অনি

রংপুরের ঘটনা নিয়ে যতই খবর নিউজ ফিডে আসে আর আমার গা জ্বালা করে ওঠে। অস্থির লাগে। সেই ‘নাসিরনগর‘ থেকে এমন চলে আসছে। আবারো হিন্দুদের বাড়িতে আগুন দিয়েছে ‘দুর্বৃত্তরা‘। আমি ভাবছি এই ‘দুর্বৃত্তরা‘ কারা? তাদের পরিচয় কী? আমি পাড়া, প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন, কার ছেলে, কার বাপ এইসব পরিচয়ে যাবো না। তারা যে বৃহৎ পরিচয়ের প্রতিনিধিত্ব করছে আমার সেই পরিচয়টা দরকার।

ভেবে দেখলাম তাদের পলিটিকাল পরিচয় হচ্ছে তারা ‘বাংলাদেশি‘ এবং তাদের ধর্মীয় পরিচয় তারা ‘মুসলমান‘। এখন ভাবতে হবে তাদের এই দুই পরিচয়ের মধ্যে তারা কোনটাকে বেশি প্রাধান্য দেয়।

যেহেতু ঘটনাটা ঘটছে গ্রামে সেহেতু, ধরে নিতে পারি ‘দুর্বৃত্তরা‘ উচ্চ শিক্ষিত রাষ্ট্রদ্রোহি নয়। অর্থাৎ, তারা এই রাষ্ট্রের গঠনতান্ত্রিক প্রচলিত সকল আইন কানুন জেনে সেটার বিরোধিতাস্বরূপ কোনও দেশবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে হিন্দু বাড়িতে আগুন দেয়নি। তারা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নয়। তাহলে না হয় বুঝতাম যে এই দেশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞায় একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হওয়ায় ছাত্ররা রাষ্ট্রের কোনও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ করেছে। তারা মাওবাদীও নয়, কম্যুনিস্ট নয়। যদি হতো তাহলে আমরা পত্র-পত্রিকায় তাদের মহান আন্দোলনের রূপরেখা জানতে পারতাম। ফেসবুকে হ্যাসট্যাগ পড়তো। সরকার এটাকে বিদেশের ষড়যন্ত্র বলে সর্বাত্মক প্রতিরোধের হুমকি-ধামকি দিতো। একটা উত্তপ্ত পরিস্থিতির আঁচ পাওয়া যেতো আগেই। তারা সর্বহারা পার্টিরও কেউ নয়। কারণ সর্বহারা পার্টি বহু আগে নিজেরাই সর্বহারা হয়ে গেছে।

এখন বাকী থাকে যারা তারা হচ্ছে সরকারী দল- আওয়ামীলীগ।

এখন দেখি হিন্দু বাড়িতে আগুন দেয়ার কোনও কারণ এই দলটির আছে কীনা? হিন্দু বাড়িতে আগুন দেয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা যার হবে যার সেটা সরকারেরই। মানে আওয়ামীলীগের। বিরোধীদল সমালোচনা করবে। সুশীল সমালোচনা করবে। ফেসবুক সেলিব্রেটিরা করবে। ইন্ডিয়া করবে। পুরো বিশ্ব করবে। প্রধানমন্ত্রী চাপে থাকবেন। মন্ত্রী চাপে থাকবেন। স্থানীয় এমপি মহোদয় চাপে থাকবেন। জেলা প্রশাসক চাপে থাকবেন। পুলিশ সুপার, থানার ওসি সব দৌড়ের উপর থাকবেন। কারণ এদের কারো মাথায় নাই চার পাঁচটা হিন্দু বাড়িতে আগুন দিয়া, নিজেরা নিজেদের জনগণের সামনে গাইল খাওয়ানের মতো পরিস্থিতিতে ফেলার।

পত্রিকার সম্পাদকরা উঠে পড়ে লাগবে কার দায়িত্বের অবহেলার কারণে এই ঘটনা ঘটলো। টিভি রিপোর্টাররা কার দায়িত্ব থেকে এখুনি অব্যাহতি নেয়া প্রয়োজন বাংলাদেশের জনগণের সামনে সেটা সারাক্ষণ বোঝাতে থাকবেন। বাসি পুরানো কথার টক গন্ধ শো হবে টিভিতে। বাংলার জনগণ হাটে, বাজারে, পথে-ঘাটে, ঘরে, অফিসে, আদালতে সরকারের সমালোচনা করতে থাকবে।

