আলমগীর হুসেন

পূজোর মৌসুম, মূর্তি ভাঙ্গার মৌসুমঃ  পূজার মৌসুম চলছে বাংলাদেশে, চলছে সেই সাথে মুসলমানদের মূর্তি ভাঙ্গার মৌসুম। মুসলমানদের মাঝে মূর্তি ভাঙ্গার এ প্রবণতা সম্পর্কে প্রশ্ন তুললেই সুশীল মুসলমানরা বলে, ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম। ইসলামে ধর্মীয় ঘৃণা ও বিদ্বেষের কোন স্থান নেই। বাংলায় ইসলাম এসেছিল শান্তি ও সম্প্রীতির বাণী নিয়ে। ইসলামের মাহাত্মে অভিভূত হয়ে বাংলার হিন্দু, বৈদ্য, জৈন ব্যাপক সংখ্যায় ইসলাম গ্রহণ করেছিল। মূর্তি ভাঙ্গার সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই। হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি ও সদ্ভাব ছিল বাংলার ইসলামী আমলের ঐতিহ্য। অনেকেই বলেন, হিন্দু-মুসলিম বিদ্বেষ মূলত ব্রিটিশদের বিভাজন ও শাসন (ডিভাইড এন্ড রুল) নীতির ফসল। প্রায় সব মুসলমান ও বাম-মার্সপন্থী লেখক ও ঐতিহাসিকদের কিতাবেও মুসলিম শাসনামলে বাংলা ছিল হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি ও সদ্ভাবের এক অনন্য ক্রীড়াক্ষেত্র।


নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মন্দির ও মূর্তি ভাংচুর, ২০১৬


নবী মুহাম্মদের মূর্তি ধ্বংস করার ঐতিহ্যঃ  
মুসলিম শাসনকালে বাংলায় মন্দির-মূর্তি ভাংচুর হতো কি না-হতো, তা আলোচনার আগে নবী মুহাম্মদের মন্দির ও মূর্তি ভাঙ্গার ঐতিহ্য তুলে ধরা প্রয়োজন। মুসলমানরা গর্বের সাথেই বলে বেড়ায় যে ইসলামের একেবারে গোড়াতেই নবী মুহাম্মদ (সঃ) কাবার ৩৬০টি মূর্তি ভেঙ্গেছিলেন। মুসলমানরা এমনটা বলতেও দ্বিধা করে না যে, নবী মুহাম্মদের আগমণ ঘটেছিল কিংবা ইসলামের সূচণা হয়েছিল পৃথিবী থেকে গর্হিত মূর্তি-পূজার প্রথা চিরতরে নির্মূল করতে। অথচ বাংলাদেশে মুসলমানদের মূর্তি ভাঙ্গার বিষয়ে প্রশ্ন তুলতেই সুশীল মুসলিমরা দাবী করবে যে, ইসলামে মূর্তি ভাঙ্গার কোন স্থান নেই। নবী কর্তৃক কাবার মূর্তি ধ্বংস করার বিষয়ে প্রশ্ন তুললে, তারা বলবে যে, নবীর কথা ভিন্ন। তিনি এসেছিলেন ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে। বৃহত্তর মানব কল্যানে নতুন কিছু প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে অনাকাংখিত কিছু পদক্ষেপ নিতে হয়। নবীর আমলে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাওয়ার পর সে-ধরনের পদক্ষেপের আর কোন দরকার নেই। কোরান ও হাদিসের আলোকে তারা এটাও বলে যে, কাবা শরীফ ছিল নবী ইব্রাহিম ও পুত্র ইসমাইল কর্তৃক নির্মিত আল্লাহর পবিত্র মসজিদ। বিপথগামী আরবরা পৌত্তলিকতায় ডুবে গিয়ে সে পবিত্র মসজিদকে মূর্তি-পূজার পুণ্যভূমি বানিয়ে ফেলেছিল। কাবাকে আল্লাহর মসজিদ হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তাতে সংরক্ষিত সব মূর্তি ধ্বংস করা নবীর জন্য জরুরী ও বৈধ ছিল।

