে বিদ্যুৎ আসে। মিনিট পাঁচেক বিদ্যুৎ থাকার পর ফের ১২টা ৮ মিনিটে বিদ্যুৎ চলে যায়। পরে আদালত পর্যবেক্ষণ দিয়ে মামলার রায় ঘোষণা শেষ করেন। অবশেষে ১২টা ১৫ মিনিটে বিদ্যুৎ চলে আসে।

এই মামলায় গ্রেনেড নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এবং এই অপরাধে সহায়তা করে হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের সাজা পাওয়া আসামিরা হলেন— আলহাজ্ব মাওলানা মো. তাজউদ্দিন, মো. লুৎফুজ্জামান বাবর, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহিম, মো. আব্দুস সালাম পিন্টু, হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফ, মাওলানা আব্দুস সালাম, মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদ ভাট ওরফে মো. ইউসুফ ভাট, আব্দুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ ওরফে জি. এম, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে কাজা ওরফে আবু জানদাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ ও মো. উজ্জল ওরফে রতন। এর মধ্যে মওলানা মো. তাজউদ্দিন পলাতক, বাকি সবাই আদালতে হাজির ছিলেন।

এই ১৯ জনকে ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনের (সংশোধনী-২০০২) ৩ ও ৬ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের গলায় ফাঁসি ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো।

রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন— তারেক রহমান ওরফে তারেক জিয়া (পলাতক), হারিছ চৌধুরী (পলাতক), শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল (উপস্থিত), মাওলানা আব্দুর রউফ ওরফে আবু ওমর আবু হোমাইরা ওরফে পীর সাহেব (উপস্থিত), মাওলানা সাব্বির আহমেদ ওরফে আব্দুল হান্নান সাব্বির (উপস্থিত), আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আব্দুর রাজ্জাক (উপস্থিত), হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া (উপস্থিত), আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার (উপস্থিত), মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ (উপস্থিত), মুহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন (পলাতক), আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন (পলাতক), লিটন ওরফে মাওলানা লিটন (পলাতক), মো. খলিল (পলাতক), জাহাঙ্গীর আলম বদর (পলাতক), মো. ইকবাল (পলাতক), কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (পলাতক), মুফতি শফিকুর রহমান (পলাতক), মুফতি আব্দুল হাই (পলাতক) ও রাতুল আহমেদ বাবু ওরফে রাতুল বাবু (পলাতক)।

এই মামলার রায়ে বলা হয়, গ্রেনেড নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এবং এই অপরাধে সহায়তা করে হত্যার অভিযোগে ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনের (সংশোধনী-২০০২) ৩ ও ৬ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় এদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হলো। জরিমানা না দিলে আরও একবছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এছাড়া মামলার জীবিত বাকি ১১ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাবেক আইজিপি (অব.) খোদা বক্স চৌধুরী, এসপি (অব.) রুহুল আমিন, এএসপি (অব.) আব্দুর রশিদ, এএসপি (অব.) মুন্সী আতিকুর রহমানকে দণ্ডবিধির ৩৩০ ধারায় তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে প্রত্যেকে।

অন্যদিকে, সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক, লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার, মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন, পুলিশ সুপার ও সাবেক ডিসি (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান খান এবং সাবেক ডিসি (দক্ষিণ খান) সাঈদ হাসানকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাদের।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের হাজত বাসের সময় ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৫-এ ধারা অনুযায়ী প্রদত্ত দণ্ডাদেশ থেকে বাদ যাবে বলেও আদেশ দেন আদালত। একইসঙ্গে পালিয়ে থাকা দণ্ড পাওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিরও আদেশ দেওয়া হয়।

রায়ে উল্লেখ করা হয়, যে আসামিরা পালিয়ে আছেন, তারা যেদিন আত্মসমর্পণ করবেন বা যেদিন তাদের গ্রেফতার করা হবে, সেদিন থেকেই তাদের দণ্ডাদেশ কার্যকর হবে। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা চাইলে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন-২০০২-এর ১৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট ডিভিশনে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। এছাড়া মামলায় জব্দ করা আলামত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংরক্ষণ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজলসহ রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো কোর্ট রুম সাংবাদিক ও আইন‍শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে ছিল কানায় কানায় পূর্ণ।