আমি বিএনপি, এবং জামাতের কথা বাদ দিলাম। কারণ এই উভয় দলই সৌদিআরবের, পাকিস্তানের জলে ধোয়া তুলশী পাতা। নিজেরা তুলশী পাতা হয়ে হিন্দু বাড়িতে আগুন দেয়ার মতো এত বড় অধর্ম তারা করতে পারবে না।

এখন বাকী থাকলো যারা তারা হচ্ছে- সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমান। যাদের পলিটিকাল ভিউ অথবা মুভমেন্টের চেয়ে ধর্মীয় মব বেশি কাজ করে। ভোটের কারচুপিতে এই সরকার ক্ষমতায় আসলো কীনা, এতে এই দেশের জনগণ বিপ্লব করতে একত্রে চা খেতেও যায় না। কারণ, যদি নিজের পকেট থেকে বিল দিতে হয়? কিন্তু নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসি চেয়ে তারা মতিঝিলে লক্ষ লোকের সমাবেশ করতে পারে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কথা শুনলে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ যত বেশি উত্তেজিত হয় তার অর্ধেকও দুর্নীতি নিয়ে হয় না। পলিট্যক্যাল মুভমেন্ট এই জনগণের দ্বারা যদি সম্ভব হতো তাহলে তারেক জিয়া কবেই দেশে এসে সরকারকে গদিসহ উল্টিয়ে ফেলে খাম্বার সাথে সাত পাঁকে বেঁধে ফেলতো। আফসোস এটা তিনি করতে পারছে না। তবে সে চেষ্টায় আছে এখনো। বাকীটা আল্লাহ ভরসা।

ইদানীংকালের ইস্যুতে ফেসবুকে একটি ছবিতে শিবকে কাবা ঘরের উপর বসে থাকতে দেখা গেছে। এতে করে বাংলাদেশের অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরই ঈমান আকিদার অঙ্গহানি হবার মতো ক্রোধ হয়েছে। এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে বাংলার তৌহিদি জনতা ঈমানি জোশে মালাউনদের ঘরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। মন্দিরের মূর্তি ভেঙ্গেছে। আহত করেছে নারী, শিশু, বৃদ্ধা, বৃদ্ধা।

এই ধর্মপ্রাণ সাধারণ বাংলার জনগণ ধর্ম শিক্ষাটা সাধারণত কোথা থেকে শিক্ষা করে? হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন- পরিবার থেকে আর মসজিদের হুজুরের খুদবা বা বয়ান থেকে। গ্রামের ওরসের ওয়াড় থেকে। হুজুররা জুমাবার যখন খুতবা পড়ে তারা কী বলে? হিন্দুদের মালাউন বলে। গ্রামের ওয়াজে বড় বড় হুজুররা মূর্তি পূজাকে, হিন্দুদের দেব-দেবীকে ইচ্ছেমতো গালিগালাজ করে। মূর্তি ভাঙলে ছওয়ার এধরনের গা গরম করা বয়ান দেয়। আর হিন্দুদেরকে হিন্দু কম মালাউন বেশি বলে। জনগণ তাই শেখে। লা-কুম দিনুকুম ওলিয়া দ্বীন তারা ভুলে যায়।

তারা কেন ভুলে যায়? কারণ বাঙালি আজীবন শুইন্না মুসলমান। তারা পড়তে চায় না। যিযিয়া কর না পেলেও যে বিধর্মীর জান, মালের হেফাজত করা একজন মুসলমানের মানবিক কর্তব্য এটা তারা ভুলে যায়। কারণ মনে রাখলেই হবে না। পালন করতে হবে। পালন করাটাতো একটা দায়িত্ব। দায়িত্ব নেবার ঠেকা কী? মূর্তি ভাঙলে ছওয়াব, মালাউন মারলে ছওয়াব, নাস্তিক মারলে ছওয়াব। অতএব, ফেসবুকে একটি ছবির অপরাধে এইসব ছওয়াব কামানোর সুযোগ কোনভাবেই ছাড়া যায় না। তাই আগুনতো দেয়াই যায়।