কোরান ও হাদিস দাবী করে যে, নবী ইব্রাহিম কাবা নির্মাণ করে সেখানে হজ্জ্বের প্রথা প্রচলন করেছিলেন (কোরান ২২:২৬-২৭, ২:১২৫-১২৭; বুখারী ৪:৫৫:৫৮৪)। সে হিসেবে নবী মুহাম্মদের দ্বারা কাবার মূর্তি ধ্বংস করা জায়েজ বিবেচিত হতেও পারে। কাবা ব্যতিত আরবাঞ্চলের অন্য কোন মন্দির নবী ইব্রাহিম বা ইসমাইল কর্তৃক নির্মিত হওয়ার দাবী করা হয় নি কোরান বা হাদিসে। অথচ মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে ইসলামের শক্তি ঘোষিত হওয়ার দিন নবী (সঃ) আরবাঞ্চলের অন্যান্য মন্দিরগুলো ধ্বংস করার জন্য চারিদিকে জিহাদী দল প্রেরণ করেন। ‘ইসলামের তলোয়ার’ হিসেবে খালিদ বিন উয়ালিদের নেতৃত্বে ৩৫০ সদস্যের এক জিহাদী দল গিয়ে নাখলার আল-উজ্জা দেবীর মন্দিরটি গুড়িয়ে দেয়[1]; আমর আল-আস-এর নেতৃত্বে আরেক জিহাদী দল গিয়ে বানু হুদেইল গোত্রের আল-সুয়া মন্দিরটি ধ্বংস করে; মক্কার পরাজয়ের খবর পেয়ে মদীনায় নবীর শিষ্য সাদ বিন জায়েদ সেখানকার আল-মানাত দেবীর মন্দিরটি ধ্বংস করে।[2] এর কিছুকাল পর তায়েফবাসী নবীর কাছে আত্মসমর্পন করার পর তাদের অনেক মিনতি উপেক্ষা করে নবী আবু সুফিয়ানকে পাঠান তায়েফের আল-লাত দেবীর মন্দিরটি ধ্বংস করতে।[3] অনুরূপভাবে, মক্কা বিজয়ের পর মধ্য-আরবের ইয়ামামা থেকে ভীত-সন্ত্রস্ত বনী হানিফা খৃষ্টান গোত্রের এক প্রতিনিধি দল নবীর কাছে আসে নিরাপত্তা চাইতে। ফেরার সময় নবী ওজুর অবশিষ্ট পানিসহ ভাণ্ডটি তাদের হাতে ধরিয়ে দিয়ে আদেশ দেনঃ ‘তোমরা দেশে পৌঁছে তোমাদের গির্জাটি ধ্বংস করে ফেলবে এবং এই পানি ছিটিয়ে দিয়ে সে স্থানটি পবিত্র করে তদস্থলে একটি মসজিদ নির্মাণ করবে।[4] একইভাবে নবী কর্তৃক মদীনার ইহুদী গোত্রগুলোকে একে-একে নির্বাসিত ও নির্মূল হওয়ার সাথে সাথে তাদের ধর্মীয় গৃহগুলোও (সিনাগগ) ধ্বংস হয়ে যায়।

সুতরাং নবী মুহাম্মদ স্বয়ং বিধর্মীদের ধর্মীয় উপাসনালয় ধ্বংস করার সুন্নতী ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন – হোক সে পৌত্তলিক মন্দির, খৃষ্টান চার্চ (গীর্জা) কিংবা ইহুদি সিনাগগ। পরবর্তীতে ইসলামের জিহাদী বাহিনী তলোয়ার হাতে যেখানেই গিয়েছে, সেখানেই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর ওপর প্রথম আঘাত হেনেছে। ফিলিস্তিন দখলের পর খলিফা হযরত উমর ইহুদিদের প্রাণপ্রিয় জেরুজালেম মন্দিরটির জায়গায় আল-আকসা মসজিদ নির্মাণ করেন; সেকালীন খৃস্ট্রিয় শক্তির প্রধান কেন্দ্র ইস্তাম্বুল (কনস্ট্যান্টিনোপোল) দখলের পর সুবিখ্যাত হাইয়া সোফিয়া (Hagia Sophia) গির্জাটি দখল করে মসজিদ বানানো হয়। ভারতেও মুসলমান আগ্রাসীরা একই কাজ করেছে। মুহাম্মদ বিন কাসিম (৭১২ খ্রিস্টাব্দ) উত্তর-পশ্চিম ভারতের সিন্ধ দখল অভিযানে দেবাল-এ পৌঁছে সর্বপ্রথম সেখানকার মন্দিরটি আক্রমণ করে; এরপর সিজিস্তানে পৌঁছে সেখানকার বুধ মন্দিরটি ধ্বংস করে তদস্থলে মসজিদ নির্মাণ করে।[5] একইভাবে সম্রাট বাবর হিন্দুদের পূণ্যভূমি অযোধ্যা দখলের পর তাদের সবচেয়ে পূণ্যবান রামমন্দিরটি ধ্বংস করে তদস্থলে মসজিদ (বাবরী মসজিদ) নির্মাণ করেন। সম্রাট আওরঙ্গজেবের (আলমগীর) মন্দির ধ্বংসের কাহিনী কিংবদন্তী স্বরূপ। ‘মা-আসির-ই আলমগীরি’ গ্রন্থে উল্লেখিত তথ্য অনুসারে আওরঙ্গজেবের আদেশে শুধু ১৬৭৯ সালেই ২ শতাধিক মন্দির ধ্বংস করা হয়।

