জোবায়েন সন্ধি

আমাদের আশেপাশে চিরপরিচিত অনেক মানুষ আছেন যারা মাঝে-মধ্যেই ধর্ম নিয়ে একটু বেশি বাড়াবাড়ি করে থাকেন। বিশেষ করে রমজান মাস তাদের জন্য ফসল বোনার উপযুক্ত মৌসুম। তারা সুযোগ পেলেই যে কোনও বিষয়ে সকলকে একটু-আধটু ধর্মীয় জ্ঞান দিতে চান, সুযোগ পেলেই কোরআন হাদিসের বাণী শোনান। যে কোনও সমস্যার প্রকৃত ইসলামি সমাধানটি অন্যদের আগ বাড়িয়ে জানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এঁরা সর্বত্র মানুষকে ভালো মুসলিম হওয়ার পরামর্শ দেন।

পরিবারে যদি কেউ ধর্মের প্রতি গুরুত্ব না দেয়, তাদের দেখতে পারে না। তাদেরকে যথাসম্ভব অন্যদের চোখে খারাপ করে দিতে চায়। কথায় কথায় কোরআন হাদিস আওড়ায়। উদ্দেশ্য, অন্যের মনে সর্বক্ষণের জন্য আল্লাহর ভয় স্থাপন করে দেওয়া। সাধারণ মানুষকে সর্বত্র আল্লাহ’র ভীত সন্ত্রস্ত করে রাখা। নিজের স্ত্রী সন্তানই হয় এদেঁর প্রথম শিকার। কেননা, তাঁরাই এদের সবচেয়ে কাছে থাকে। সর্বদা শোনাতে থাকেন নামাজ আদায় না করলে এই হবে, রোজ কোরআন না পাঠ করলে ওই হবে; ব্লা-ব্লা-ব্লা। একই কথা বার বার শুনতে শুনতে অন্যরা তা বিশ্বাসও করতে শুরু করে।

আর তাদের স্ত্রী সেসব বিশ্বাস না করলে তাকে অবাধ্যতা ভেবে নিয়ে কোরআনে বৈধ স্ত্রী প্রহারের আয়াত শুনিয়ে থাকেন, তালাকেরও ভয় দেখান। সন্তান রোজ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় না করলে কতো বছর বয়সে কী কী শাস্তির বিধান আছে, সেই অনুযায়ী প্রথমে হুমকি দেন। তারপর সন্তানকেও পেটান। এসব রেওয়াজ প্রতিটা ইসলামি সমাজে চলে আসছে দিনের পর দিন।

এইসব মানুষরা মুরুব্বীদের অধার্মিকতা দেখলে তাদের ভৎসনা করতেও ছাড়েন না। এঁরা স্কুল কলেজ অফিস আদালতে কর্মরত থাকলেও সর্বত্রই নিজেদের সত্যিকার ধার্মিক হিসাবে দেখাতে চান। অন্য ধর্মের লোকদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন না। কিন্তু কেউ অন্য ধর্ম সম্প্রদায়ভুক্তদের খারাপ প্রতিপন্ন করতে চাইলে তাদের বিরোধিতা তো করেনই না। উল্টো তাদের কথায় ছোট ছোট বুদ্ধিদীপ্ত সমর্থন নীতিবাক্য আওড়িয়ে তাদের উস্কানি দেন। তাদের প্রশংসা করেন বলেন, কোরআনে তো এমনই বলা আছে।

পাড়ার চায়ের দোকানে থেকে শুরু করে ধর্মীয় জলসায় ওসামা বিন লাদেন, মোল্লা ওমর, আইএস প্রসঙ্গ উঠলে তারা প্রসঙ্গ পাল্টাতে বিজ্ঞের মতো সন্ত্রাসবাদের উৎস সন্ধানে লেগে পড়েন। তারা সবকিছুর জন্য ইসরায়েল ও আমেরিকাকে দায়ী করেন, ইসলামের অস্তিত্বের সঙ্কটের জন্য ইউরোপকে দায়ী করেন। কিন্তু কখনোই সৌদি আরব কিংবা মুসলিম সন্ত্রাসীদের দায়ী করেন না। জিহাদ বিষয়ে এদের সরাসরি প্রশ্ন করা হলে অস্বস্তিভরে তা এড়িয়ে যান। কিন্তু ইসলামি সন্ত্রাসবাদী জিহাদিদের কোনো সাফল্যের সংবাদ জানার পরে মুসলিম হিসাবে তখন গর্বে বুক ভরে ওঠে তাদের। এইসব গর্বধারী মানুষদের মডারেট মুসলিম বা প্র্যাকটিসিং মুসলিম বলা হয়।