যারা ভাই হিন্দুদের ঘরে আগুন দিয়েছেন কী উদ্দেশ্যে দিয়েছেন? যাতে এই দেশে হিন্দু না থাকে? একটা ঘটনা বলি শোনেন। এই দেশটাতো মূলত হিন্দুদের দেশ। মুসলমানরাই বহিরাগত। এই অঞ্চলে হিন্দুরা আর বৌদ্ধরা আছে হাজার হাজার বছর ধরে। মুসলমানরা এসেছে ১২০৪ সালে, মাত্র ৮০০ বছর। যাদের দেশে আসলেন তাদেরকেই খেদাইতেছেন ভাই? আপনাদের লজ্জা করেনা? ব্রিটিশরাও বহিরাগত ছিল। কয়েকশ বছর এই অঞ্চলে থেকেছে খেয়েছে, বিয়ে করেছে, শাসন করেছে। তবুও এই অঞ্চলের মানুষ তাদেরকে আপন ভাবতে পারে নি। তাড়াইয়া দিছে। কী দিছে না? আপনারাওতো খিলাফত আন্দোলন হিন্দুদের সাথে মিল্লাই করছেন? মনে নাই? এই দেশের মানুষ মুসলমানদের আপন করে নিছে। আপনারা থেকে গেছেন। ধর্ম প্রচার করছেন। তারা খেদাইতে পারতো খেদায় নাই। কৃতজ্ঞতা নাই তার? এই প্রতিদান দিতাছেন ভাই? মুসলমান শাসন আমল থেকে বৌদ্ধ সব খেদাইসেন। সমতল দেশের থেকে তাদের পাহাড়ে উঠাইসেন। ত্রি সীমানায় থাকতে দেন নাই। কেন ভাই? এই দেশের বৌদ্ধরা কী দোষ করছিলো?

আপনারা ১৯৪৭ সালে ধর্মের নামে ভারত ভাইঙ্গা পাকিস্তানের লগে গেছিলেন। কই ভাই থাকতে পারলেন না? পাকিস্তান কোলে বসাইয়া আদর করেনাই? আদর সহ্য হয়নাই? ভাইজান একবার ভাবেন ভারতে কত কোটি মুসলমান বাস করে? ভারত যদি আপনেগো সাধে- হেগো লইয়া যাইতে, নিবেন নি? পাকিস্তান নিবো? জানি ভাই, নিবেন না। আর একটু শোনেন। ভারতে ১২৫ কোটি মানুষের বেশি জনগণ। মার্চ কইরা বাংলাদেশের এই পাড় থেকে ওই পাড়ে হাইট্টা গেলে পায়ের তলায় পাড়া খাইয়াই মইরা যাইবেন। যুদ্ধও করা লাগবো না।
হিন্দু মারেন ভালো কথা এরপর কাগো মারবেন? আপনারা ভাই সুন্নি হানাফি ছাড়া কাউরে মুসলমান মানেন না। মারতে চান সবাইরেই। আপনারা শিয়া মারবেন, মালিকী মারবেন, শাফেয়ী মারবেন, হাম্বলী মারবেন, কাদিয়ানী মারবেন, পীর মারবেন, ফকির মারবেন ভাইজান শেষ হবে কীসে ? তারাও যদি আপনেগো মাইর শুরু করে? এক্সট্রা ইহুদি, খ্রিস্টান, হিন্দু , বৌদ্ধ, নাস্তিক সবাই একসাথে যদি মাইর শুরু করে। আগুন লাগায় দেয় তাদের অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার জন্যে তখন কী ভালো হবে? যা শুরু করলেন শেষ দেখতে পারবেন?

বিশ্বের বিভিন্ন অমুসলিম দেশে যে আপনারা যান। থাকেন কাম করেন। ডলার কামান। নিরাপত্তা নেন। একটু ঊনিশ থেকে বিশ হলেই সমালোচনা করেন। নিজের দেশের হিন্দু ভাইদের ক্ষেত্রে এইটা কেমনে ভুইলা যান? এইদেশের মুক্তিযুদ্ধে কত হিন্দু মরছে আপনেরা জানেন না? ১৯৪৭ এই দেশে কত হিন্দু মরছে আপনাগো মনে নাই? যদি নিজের দেশের হিন্দু ভাইগো লগে এমুন করেন- তাইলে বিধর্মীগো দেশে গিয়া নিরাপত্তা চান কোন আক্কেলে? লজ্জা লাগে না? যদি বিধর্মীদের সবই খারাপ হয় তাইলে- আমেরিকা যাওয়ার লাইজ্ঞা লাইন ধরেন, জার্মানি যাবার লাইজ্ঞা লাইন ধরেন, জাপান যান। কোরিয়া যান, ধর্ম থাকে? চিকিৎসাটাও করাইতে যান ইন্ডিয়া। শরম লাগে না? সৌদি পাকিস্তান যদি এত ভালোবাসেন সেইখানে গিয়া মরেন না কেন? তারা নেয় না বুঝি? বোঝেনতো না এইটাই আপনের দেশ। যেমন এইটা হিন্দুদেরও দেশ।

