Author: শুভাশিস চিরকল্যাণ পাত্র

শুদ্ধ বাংলা বানান নিয়ে কিছু কথা

আজকাল রেফ-এর পরে দ্বিত্ব বর্জ্জনের চল হয়েছে। যেমন ধর্ম্ম বানান ‘ধর্ম’ লেখা হয়। যুক্তি বিচারে এই বানান ভুল। ধৃ ধাতুর সঙ্গে মন্ প্রত্যয় জুড়ে ধর্ম্ম শব্দ নিষ্পন্ন করার সময় (ধৃ +মন্ = ধর্ম্ম) ধৃ-কে শুধু ধর্ করে নিলেই হয় না, তাকে ধর্ ম্ -এ পরিণত করে নিতে হয়; তবেই তার সঙ্গে মন্ প্রত্যয়টি যুক্ত হতে পারে। এখানে একটি বাড়তি ম আসে (বর্ণাগম)। লক্ষ্ ধাতুর সঙ্গে ঈ যোগ করে লক্ষ্মী শব্দ নিষ্পন্ন করার সময় (লক্ষ্ + ঈ = লক্ষ্মী) যেমন একটি ম-এর আগম হয়, এও সেইরকম। এখানে আরও বলি যে ম বর্ণের এর অর্থ ‘সীমায়ন’ বা ‘মিতকরণ’ এবং পরিমিতি না থাকলে লক্ষ্মী না হয়ে কুবের হয়।

আন্তর্জাতিক নারীদিবসে কিছু কথা

নারী শব্দের ক্রিয়াভিত্তিক-বর্ণভিত্তিক অর্থ এখানে খুব সংক্ষেপে আলোচনা করা যেতে পারে। নার মানে ’নর হইতে জাত’ (যেমন দাশরথি মানে ’দশরথ হইতে জাত’)। নর মানে যেখানে ’অবিদ্যার দ্বারা অবছিন্ন চৈতন্যবিশিষ্ট জীব’কে বোঝায়, নার মানে সেখানে নরের যূথকে বোঝাতে পারে (যেমন নারায়ণ শব্দে ‘নার’ মানে নরের যূথ, নরে নরে নারায়ণ)। নার ও ঈ জুড়ে নারী হয় (নারী= নার+ঈ)।

নামকরণ ও হযবরল: সুকুমার সাহিত্যে ও বাস্তবে

ভারত নামের অর্থও জানা দরকার। যে দেশ পুত্ত্র, প্রজা ও জ্ঞানীদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেয় তাকে ভারত বলে। ভারত শব্দটি আসে ভৃ ধাতু থেকে। ভরণপোষণের জন্য সরকার ভুরি ভুরি সম্পদ বর্ষণ করে বলে দেশটিকে ভারতবর্ষও বলে। রাজ্যের ভরণপোষণ করার জন্যই রামায়ণের ভরতের নাম ভরত হয়েছিল (কৃত্তিবাসী রামায়ণে বিষয়টি উল্লিখিত হয়েছে)। এখানে একথা বুঝে নিতে হবে যে রামায়ণ ক্রিয়াভিত্তিক ভাষায় লিখিত এবং ভরত মানে আসলে ভরণপুঁজি (Subsistence money)। ভরতের অন্নপ্রাশনের সময় দশরথ তার ঐ নাম রেখেছিলেন বলে ভাবলে নামকরণের স্বার্থকতার কারণ বোঝা যাবে না।

গীতা নিয়ে গণ্ডগোল

গীতায় কৃষ্ণ অর্জ্জুনকে যুদ্ধে প্ররোচনা দিয়েছেন বলেও কেউ কেউ অভিযোগ করতে পারেন। সে অভিযোগ চলতেই পারে। একইভাবে মার্কসের শ্রেণী সংগ্রামের তত্ত্বটির বিরদ্ধেও অনেকে অভিযোগ করেছেন এবং সে অভিযোগ অসঙ্গত কিছু নয়। রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আমরা অনেকেই মানতে পারি না। তবু এখানে গীতাকারের বক্তব্যটাও বোঝার চেষ্টা করতে হবে। সেটা হল অপশাসনের অবসান ঘটাতেই হবে, এজন্য সব রকম মোহ পরিত্যাগ করা ও পুরুষকার অবলম্বন করা দরকার। বিবেকানন্দ বলেন, ''গীতা পাঠ অপেক্ষা ফুটবল খেলিলে তোমরা স্বর্গের অধিকতর নিকটবর্ত্তী হইবে।'' কিন্তু তার পরের লাইনটা অনেকেই জানেন না।