এর আগে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা দুই মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়। যুক্তিতর্ক শেষে রাষ্ট্রপক্ষ সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি এবং আসামিপক্ষ সব আসামির বেকসুর খালাস দাবি করে। সেদিনই এই মামলার রায় ঘোষণার জন্য তারিখ ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল। মামলাটি প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষে ৫১১ জনের মধ্যে ২২৫ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করা হয়।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার মোট আসামি ছিলেন ৫২ জন। এই মামলার বিচার চলাকালে আসামি জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদের মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় এবং হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান ও শরিফ শাহেদুল ইসলাম বিপুলের ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলার মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাদের এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বর্তমানে মামলা দু’টিতে আসামির সংখ্যা ৪৯ জন।

এই মামলায় মোট ৩১ জন আসামি কারাগারে থাকলেও বাকি ১৮ জন পলাতক। আর আসামিদের মধ্যে আট জন জামিনে থাকলেও রায়ের দিন নির্ধারণ করার আগে তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে আটক রাখার আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। রায় ঘোষণার সময় পলাতক ১৮ জন ছাড়া বাকি ৩১ আসামির সবাইকে আদালতে হাজির করা হয়।

এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ২৫ কার্যদিবস পদ্ধতিগত বিষয়ের ওপর যুক্তি উপস্থাপন করেন, যা চলতি বছর ১ জানুয়ারি শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপনে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৩৮ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং ১১ সরকারি কর্মকর্তার সাত বছর কারাদণ্ড দাবি করেন।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানা গেছে, এ পর্যন্ত মোট ১১৯ কার্যদিবস যুক্তি উপস্থান হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ নিয়েছে ২৯ কার্যদিবস আর আসামিপক্ষ নিয়েছে ৯০ কার্যদিবস।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের জনসভায় সন্ত্রাসীরা ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালায়। হামলায় আওয়ামী লীগের ওই সময়ের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন প্রাণ হারান। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ভয়াবহ ওই হামলায় প্রাণে বেঁচে গেলেও শ্রবণশক্তি হারান। আহত হন আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মী।

এ ঘটনায় মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল ও সাবের হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় পৃথক তিনটি এজাহার দায়ের করেন। মামলাটিতে ২০০৮ সালের ১১ জুন ২২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রথম চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি। ওই বছরের ২৯ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। ২০০৯ সালের ৯ জুন পর্যন্ত ৬১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

২০০৯ সালের ৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। ২০১১ সালের ৩ জুলাই অধিকতর তদন্ত শেষে তারেক রহমানসহ আরও ৩০ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি। ফলে মোট আসামি দাঁড়ায় ৫২ জনে।

২০১২ সালের ১৮ মার্চ সম্পূরক চার্জশিটের ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের করার পর ফের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। সব মিলিয়ে মামলার রাষ্ট্রপক্ষের মোট ৫১১ জনের মধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন ২২৫ জন জন। গত ৩০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দকে আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে এ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

গত ১২ জুন থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত কারাগারে ও জামিনে থাকা ৩১ অসামির পরীক্ষা শেষে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থন করেন তারা। গত ১২ জুলাই থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত ওই ৩১ আসামির আসামির পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন ৩১ জন সাক্ষী।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৯ জনের নাম:

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুর রহিম, আবদুস সালাম পিন্টু, মাওলানা মো. তাজউদ্দীন, মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, মো. আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে মো. ইউসুফ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ, মাওলানা শওকত ওসমান, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান, মাওলানা আবু সাঈদ, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহমেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ, রফিকুল ইসলাম, উজ্জ্বল ওরফে রতন ও হানিফ।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ১৯ জনের নাম:

তারেক রহমান ওরফে তারেক জিয়া (পলাতক), হারিছ চৌধুরী (পলাতক), শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা আবদুর রউফ ওরফের আবু ওমর আবু হোমাইরা ওরফে পীরসাহেব, মাওলানা সাব্বির আহমদ ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির, আরিফ হাসান ওরফে সুজন ওরফে আবদুর রাজ্জাক, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, আবুবকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ, মহিবুল মোত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন (পলাতক), আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন (পলাতক), মো. খলিল (পলাতক), জাহাঙ্গীর আলম বদর (পলাতক), মো. ইকবাল (পলাতক), লিটন ওরফে মাওলানা লিটন (পলাতক), কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (পলাতক), মুফতি শফিকুর রহমান (পলাতক), মুফতি আবদুল হাই (পলাতক) এবং রাতুল আহম্মেদ বাবু (পলাতক)।

রায় ঘোষণার সময় আদালতের প্রশ্ন: 

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পূর্বে পরিকল্পনা, প্রস্তুতি, গ্রেনেড সংগ্রহ, হাওয়া ভবনের ষড়যন্ত্রসহ ১৪টি বিষয় বিবেচনার জন্য প্রশ্ন রেখে রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। প্রশ্নগুলো হলো-