যদিও মুসলিমরা সর্বত্রই অমুসলিমদের মন্দির, চার্চ ও সিনাগগ ধ্বংস করেছে, এমনকি ভারতের অন্যত্রও, কিন্তু বাংলার ক্ষেত্রে কাহিনী একেবারেই ভিন্ন। বাংলায় ইসলাম ছিল শুধুই শান্তির প্রতীক; হিন্দু, বৈদ্ধ ও জৈন ধর্মের অনুসারীদের প্রতি সম্প্রীতি ও সদ্ভাবের প্রতীক। বাংলায় মুসলিম দখলদাররা কোনরূপ ধর্মীয় বিদ্বেষ ও সঙ্ঘাতে লিপ্ত হয় নি, বিধর্মীদের ধর্মমন্দির ধ্বংস করে নি। অন্তত সুশীল বাঙালী মুসলিম ও প্রায় সব মার্ক্সিস্ট লেখক ও ঐতিহাসিকদের লেখনীতেও এটাই বাংলার ইসলামের আসল চিত্র।

বাংলায় মুসলমানদের মন্দির ভাঙ্গার ঐতিহ্য

সত্যিকার ঐতিহাসিক তথ্য প্রমাণ দেয় যে, মুসলিম দখলদারদের বাংলায় আক্রমণ ও রাজত্বেও মন্দির ধ্বংসকরণ ছিল অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ প্রসঙ্গে নিম্নোক্ত দৃষ্টান্তগুলো বিবেচ্যঃ

(১) দিল্লীতে মুহাম্মদ গোড়ী ও আইবক মিলে সুলতানাত প্রতিষ্ঠা করে যখন সেখানকার সব মন্দির ধ্বংস করছিলেন (সে সময়ে কুয়াত উল-ইসলাম মসজিদটি নির্মিত হয় ধ্বংসকৃত ১৭টি মন্দিরের মালমসলা দিয়ে), ঠিক সেই সময়ে বখতিয়ার খিলজি (১২০৩-১২০৬) বাংলা আক্রমণ করে বহু হিন্দু মন্দির-উপসনালয় দখল করে নিয়ে সেগুলোকে মসজিদ ও মাদ্রাসায় পরিণত করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে মিনহাজ সিরাজের ‘তাবাকৎ-ই-নাসিরী’ গ্রন্থে।[6]

(২) সুলতান রুকনুদ্দিন কাইকাউসের আমলে (১২৯১-১২৯৯) সুলতানের সেনানায়ক জাফরখান গাজী ত্রিবেনী দখল করে সেখানে এক বিশাল মসজিদ নির্মাণ করেন (১২৯৮ সালে), যার দেয়ালে ধ্বংসকৃত হিন্দু মন্দিরের কারুকার্যখোদিত ও মূর্তিযুক্ত বহুসংখ্যক ফলক পাওয়া। ত্রিবেনীতে জাফরখানের সমাধিভবণটিও নির্মিত হয়েছিল মন্দির ধ্বংস করে সেগুলোর মালমসলা দিয়ে।

(৩) নেপালের কিছু শিলালিপি ও গ্রন্থাদি থেকে জানা যায় যে, ১৩৫০ সালে সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ নেপাল আক্রমণ করে অনেক শহর জ্বালিয়ে দেন এবং বহু মন্দির ধ্বংস করেন; বিখ্যাত পশুপতিনাথ মূর্তিটি খণ্ড-খণ্ড করেন।

(৪) ভারতবর্ষে নির্মিত সবচেয়ে বৃহৎ মসজিদ হচ্ছে সুলতান সিকান্দার শাহ (রাঃ ১৩৫৮-১৩৯১) নির্মিত পাণ্ডুয়ার আদিনা মসজিদ। মসজিদটির দেয়ালে অনেক হিন্দু দেবদেবীর পাথরের মূর্তি দেখা যায় এবং ইহার মিহরাবটি ধ্বংসকৃত হিন্দু মন্দিরের চমৎকার কারুকার্যশোভিত স্তম্ভ দিয়ে নির্মিত।

