ড. আজরাইল

এক ব্যক্তি মরার পর জাহান্নামে গিয়ে দেখলো যেকোনো দেশের জাহান্নামে যাওয়ার ছাড় আছে।
আমেরিকার জাহান্নামে গিয়ে জাহান্নামের পাহারাদারকে জিজ্ঞেস করল-এখানে শাস্তি টাস্তি কেমন দেওয়া হয়?
পাহারাদার বলল- সবার প্রথমে ওকে ইলেক্ট্রিক চেয়ারে বসিয়ে ১ ঘন্টা ইলেক্ট্রিক শক দেওয়া হয়। তারপর পেরেকের বিছানায় এক ঘন্টা শোয়ানো হয়। এর পর এক দৈত্য পিঠে ৫০ টা চাবুকের ঘা দেয়…এটা শুনে ঐ ব্যক্তিটি খুব ভয় পেয়ে গেলো ও ভাবল একবার রাশিয়ার জাহান্নামে গিয়ে দেখা যাক।
ওখানেও পাহারাদার একই কথা বলল।ঐ ব্যক্তি সব দেশের জাহান্নামে গেলো, আর প্রত্যেক দেশের জাহান্নামের পাহারাদারই একই শাস্তির কথা বলল।
শেষে ঐ ব্যাক্তি এক জায়গায় পৌছালো, ওখানে দরজায় লেখা ছিলো- বাংলাদেশের জাহান্নামে আপনাকে স্বাগতম।
আর দরজার বাইরে মানুষের লম্বা লাইন…..।
ঐ ব্যক্তি ভাবল এখানে নিশ্চয়ই কম শাস্তি দেওয়া হয়, তাই এত লম্বা লাইন।
বাংলাদেশের জাহান্নামের পাহারাদারকে জিজ্ঞেস করল- এখানে কেমন করে শাস্তি দেওয়া হয় ..বাংলাদেশের জাহান্নামের পাহারাদার বলল- সবার প্রথমে ওকে ইলেক্ট্রিক চেয়ারে বসিয়ে ১ ঘন্টা ইলেক্ট্রিক শক দেওয়া হয়। তারপর পেরেকের বিছানায় এক ঘন্টা শোয়ানো হয়। এর পর এক দৈত্য এসে ঐ ব্যক্তির পিঠে ৫০ টা চাবুকের ঘা দেয়।
ঐ ব্যক্তি বিস্মিত হয়ে পাহারাদারকে জিজ্ঞেস করল- এই একই রকম শাস্তি তো সব দেশের জাহান্নামেই দেওয়া হয়, তো এই জাহান্নামে এত ভিড় কেনো?
পাহারাদার বললঃ এখানে ইলেকট্রিক চেয়ার তো আছে কিন্তু কারেন্ট নেই। পেরেকের বিছানা থেকে পেরেক চুরি হয়ে গেছে। ফাইল এত জমে গেছে যে, আজকে নাম লেখালে কবে যে ডাক আসবে তার কোনো ঠিক ঠিকানা নেই, ততদিন আরাম। আর যে দৈত্যটি চাবুক মারে সে একজন সরকারি কর্মচারী। আসে, খাতায় সই করে বাড়ি চলে যায়। আর এক আধ দিন যদিও বা বেশিক্ষন ডিউটি দেয় তো ঐ দিন দু-একটা চাবুক মারে, আর রেজিস্টারে ৫০ টা চাবুকের ঘা লিখে বেরিয়ে যায়।

ড. আজরাইল এর ব্লগ   ৩১৬ বার পঠিত