বুধবার (১০ অক্টোবর) পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনের ভবনে স্থাপিত ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালত এসব বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন।

রায় ঘোষণার পূর্বে বিচারক প্রারম্ভিক বক্তব্য উপস্থাপনের পর ১৪টি বিষয়ে বিবেচনার কথা বলেন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-

১) অভিন্ন অভিপ্রায়ে অপরাধ ও ষড়যন্ত্রমূলক সভা করে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আসামি আহসান উল্লাহ কাজলের ভাড়া করা ফ্ল্যাট বাড়ি নম্বর-ম-৩০ পশ্চিম মেরুল বাড্ডার মৃত জয়নাল আবেদিনের তৃতীয় তলার বাড়ির গ্যারেজ সংলগ্ন পূর্ব পাশের তিন কক্ষ বিশিষ্ট ফ্ল্যাট থেকে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঘটনাস্থল ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে হামলার জন্য আসামিরা একত্রিত হয়ে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নেয় কি না ও গ্রেনেড নিক্ষেপকারীরা এই ঘটনাস্থল থেকে গ্রেনেড সংগ্রহ করেছে কি না।

২) অবসরপ্রাপ্ত খাদ্য পরিদর্শক রুহুল আমিনের বাড়ি হোল্ডিং নম্বর ২ এর ৫ আনন্দ নগর, বাড্ডা। আসামি মুফতি আব্দুল হান্নান মুন্সী ওই বাড়ি ভাড়া নিয়ে অভিন্ন অভিপ্রায়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করে জঙ্গি কাজে নিযুক্ত ছিল কি না। ওই বাড়ি থেকে মুফতি আব্দুল হান্নান মুন্সী ২০০৫ সালে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয় কি না।

৩) মেরুল বাড্ডার রাজউক প্লট নং ৫৩, লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম রাব্বানীর (অব.) চারতলা বাড়ির তৃতীয় তলার উত্তর অংশের ফ্ল্যাট আসামিরা ভাড়া নিয়ে গ্রেনেড সংরক্ষণ করতো কি না এবং বিভিন্ন গ্রেনেড হামলায় ওই বাড়ি থেকে গ্রেনেড সরবরাহ করা হয়েছে কি না।

৪) রোড নম্বর ৫ এর এ, বাড়ি নম্বর ৬১, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, বাড়িটি বিএনপি জামায়াত চারদলীয় জোট সরকারের উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর দ্বিতল সরকারি বাসভবন। ওই বাসভবনে ২০০৪ সালের ১৮ আগস্ট আব্দুস সালাম পিন্টু, লুৎফুজ্জামান বাবর, মুফতি আব্দুল হান্নান মুন্সী, আহসান উল্লাহ কাজল, মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা তাজউদ্দিনরা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতারা গ্রেনেড নিক্ষেপ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে কিনা। ২০০৪ সালের ১৮ আগস্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করে গ্রেনেড প্রাপ্তি, অর্থবল, প্রশাসনিক সহায়তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াসহ ২০ আগস্ট আসামি আহসান উল্লাহ কাজল ও মুফতি মঈন ওরফে আবু জান্দাল তৎকালীন উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর ধানমন্ডির বাসা থেকে আসামি মাওলানা তাজউদ্দিনের সরবরাহকৃত ১৫টি আর্জেস গ্রেনেড এবং নগদ ২০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন কি না।

৫) প্লট নং-৩, সেকশন-১, ব্লক-সি, মিরপুরে মসজিদ-ই আকবর কমপ্লেক্সে আসামি মাওলানা আবু তাহের শিক্ষকতা করতেন কি না। কমপ্লেক্সের মসজিদের ইমাম সাহেবের অনুপস্থিতিতে মাঝে মাঝে জুমার নামাজের সময় মুসল্লিদের উদ্দেশে জেহাদি বক্তব্য রাখতেন কি না। ২০০৪ সালের ১৯ আগস্ট আসামি আহসান উল্লাহ কাজল, মাওলানা আবু তাহের, আব্দুস সালাম পিন্টু, মুফতি মঈন পরিকল্পনা ও অপরাধ সংঘটনের জন্য প্রয়োজনীয় শলা-পরামর্শ ও ষড়যন্ত্র করেন কি না।