(৫) পাণ্ডুয়ার একলাখী ভবনটি সম্ভবত সুলতান জালালুদ্দিন মুহাম্মদের (রাঃ ১৪১৭-১৪৩৪) সমাধিভবন। সমাধিভবনটি ধ্বংসকৃত হিন্দু মন্দিরের উপকরণ দিয়ে নির্মিত হয়েছিল, কেননা এর গায়ে হিন্দু স্থাপত্যের নিদর্শনযুক্ত পাথর দেখা যায় এবং কষ্টিপাথরে নির্মিত ইহার তোরণের তলায় হিন্দু মূর্তি খোদিত রয়েছে।

(৬) এরপর সুলতান শামসুদ্দিন ইউসুফ শাহ (রাঃ ১৪৭৬-১৪৮১) হুগলী অঞ্চল জয় করে পাণ্ডুয়ার (হুগলো জেলা) সূর্য ও নারায়নের মন্দিরটিকে কা’বার দৃষ্টান্ত অনুসারে মসজিদে পরিণত করেন এবং সূর্যমূর্তিটিকে ক্ষত-বিক্ষত করে ছুড়ে ফেলেন। মসজিদটি বর্তমানে ‘বাইশ দরওয়াজা’ মসজিদ নামে পরিচিত, যার ভেতরে হিন্দু মন্দিরের বহু শিলাস্তম্ভ ও ধ্বংসাবশেষ রয়েছে।[7]

(৭) শ্রীচৈতন্যের জীবন (১৪৮৬-১৫৩৪) ও কর্মকাণ্ড নিয়ে লিখিত মধ্যযুগীয় কিছু গ্রন্থ থেকে সেকালীন বাংলার হিন্দু সমাজের উপর মুসলিম শাসনের প্রভাবের কিছুটা বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। চৈতন্যের জন্মের অল্পকাল আগে বিজয়গুপ্ত রচিত ‘মনসামঙ্গল’ (পদ্মপুরাণ) কাব্যের হাসন-হুসন পালায় হোসেনহাটি গ্রামের কাজী হাসন-হুসেন ভাইযুগল, ও হোসেনের শ্যালক দুলা কর্তৃক হিন্দুদেরকে ধর্মীয়ভাবে নিষ্পেষণের চিত্র বর্ণিত হয়েছে। কাহিনীতে দেখা যায়, বনের মাঝে এক কুটিরকে মন্দির সাজিয়ে তার ভিতর মনসার ঘট বানিয়ে হিন্দু রাখালেরা মনসা দেবীর পূঁজো করছিল। তকাই নামে এক মোল্লা তার খোঁজ পেয়ে মনসার ঘটটি ভাঙ্গতে উদ্ধত হয়। রাখালেরা তাকে বাধা দিয়ে নাজেহাল করে ছেড়ে দেয়। এরপর তকাই মোল্লা কাজী হাসন-হুসনের কাছে গিয়ে নালিশ করলে কাজী ভ্রাতৃদ্বয় এক সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে গিয়ে পূঁজোর কুটিরটি আক্রমণ করে, মনসার ঘট ভেঙ্গে ফেলে এবং বনে পালিয়ে যাওয়া হিন্দুদেরকে খুঁজে বের করে পাকড়াও করে।[8] কাহিনীটি থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠে যে, এ সময়ে কুটিরের ভিতর মূর্তি সাজিয়ে লুকিয়ে-লুকিয়ে পূঁজো দেওয়াও হিন্দুদের জন্য নিরাপদ ছিল না।

(৮) জয়ানন্দ রচিত ‘চৈতন্যমঙ্গল’-এ প্রায় একই সময়ের আরেক ঘটনার বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, পিরালী গ্রামের মুসলমানরা সুলতানের কাছে গিয়ে গুজব ছড়ায় যে, নবদ্বীপের ব্রাহ্মণরা সুলতানের বিরুদ্ধে ষঢ়যন্ত্র করছে। তা শুনে সুলতান জালালুদ্দিন ফতেহ শাহ (রাঃ ১৪৮২-১৪৮৮) নবদ্বীপ উচ্ছন্ন করার আদেশ দেন, যার ফলে সুলতানের সৈন্যরা নবদ্বীপের উপর চড়াও হয়ে ব্রাহ্মণদেরকে হত্যা করে, তাদের সম্পত্তি লুট করে, নবদ্বীপের মন্দিরগুলি ধ্বংস করে এবং তুলশী গাছগুলি উপড়ে ফেলে।

