Author: সাধন বিশ্বাস

হিন্দু-মুসলিম বিবাহঃ নৈব নৈব চ

যে পাঠকরা আমার লেখা বা আমার দর্শনগত কাজের সঙ্গে পরিচিত, নির্ঘাত তাঁরা এই লেখার শিনোনাম দেখে চমকে উঠেছেন। হ্যাঁ, তেমনই প্রায় এক দশক আগে চমকে উঠেছিলেন কিছু দর্শক শ্রোতা। ‘ধর্মের বিদ্বেষ বিলুপ্তিতে হিন্দু-মুসলিম বিবাহ জরুরী’ শীর্ষক এক আলোচনা চক্রে বলতে গিয়ে প্রথমেই ওই শিরোনামের কথাটাই তুলে ধরেছিলাম। স্বাভাবিকভাবে শুরুতেই সেই আসরের তাল কেটে গিয়েছিল। শেষ … [ সম্পূর্ণ পোস্ট পড়ুন ]

অবসাদ, নাকী কল্পিত বিশ্বের খোয়াব?

জীবনে চলতে চলতে নানা সময় নানা অভাব, শোক, মনোবেদনা, সম্পর্কের জটিলতা, বন্ধু বিচ্ছেদ, সম্পত্তিগত ঝামেলা ইত্যাদি আসবে। অবশেষে আসতে পারে অবসাদ। এর জন্য সঠিক পরামর্শদাতা বা মনোবিদের সাহায্য নিন। সুফল পাবেন। তা না করে, আপনি যদি কোন ধর্ম, ঈশ্বর, প্রার্থনা, তান্ত্রিক, যোগগুরু, প্লানচেট, ভুডু, শব সাধনা বা আধ্যাত্মিক উপায়কে অবলম্বন করেন, তাহলেই সর্বনাশ। যে ‘সর্বনাশ’ ঘটেছে কলকাতার তথাকথিত শিক্ষিত একটি পরিবারে। ‘ধর্ম’ ও ‘আধ্যাত্মিকতা’ নামক এক জগাখিচুড়ী মার্কা অপবিজ্ঞান এবং তারই উপজাত তন্ত্রমন্ত্র কীভাবে মানুষকে তার মানবিক গুণগুলো থেকে বিমুখ করে তোলে তার জ্বলন্ত উদাহরণ কঙ্কালকাণ্ডের ‘দে পরিবার’। যেখানে যোগএর নামে শান্তি খোঁজার চেষ্টায় এমন বিয়োগান্তক পরিণতি!

ধর্মের সংখ্যাগুরুত্ব

এই ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের সরকারি প্রকল্পে এইজাতীয় পুজোর পরিকল্পনা কারা প্রথম উত্থাপন করেন ও কীভাবে তা অনুমোদন পায়? এরজন্য অর্থ বরাদ্দ হয় কোন খাতে? মেট্রো রেলের গঙ্গাপুজোর জন্য খাস বেনারস থেকে আনা হয়েছিল পুরোহিতদের। অবশ্যই তারা হিন্দু ধর্মের উচ্চবর্ণ ব্রাহ্মণ। এক্ষেত্রে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের মধ্যে বর্ণভেদ প্রথাকে স্বীকার করে তার অনুমোদন দিচ্ছেন না কী? খবরে জানা যায়, ৬জন পুরোহিতের বৈদিকমন্ত্র উচ্চারণে সাতসকালেই গঙ্গার পাড় হয়ে উঠেছিল আস্ত এক পূজাঙ্গনব্যাদে সবই আছে, বিজ্ঞানী মেঘনাথ সাহার এই ব্যঙ্গ রসিকতায় ভরসা রেখে খুব জানতে ইচ্ছা করে, সেখানে গঙ্গার তলা দিয়ে মেট্রোরেল সুড়ঙ্গ তৈরির জন্য কোন যজ্ঞের কথা লেখা আছে কীনা।

আসুন আমরা নিপাট আসুরিক হওয়ার চেষ্টা করি

এবার আসুন, আমরাই ঠিক করে নিই, মনের ‘আসুরিক’ প্রবৃত্তিটাকে দমন করবো, নাকি আরও নিখাদ আসুরিক পর্যায়ে উন্নীত হতে মনের ‘সুরিক’ প্রবৃত্তি গুলোকে চিরতরে নির্বাসন দেব।

‘বিশ্বাস’ কে আঘাত না করে সমাজ-সভ্যতার অগ্রগমন সম্ভবই নয়

২০১৩ সালের শুরুতেই বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের গণআন্দোলন সারা পৃথিবীর সবশ্রেণির মানুষকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ঢাকার শাহবাগ চত্বরের লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীর ‘গণজাগরণ মঞ্চ’ থেকে যে স্লোগানে উঠেছিল তাতেই নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল সে দেশের ভবিষ্যৎ। সেই সময়ই আন্দোলনের সলতে পাকানোর কারিগর ব্লগাররা চিহ্নিত হয়ে যান বাংলাদেশ সরকার ও রাষ্ট্রের ধর্মীয় মৌলবাদীদের কাছে। ‘ব্লগার’ শব্দের অর্থই দাঁড়িয়ে যায়– মুক্তমনা ও নাস্তিক। তখনই প্রকাশ্য রাস্তায় চাপাতির কোপে লাশ হয়ে যান শাহবাগ আন্দোলনের অন্যতম কারিগর ব্লগার রাজীব হায়দর। এরপর নানান বিতর্ক ও সময়ের অভিঘাতে একসময় স্তিমিত হয়ে যায় শাহবাগ আন্দোলন।