হ য ব র ল থেকে য র ল ব শ

বাংলা বর্ণমালায় বর্ণগুলির একটি নির্দিষ্ট ক্রম রয়েছে, যার বাস্তবসম্মত ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে। কোনো শব্দের অন্তর্গত বর্ণগুলি তার অর্থকে ধরে রাখে। শব্দার্থও ক্রিয়াভিত্তিক-বর্ণভিত্তিক হয় তা এবং যুক্তিসম্ম্ত উপায়ে বোঝা সম্ভব। শব্দার্থ এলোমেলো ক’রে দিলে সমাজে দুর্দিন ঘনিয়ে আসে। বর্ণমালায় বর্ণবিন্যাস এবং শব্দার্থের দর্শনটা বুঝলে সমাজের হযবরল অবস্থা দূর করার একটা উপায় পাওয়া যায়। ভর্ত্তৃহরি প্রমুখ বৈয়াকরণের মতে শব্দতত্ত্ব থেকে সমস্ত জগৎ বিবর্ত্তিত হয় (‘বিবর্ত্ততে অর্থভাবেন প্রক্রিয়া জগতো যত’ — ‘বাক্যপদীয়’, ১.১, উপরে মৎকৃত বঙ্গানুবাদ দ্রষ্টব্য)। যদিও আজকাল আমরা অনেকেই এসব ভুলে গেছি।

সমুদ্রমন্থন, সমুদ্র থেকে জনসমুদ্র

যারা সুরা (ধন) পান করেন তারা সুর, আজকের ভাষায় বলতে গেলে ওরা ধনতান্ত্রিক। যারা সুরা পান করেন না (ধনসম্পদ পেলেন না) তারা অসুর। আজকের ভাষায় বললে ওদের সমাজতান্ত্রিকদের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে।

সরস্বতী-ভাবনা: যুক্তি ও ভক্তির আলোয়

সরস্বতী পূজার মন্ত্রে আছে ‘কুচযুগ শোভিত মুক্তার হারে’। কোনো কোনো স্বঘোষিত মুক্তমনা ব্যক্তি এতে অশ্লীলতার গন্ধ পান। প্রকৃতপক্ষে এতে লজ্জার কিছু নাই। প্রসঙ্গত, স্ত্রীস্তনে চাপ দিলে তা সঙ্কুচিত হয় বলে তাকে কুচ বলে। কুচ করে কাটা, কুচি দিয়ে শাড়ী পরা, খোলামকুচি, কুচিকুচি ইত্যাদি শব্দের নিরুক্তি বুঝলে কুচ শব্দটিও বোঝা সম্ভব। প্রসঙ্গত, কুচভূষণকে অঙ্কও বলে, তা কুচের শোভা বর্ধন করে। কেন কুচভূষণকে অঙ্ক বলে তা এক ভিন্ন প্রশ্ন এবং তার উত্তর এখানে বলা হবে না।

শব্দের অর্থের নীতি, তাই অর্থনীতি

খাই ক্রিয়াপদটির আছে কত অর্থ,
যে না বুঝে হয় তার জীবনটা ব্যর্থ।
ভাত খায়, জল খায়, খায় যত পানীয়;
খানাপিনা সবই খায় বাঙালীরা জানিও।
খিদেটা অসীম হলে তারে কই ‘খাঁই খাঁই’ —
খ মানে আকাশ হয়, শূন্যতা পেয়ে যাই।

রামচন্দ্রের অহল্যা উদ্ধার

  রামচন্দ্রের অহল্যা উদ্ধার   ইন্দ্র একদা সতীত্বনাশ করিল অহল্যার, ইন্দ্রের গুরু গৌতম ঋষি পতি হইতেন তার। ইহা ইন্দ্রের গুরুপত্নীকে ধর্ষণ করা নয়, প্রাচীন কালের কবিদের কথা নানান অর্থময়॥১॥   গৌতম নিজ লোকজন দিয়ে করিত যৌথ চাষ, ইন্দ্র ওদের মন্ত্রণা দিয়ে করিল সর্ব্বনাশ। বিক্রীর তরে চাষ করে ওরা শুনে ইন্দ্রের কথা, তাতে হয়ে যায় সতীত্ব … [ সম্পূর্ণ পোস্ট পড়ুন ]

ধর্ম্ম প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ

রবীন্দ্রনাথ মনে করতেন ইতিহাস বিচ্ছিন্নতাই ভারতবর্ষের দু্গতির কারণ। কার্ল মার্কসও তাই বলেছেন। বেদপুরাণরামায়ণমহাভারত ইত্যাদি গ্রন্থগুলিকে ক্রিয়াভিত্তিক নিয়মে পাঠোদ্ধার করলে আমরা আমাদের সেই ইতিহাসকে খুঁজে পেতে পারি। কেমনভাবে তা করা যেতে পারে তা আমি এই ব্লগে ধারাবাহিকভাবে দেখানোর চেষ্টা করবো। যারা বঙ্গ ও বিশ্বের দুর্গতি দূর করতে আমাদের সঙ্গে মিলিত হতে চান তাদের এখানে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

Posts navigation