(৯) উড়িষ্যার ভাষায় রচিত ‘মাদলা পাঞ্জী’ ও সংস্কৃত ভাষায় রচিত ‘কটকরাজবংশাবলী’ গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, বাংলার সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ (১৪৯৪-১৫১৯) উড়িষ্যা আক্রমণ করে রাজধানী কটক ও পুরী পর্যন্ত জয় করেন, এবং পুরীর বিখ্যাত জগন্নাথ মন্দিরের মূর্তিগুলো ভাংচূর করেন; জগন্নাথের মূর্তিটি দোলায় চড়িয়ে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে লুকিয়ে রেখে রক্ষা করা হয়।[9] শ্রীচৈতন্য জীবনচরিত ‘চৈতন্যভাগবত’-এ সুলতান হোসেন শাহের উড়িষ্যা আক্রমণে মন্দির ধ্বংসকরণ সম্পর্কে বলা হয়েছেঃ “যে হুসেন শাহ সর্ব্ব উড়িয়ার দেশে। দেবমূর্তি ভাঙ্গিলেক দেউল বিশেষে।।[10]  ‘চৈতন্যচরিতামৃত’ ও ‘চৈতন্যচন্দ্রোদয় নাটক’-এও সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের উড়িষ্যা অভিযানে মন্দির ও মূর্তি ধ্বংস করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।[11]

(১০) অসমীয়া বুরজীর মতে, বাংলায় আফগানী রাজত্বকালে শের শাহ সুরের পুত্র ইসলাম শাহের আমলে (১৫৪৫-১৫৫৩) কালাপাহাড় কামরূপ (আসাম) আক্রমণ করে হাজো ও কামাখ্যার মন্দিরগুলি ধ্বংস করেন ফিরে আসেন।[12]

(১১) অতঃপর কররানী বংশের রাজত্বকালে সুলেমান কররানীর আমলে (১৫৬৫-১৫৭২) সেনাবাহিনীর অন্যতম অধিনায়কে উন্নীত কালাপাহাড় উড়িষ্যার পূণ্যভূমি পুরী আক্রমণ করে আবারও জগন্নাথ মন্দিরটি বিধ্বস্ত ও মূর্তিগুলি খণ্ড-বিখণ্ড করেন, এবং সোনার মূর্তিগুলি লুট করে নিয়ে যান।

(১২) সুলেমান কররানীর আমলে কালাপাহাড় আবারও কামরূপ ও কুচবিহারের দিকে অভিযান চালিয়ে হাজো, কামাখ্যা ও অন্যান্য অঞ্চলের মন্দিরগুলো ধ্বংস করে ফিরে আসেন।[13]

এর অল্পকাল পরেই বাংলার আফগান শাসকগণ মোগল সম্রাট আকরবের সাথে সংঘাতে অবতীর্ণ হয় এবং ১৫৭৬ সালে বাংলা মোগল শাসনাধীনে চলে আসে। শীঘ্রই আকবর নিজেকে ইসলামত্যাগী ঘোষণা দিয়ে ‘দ্বীন-ই-ইলাহী’ ধর্ম প্রচারে অবতীর্ণ হন এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় ধর্মীয় স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। যার ফলে এরপর সাময়িকভাবে বাংলা ও ভারতে হিন্দুদের উপর নির্যাতন, বিশেষত হিন্দু মন্দির ধ্বংস ও মূর্তি ভাংচূর রহিত হয়। আকবরের মৃত্যুর পর সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলেই (১৬০৫-১৬২৭) আবার মন্দির ভাঙ্গার চর্চা কিছু অংশে শুরু হয়ে যায়। জাহাঙ্গীর হিন্দু অঞ্চলের বিরুদ্ধে অভিযানগুলোকে, যেমন মিউয়ার ও কাঙ্গরার (১৬২১) বিরুদ্ধে, জিহাদ হিসেবে ঘোষণা করেন এবং মিউয়ার বিজয়ের পর বহু মন্দির ধ্বংস করেন। ১৬১৭ সালে জাহাঙ্গীর গুজরাটের সব জৈন মন্দির ধ্বংস এবং জৈন সন্যাসীদেরকে বিতাড়িত করার আদেশ জারী করেন। এরপর সম্রাট শাহ জাহানের আমলে (১৬২৮-১৬৫৭) মন্দির নির্মাণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় এবং নির্মানাধীন মন্দিরগুলো ধ্বংস করা হয়।[14] এটা সর্বজনবিদিত যে, সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে (১৬৫৮-১৭০৭) মন্দির ধ্বংসকরণ চরমে পৌঁছেছিল।