ভাইজানরা আগুন লাগায়েন না। আগুন নেভাইতে শিখেন। ইসলাম যদি শান্তির ধর্মই হয় তাইলে একটু শান্তির মোজেজা দেখান। কারো ব্যক্তিগত ভুলের জন্য দেশে প্রচলিত আইন আছে। সেটার প্রতি সম্মান দেখানো আপনার নাগরিক দায়িত্ব। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েন না। এই দেশে আপনাদের যেমন অবদান আছে তেমনি অন্য ধর্মের মানুষের আছে। মেজরিটি হবার কারণেই আপনার দায়িত্ব তাদেরকে এই মাইনরিটির কোনও লজ্জা পেতে না দেয়া। উদার হোন ভাইজান। বিশ্বাস করেন ভাইজান- যে লোক একটি ভুল ছবি দিয়ে অন্যায় করেছে, এবং সেই কারণে আপনারা যাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিলেন, তাদের সাথে ওই লোকের কোনও সম্পর্কই নাই। আপনারা ভুল ও নিরীহ মানুষকে কষ্ট দিলেন।

আপনি মুসলমান, আপনার দেশে আপনাকে কেউ যদি মুসলমান না বলে- লানতপ্রাপ্ত, অভিশপ্ত, বিতাড়িত, কাফের, শয়তান বলে- আপনার কেমন লাগবে? ধরেন আপনি আমেরিকায়। সেখানে আপনাকে সবাই এইসব বলেই ডাকে। কেমন লাগবে? হিন্দুদেরকে আপনারা মালাউন বলে এই অপমানটাই এত বছর ধরে করে আসছেন কারণ, মালাউন শব্দের অর্থঃ লানতপ্রাপ্ত, অভিশপ্ত, বিতাড়িত, কাফের, শয়তান। (সূত্রঃ বাংলা একাডেমী, ব্যবহারিক বাংলা অভিধান) এই শব্দটায় হিন্দুদের অনুভূতিতে আঘাত লাগে না? তারা কি আপনাদের ঘর বাড়ি জ্বালাইছে?

যদি কেউ আপনার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়- তাহলে তাকে আপনার ধর্মের উদারতা, মাহত্ব শিক্ষা দিন। যাতে সে তার ভুল বুঝতে পারে। কাউকে আঘাত করা, হত্যা করা কী শিক্ষাদানের মাধ্যম হতে পারে? এলোপ্যাথির ডাক্তাররা তো তাইলে হোমিওপ্যাথির সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করতো। শোনেন, যা সত্য সেটা সত্যই। আপনি কইলেও সত্য না কইলেও সত্য। কেউ মানলো বা না মানলো তাতে সত্যের কিছুই যায় আসে না। যা মহৎ সেটা কেউ মানলেও মহৎ না মানলেও মহৎ।

এবার হিন্দু দাদা দিদিদের বলি। সীতা আগুনে ঝাপ দিয়ে তার সতীত্বের অগ্নি পরীক্ষা দিয়েছিল। আজ আপনাদের আগুনে পুড়ে নাগরিকত্বের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে- এমনটা ভাববেন না। পাশের বাড়িতে আগুন লাগলে তার আঁচ নিজের বাড়িতেও লাগে। যে কষ্ট আপনারা পাচ্ছেন ততটা আপনার পাশের মুসলমান বাড়ির মানুষটাও পাচ্ছে। চারপাশে তাকিয়ে দেখুন অনেক মানবিক মুসলমান ভাই-বোন এটার প্রতিবাদ করছে, আপনাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি সেই মুসলমানরাই। আমি বিশ্বাস করি সরকার এর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক যা ব্যবস্থা নেবার সেটা নেবে। আপনারা এই দেশের আইন ও সরকারের ওপর ভরসা রাখুন। এই দেশটা আপনাদেরও। কতিপয় ভুল মানুষের জন্য- দেশটাকে ভুল বুঝবেন না। যেই ভুল এক পক্ষ করেছে আপনারা সেই একই মনোভাব রাখবেন না। ক্ষমা করুন। করজোড়ে মিনতি করছি ক্ষমা করুন। রবি ঠাকুরের বিখ্যাত এই গানটি নিশ্চই জানেন, এখন সময় সেটাকে কতটা ধারণ করেছেন তার প্রমাণ দেবার।

আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে
এই জীবন পুণ্য করো
এ জীবন পুণ্য করো দহন-দানে…

অনি এর ব্লগ   ৬০ বার পঠিত