৬) ৩ এর ১১ আলী অ্যান্ড নূর রিয়াল এস্টেট, সাত মসজিদ রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। এ বাড়ির নিচতলায় হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা হতো কি না। ওই বাড়িতে গ্রেনেড সংরক্ষণ করা হতো কি না এবং এই মামলার অনেক আসামি ওই বাড়িতে যাতায়াত করতো কি না। আসামিরা দেশের বাইরে ও দেশের ভেতর হামলা পরিচালনার জন্য মাওলানা তাজউদ্দিনের কাছ থেকে গ্রেনেড সংগ্রহ করতেন কি না। মাওলানা তাজউদ্দিন বিয়ের পর একই বাড়ির তৃতীয় তলা বসবাস করতেন কিনা এবং সেখানে গ্রেনেড সংগ্রহ করতেন কি না। ওই বাড়িতে আসামি আব্দুস সালাম পিন্টু ও মাওলানা আবু তাহেরের যাতায়াত ছিল কি না।

৭) গুলশান থানার রোড নং ১৩, ব্লক নং ডি, বাড়ি নম্বর ৫৩, বনানী মডেল টাউনের জনৈক আশেক আহমেদ, বাবা-আবদুল খালেক। তার বাসাটি হাওয়া ভবন নামে পরিচিত। ওই হাওয়া ভবন বিএনপি জামায়াত ঐক্য জোট সরকারের কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু ছিল কি না। ওই ঘটনাস্থলে পলাতক আসামি তারেক রহমান অপরাধ সংঘটনের জন্য ষড়যন্ত্রমূলক সভা করে কি না ও জঙ্গি নেতারা তারেক রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন সময় মিটিং করে কি না।

৮) মোহাম্মদপুর থানার আলী অ্যান্ড নূর রিয়েল এস্টেট এলাকার সাতগম্বুজ মসজিদে ঘটনার আগে আসামি মুফতি আব্দুল হান্নান মুন্সী, মাওলানা আব্দুস সালাম, মাওলানা তাজউদ্দিন, মাওলানা আব্দুর রউপ, আব্দুল মাজেদ ভাট অভিন্ন অভিপ্রায়ে ও ষড়যন্ত্রমূলক সভা করে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যার পরিকল্পনা করে কি না।

৯) মোহাম্মদপুর সুপার মার্কেটের কাছে হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামীর অফিসে ও খিলগাঁও থানা এলাকায় হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামি বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ে বিভিন্ন সময় আসামিরা অভিন্ন অভিপ্রায়ে অপরাধমূলক সভা ষড়যন্ত্র করেছে কি না।

১০) অভিন্ন অভিপ্রায়ে ও পূর্ব পরিকল্পনার আলোকে পরস্পর যোগসাজশে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেনেড আক্রমণ চালানোর সুবিধার জন্য ও অপরাধীদের রক্ষার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না।

১১) অভিন্ন অভিপ্রায়ে ও পূর্ব পরিকল্পনার আলোকে প্রশাসনিক সহায়তা দিয়ে মামলার ঘটনায় ব্যবহৃত অবিস্ফোরিত সংরক্ষণযোগ্য তাজা গ্রেনেড আলামত হিসেবে জব্দ করার পরও তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করে এবং আদালতের অনুমতি না নিয়ে অপরাধীদের বাঁচানোর উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনী কর্তৃক ধ্বংস করার ও আলামত নষ্ট করায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা।

১২) অভিন্ন অভিপ্রায়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত সভা ও পূর্ব পরিকল্পনার আলোকে পরস্পর যোগসাজশে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মূল আসামিদের সহায়তা করার লক্ষ্যে আসামিদের নির্ভিঘ্নে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে ও পরবর্তী সময়ে আসামিদের অপরাধের দায় থেকে বাঁচানোর সুযোগ করে দেওয়ার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কীনা।

১৩) উল্লিখিত ঘটনাস্থলগুলোয় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও পূর্বপরিকল্পনা করে পরবর্তী সময়ে মূল ঘটনাস্থল আওয়ামী লীগ কার্যালয় ২৩ নম্বর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের সামনের ঘটনার তারিখ ও সময় আর্জেস গ্রেনেড হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাকর্মীসহ ২৪ জনকে হত্যা এবং তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুরুতর আহত করার অপরাধে আসামিরা দণ্ডবিধির ১২০/বি, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭, ৩০২, ১০৯, ২০১, ২১২, ২১৭, ২১৮, ২৩০ ও ৩৪ ধারায় শাস্তি দেওয়া যায় কি না।

১৪) প্রকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বরং তাদের রক্ষা করার জন্য প্রলোভন ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে অন্য লোকের ওপর দায় বা দোষ চাপিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার লক্ষ্যে মিথ্যা ও বানোয়াট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না।

এসব বিষয়ে বিবেচনায় নিয়ে আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের ফাঁসি, তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন এবং বাকী ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন আদালত।

পর্যবেক্ষক এর ব্লগ   ১৫৪ বার পঠিত