(১৩) স্থানীয়ভাবে বাংলাতেও আকরবরের মৃত্যুর পরপরই মন্দির ধ্বংসের কাজ নিঃসন্দেহে শুরু হয়ে গিয়েছিল। বাংলায় মুসলিম শাসনের অন্তিম দিনে মুর্শিদ কুলী খানের আমলে (১৭১৭-১৭২৭) মন্দির ধ্বংস করার ব্যাপক চর্চা দেখা যায়। হিন্দু থেকে ধর্মান্তরিত মুর্শিদ কুলী খান রাজকার্যে সুবিধার জন্য হিন্দুদেরকে নিয়োগ দিতেন, কেননা মুসলমানরা ছিল ষঢ়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকার প্রবণতা। তবে পাশাপাশি হিন্দু মন্দির ধ্বংসকরণেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত তৎপর। ধ্বংসকৃত অনেকগুলো হিন্দু মন্দিরের উপকরণ দিয়ে মুর্শিদাবাদের বৃহৎ কাটরা মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন তিনি। মসজিদটির সিঁড়ির নীচে মুর্শিদ কুলী খানের সমাধি দেওয়া হয়েছে।[15] সম্ভবত মুসল্লীদের পায়ের ধুলো মাথায় নিয়ে তিনি আশীর্বাদিত হতে চেয়েছিলেন।

(১৭) কার্যত বাংলার শেষ মুসলিম শাসক আলীবর্দি খানও (রাঃ ১৭৪০-১৭৫৬) হিন্দুদের মন্দির ও ধর্মশালা ধ্বংসকরণে মত্ত ছিলেন বলে উল্লেখিত হয়েছে ভারতচন্দ্র (মৃঃ ১৭৬০) রচিত ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যেঃ[16]

 যত দেবতার মঠ, ভাঙ্গি ফেলে করি হঠ, নানা মতে করে অনাচার।

উপরোক্ত তথ্যাবলী থেকে বাংলায় ইসলামী আগ্রাসনের শুরু থেকে প্রায় শেষ অবধি (১৭৫৭ সাল) হিন্দু মন্দির ধ্বংস করণের ধারাবাহিকতার প্রমাণ পাওয়া যায়। তথাপি ইসলামী আমলে বাংলায় মুসলিমদের মন্দির ধ্বংসের পুরো চিত্র পাওয়া কঠিন। কেননা দিল্লীর সুলতানদের মত বাংলার সুলতানেরা তাদের কর্মকাণ্ডের তেমন কোন তথ্য লিপিবদ্ধ করে যায় নি। সুলতানী আমলের বাংলার সামান্য ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া মূলতঃ দিল্লীর রাজদরবারে বসবাসকারী কর্মচারী বা সুলতানদের লেখা থেকে। সেসব গ্রন্থে বাংলার হিন্দু সমাজের প্রতি সুলতানদের আচরণ ও কর্মকাণ্ড তেমন স্থান পায় নি। এমন কি বাংলার বেশ কয়েকজন সুলতান সম্পর্কে কোন লিখিত দলিল একেবারেই অনুপস্থিত। তাদের অস্তিত্বের খোঁজ পাওয়া গেছে শুধুই উদ্ধারকৃত মুদ্রায় খোদিত লিপি থেকে। মধ্যযুগীয় মুসলিমদের কাছে মন্দির ধ্বংসকরণ ও অমুসলিমদের প্রতি ধর্মীয় নিপীড়ন ছিল খুবই স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত। কাজেই সেগুলোর খুঁটিনাটি মধ্যযুগীয় মুসলিম লেখকদের নথিতে খুব একটা স্থানও পায় নি। সেসব গ্রন্থে ঘটা করে বর্ণিত হয়েছে সুলতানদের কাফের হত্যার কাহিনী, লুটের মালের পরিমাণ ইত্যাদি এবং মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ, ফকির-দরবেশদের খানকায় ও মাজার-দরগায়, এমনকি মক্কা-মদীনায়, দানের কাহিনী। কাজেই মুসলিমদের মন্দির ধ্বংসের প্রমাণাদির জন্য আমাদেরকে নির্ভর করতে হয় সাধারণত সেকালে নির্মিত মসজিদ ও ইসলামী সৌধগুলোর নির্মাণের মালমসলার দিকে, যার মাঝে হিন্দু মন্দিরের নানান চিহ্ন বিদ্যমান। উল্লেখ্য, সেকালে নির্মিত মসজিদ, সৌধ ইত্যাদির সামান্যই আজ অবহেলিত ধ্বংসাবশেষ হিসেবে টিকে আছে, বেশীরভাগ অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে গেছে।

