জোবায়েন সন্ধি
অনেককেই বলতে শুনি- এটা ‘সত্য নয়‘, ‘এটা মিথ্যা‘, ‘চূড়ান্ত সত্য‘, ‘সত্য মঙ্গলময় হোক‘ ইত্যাদি।

অনেকবারই নিজেকে প্রশ্ন করি, এই ‘সত্য‘ কিংবা ‘মিথ্যা‘ অথবা ‘সত্য ও মঙ্গলময় হোক‘ এসব কথার ভিত্তি কী?

আমার জিজ্ঞাসা-

. ‘সত্য’ কী? ‘সত্য’ সম্পর্কে কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়?

খ. সত্য নিশ্চিত ও নির্ধারণের বৈজ্ঞানিক ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি কী? কোন পদ্ধতি অনুসরণ করে সত্য নির্ধারণ হয়?

আমার মতে ‘মঙ্গলময়‘ বিষয়টা আপেক্ষিক, এটা কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে না। একজনের কাছে যা মঙ্গলময় তা অন্যের কাছে অমঙ্গলময় হতে পারে। যেমন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি’র কাছে গোরক্ষা আন্দোলন মঙ্গলময় হতে পারে আবার অন্যদের কাছে সেটা অমঙ্গল হতে পারে। এক্ষেত্রে ‘মঙ্গলময়’ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে কোন পদ্ধতিতে? কে নির্ধারণ করবে এই মঙ্গলময়?

বিজ্ঞানময় এই পৃথিবীতে কোন কিছুরই ‘চূড়ান্ত’ ও ‘একমাত্র’ বলে কোনোকিছু নেই। তেমনি উপায় নেই কোনো একটি পথের সবকিছুকে চূড়ান্ত সত্যমিথ্যা নিরুপণের। আজ যা সত্য আগামীকাল তা মিথ্যা হতে পারে, তেমনি আজ যা মিথ্যা আগামীকাল তা সত্য হতে পারে; এটাই বিজ্ঞানের নিয়ম।

অনেকে বলেন এটা ‘সত্য’ কিংবা ‘চূড়ান্ত সত্য’, এখানেও একটা ফাঁকি রয়ে যায়। সত্য এবং চূড়ান্ত সত্যের মাঝখানে একটা বিভাজনরেখা কিংবা দূরত্ব বিদ্যমান। সত্য যদি আসলেই সত্য হয়ে থাকে, তাহলে সেটাকে চূড়ান্ত সত্য বলার অর্থ সত্য’র মধ্যে ত্রুটি আছে বা ছিল; তাই ‘চূড়ান্ত সত্য’ বলে আগের সত্যকে খারিজ করে দেয়া হয়। অর্থাৎ এখানে সত্যর কোন চূড়ান্তরূপ পাই না।

অর্থাৎ সত্যমিথ্যা বলে কিছু নাই, বিকল্প শব্দ হিসেবে থাকা উচিত ‘গ্রহণযোগ্যতা’। বলা যেতে পারে ‘অমুকের গ্রহণযোগ্যতা কম বা বেশি’।

অর্থাৎ সত্য বলে কোনো কিছুই নেই। সত্য একটি মানসিক ধারণামাত্র।

 

লালন শাহ’র ভাষায়-

সত্য বল সুপথে চল

ওরে আমার মন।
সত্য সুপথ না চিনিলে
পাবিনে মানুষের দরশন।

খরিদ্দার মহাজন যে জন বাটখারাতে কম
তারে কসুর করবে যম।
গদিয়ান মহাজন যেজন
বসে কেনে প্রেমরতন।

পরের দ্রব্য পরের নারী হরণ করোনা
পারে যেতে পারবে না।
যতবার করিবে হরণ
ততোবার হবে জনম।

লালন ফকির আসলে মিথ্যে
ঘুরে বেড়ায় তীর্থে তীর্থে।
সই হলো না একমন দিতে
আসলেতে প’লো কম।

 

 

 
 

জোবায়েন সন্ধি এর ব্লগ   ১২৭ বার পঠিত