কাজেই বাংলায় প্রথম মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠাকারী বখতিয়ার খিলজী থেকে কার্যত-শেষ-নবাব আলীবর্দি খান পর্যন্ত হিন্দু মন্দির ও মূর্তি ধ্বংসের প্রক্রিয়া চালু ছিল, সম্ভবত শুধু সম্রাট আকবরের সময়ে অল্পকাল বাদ দিয়ে। হিন্দু অধিকৃত অঞ্চল দখল করে নিয়ে সেখানকার সব মন্দির ধ্বংস করে ফেলার পর আর নতুন করে মন্দির গড়ার অনুমতি দেওয়া হয় নি। আমরা দেখেছি, বনের ভিতর পূঁজোর কুটিরও মুসলিম কাজীর রোষানল থেকে রেহাই পায় নি। বাড়িতে লুকিয়ে চুপিসারে পূঁজো দেওয়াও হিন্দুদের জন্য প্রাণহরণের কারণ হতো পারতো। যেমন চৈতন্যভাগবত-এ বর্ণিত হয়েছে যে, চৈতন্যের ভক্ত বৈদ্য চন্দ্রশেখর গোপনে নিজ বাড়িতে সোনার মূর্তি বানিয়ে পূঁজো দিতো। এ খবর পেয়ে মুসলিম সেনারা মূর্তিটি ছিনিয়ে নিতে চন্দ্রশেখরের বাড়িতে চড়াও হয় এবং চন্দ্রশেখর প্রাণপ্রিয় মূর্তিটিকে বুকের কাছে চেপে ধরে রাখলে মুসলিম সেনারা তাকে হত্যা করে মূর্তিটি ছিনিয়ে নেয়ঃ[17]

বক্ষে রাখিল ঠাকুর তবু না ছাড়িল।

চন্দ্রশেখরের মুণ্ড মোগলে কাটিল।।

তবে যেসব হিন্দু জমিদারেরা মুসলিম শাসকদের জন্য কাজ করতো, তাদেরকে ঘরোয়াভাবে ছোটখাট ঠাকুরঘর রাখার অনুমতি দেওয়া হত বলে মনে হয়। যেমন ‘চৈতন্যচরিতামৃত’ থেকে জানা যায় যে, হোসেন শাহ’র আমলে বেনাপোলের জমিদার রামচন্দ্রের বাড়িতে একটি ঠাকুরঘর (দুর্গামন্দির) ছিল এবং খাজনা বাকী পড়লে সুলতানের উজীর তার বাড়ি দখল করে ঠাকুরঘরটিতে গরু জবাই করে তিন ধরে রান্না করান।[18]

মোটকথা, মুসলিম শাসিত বাংলার প্রায় সব হিন্দু মন্দির ধ্বংস করে ফেলা হয়েছিল এবং হিন্দুরা নতুন করে মন্দির নির্মাণের সুযোগ পায় নি। কাজেই মধ্যযুগে বাংলার যেসব অঞ্চলে মুসলিম শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেসব অঞ্চলে ব্রিটিশ-পূর্ব আমলের কোন মন্দির খুঁজে পাওয়া কঠিন। অল্প কিছু মন্দিরের ক্ষত-বিক্ষত ধ্বংসাবশেষ দেখতে পাওয়া যায় মাত্র। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মল্লভূমে, বিশেষত এর রাজধানী বিষ্ণুপুরে, অনেকগুলো সুদৃশ্য ব্রিটিশ-পূর্ব যুগের মন্দির আজও দাঁড়িয়ে আছে। এ ভিন্নতার কারণ, মল্লভূমে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে নি, বরাবরই সেখানকার হিন্দু রাজাগণ প্রায় স্বাধীনভাবে রাজত্ব করেছেন।


ব্রিটিশপূর্ব আমলের জোরবাংলা মন্দির, বিষ্ণুপুর


ব্রিটিশপূর্ব আমলের রাধামাধব মন্দির, বিষ্ণুপুর

আজকাল যে বাংলাদেশে সামান্য অজুহাতেই হিন্দু মন্দির আক্রমণ ও মূর্তি চুরমার করা হয়, তা মুসলিম আমলে লাগাতার চলমান হিন্দু মন্দির ও মূর্তি ধ্বংসের ঐতিহ্যেরই বহমানতা মাত্র। অন্যকথায়, বখতিয়ার খিলজী বাংলা আক্রমণ করে হিন্দু মন্দির ও মূর্তি ভাঙ্গার যে প্রথা চালু করেছিলেন, তা আজও বাংলাদেশের মুসলমানরা চালু রাখছে পূঁজোর মৌসুমে মন্দির ও মূর্তি ভাঙ্গার উৎসবের মাধ্যমে। বলা আবশ্যক যে, সম্রাট আকবর (রাঃ ১৫৫৬-১৬০৫) ও পরবর্তী ব্রিটিশ (১৭৫৭-১৯৪৭) আমলে তা কিছুটা রহিত হয়েছিল। এটাও বলা আবশ্যক যে, যদিও বাংলা-ভারত-পাকিস্তানে হিন্দু-মুসলিম বিদ্বেষের মূল কারণ হিসেবে ব্রিটিশদের ‘ডিভাইড এন্ড রুল’ নীতিকে দায়ী করা হয়, তবুও এটাও সত্য যে, আজ যে বাংলাদেশে হিন্দুরা মন্দির ও মূর্তি বানিয়ে পূঁজো করতে পারছে, তা প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাব্দীর বিরতীর পর ব্রিটিশ আমলেই নতুন করে চালু হয়েছিল।

শেষ কথা

বাংলাদেশের প্রখ্যাত ইসলাম প্রচারক মুফতী শেখ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ উয়াজ মাহফিলে বলেন, “আমার নবী মূর্তি ভেঙ্গেছেন, মূর্তি ভাঙ্গা নীতি হচ্ছে মুসলমানের নীতি, মুসলমানের গোস্তের সাথে মিশে আছে মূর্তি ভাঙ্গার নীতি, মুসলমানের রক্তের সাথে মিশে আছে মূর্তি ভাঙ্গার নীতি।” তার এরূপ ঘৃণাত্মক প্রচারণা শুনে সমেবেত শত শত সাধারণ মুসলমান যখন উল্লাস-উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে, তখন না মেনে পারা যায় না যে, মুফতী রাজ্জাক সত্য কথাই বলছেন – মূর্তি ভাঙ্গার নীতি আমাদের রক্তে-মাংসে মিশে গেছে। তিনি আরও বলেন যে, তার মূর্তি ভাঙ্গার প্রচারণার জন্য আদালত যদি তাকে অপরাধী ঘোষণা করে, তাহলে নবী মুহাম্মদও অপরাধী ঘোষিত হবে, এবং এক নম্বর অপরাধী হিসেবে। কেননা, তার মূর্তি ভাঙ্গার উস্কানিদাতা হচ্ছেন স্বয়ং মুহাম্মদ (সঃ)। নবী মুহাম্মদ থেকে উৎসারিত মূর্তি ভাঙ্গার প্রবণতা ও নীতি বঙ্গীয় ইসলামের মহানায়ক বখতিয়ার খিলজী থেকে শুরু করে জাফর খান, জালালুদ্দিন মুহাম্মদ, কালাপাহাড়, মুর্শীদ কুলী খান, আলীবর্দি খান হয়ে বাংলার মুসলমানদের রক্তে-মাংসে, অস্থিতে-মজ্জায় মিশে একাকার হয়ে গেছে।

সূত্রঃ

[1] Ibn Ishaq, The Life of Muhammad, Karachi, p. 565

[2] Al-Tabari, The History of al-Tabari, SUNY, VIII:188

[3] Ibn Ishaq, p. 616

[4] Ibn Sa’d, Al-Tabaqat al-Kabir, Kitab Bhavan, Delhi, II:298-299

[5] Ali ibn Hamid al-Kufi, Chachnamah – An Ancient History of Sindh, p. 64,71 (https://www.scribd.com/document/23239620/Chachnamah-An-Ancient-History-of-Sindh); আরও দেখুন Elliot HM and Dowson J, The History of India as Told by Its Historians – Mohammedan Period, I:158

[6] মজুমদার, আর, সি, বাংলা দেশের ইতিহাস মধ্যযুগ, জেনারেল প্রিন্টার্স, কলিকাতা (২০০৩ প্রিন্ট), পৃঃ ৩

[7] মজুমদার, পৃঃ ৬১

[8] মজুমদার, পৃঃ ৬২-৬৩

[9] মজুমদার, পৃঃ ৭৭

[10] চৈতন্যভাগবত, অন্তখণ্ড, পৃঃ ৪৩

[11] মজুমদার, পৃঃ ৭৮

[12] মজুমদার, পৃঃ ১১২

[13] মজুমদার, পৃঃ ১১৭

[14] Religious Policies of Jahangir and Shah Jahan (https://selfstudyhistory.com/2015/09/05/religious-policies-of-jahangir-and-shahjahan/)

[15] মজুমদার, পৃঃ ৪৪১

[16] চৈতন্যভাগবত, মধ্যখণ্ড, পৃঃ ১৩৬; আরও দেখুন, মজুমদার, পৃঃ ৩২১-৩২২

[17] মজুমদার, পৃঃ ২৬১

[18] মজুমদার, পৃঃ ৮৯

আলমগীর হুসেন এর ব্লগ   ৫৭৪ বার পঠিত