জোবায়েন সন্ধি

একইসাথে দিন ও রাত্রি যেমন অসম্ভব, তেমনি সৃষ্টিকর্তার পক্ষে একইসাথে ‘দয়াময়‘ ও ‘দয়াহীন‘ হওয়াও অসম্ভব।

ধর্মগ্রন্থে বলা হয়, সৃষ্টিকর্তা মানুষকে ‘শখ করে‘ সৃষ্টি করেছেন। অর্থাৎ মানুষ সৃষ্টিকর্তার ‘শখের সৃষ্ট জীব‘। তাই মানুষের ওপর তাঁর দয়ামায়াও বেশী। অথচ বাস্তবতা ভিন্ন। মানুষভেদে রয়েছে তার দয়ার অনেক ব্যবধান।

সৃষ্টিকর্তা অনুগ্রহ করে সব মানুষকেই প্রাণদান করেছেন এবং সমানভাবে দান করেছেন ক্ষুধা-তৃষ্ণা ও সুখ-দুঃখের অনুভূতি। অথচ মানুষের জীবিকা নির্বাহের কোন ব্যাপারেই সৃষ্টিকর্তার দয়ার সমবণ্টন নাই। কেউ সুরম্য রাজপ্রাসাদে বাস করে, কেউবা বাস করে ফুটপাথে। কেউ পিৎজ্জা হাটে সহস্রাধিক টাকা মূল্যের খাবার খায়, আবার কেউবা খায় লবণ মেখে মোটা চালের ভাত। সৃষ্টিকর্তার দয়ামায়ার এরূপ পক্ষপাত আমরা চোখের সামনেই দেখতে পাই।

ধর্মগ্রন্থ সাক্ষ্য দেয়, সৃষ্টিকর্তা ‘দয়াময়‘ বলেই জীবের জীবন রক্ষা করে। তাহলে যাদের প্রাণহরণ হয় বা যারা মৃত্যুবরণ করে তাদের বেলায় সৃষ্টিকর্তা দয়াময় না হয়ে নির্মম ও দয়াহীনতার নজির রাখে কেন? চোখের সামনে অজস্র নজির থাকার পরেও সৃষ্টিকর্তাকে ‘দয়াময়’ বলা হাস্যকর বৈকী!

ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত সৃষ্টিকর্তার চরিত্রের এরূপ ডাবল স্ট্যান্ডার্ড এই কথাই প্রমাণ করে যে, সৃষ্টিকর্তা দয়াময়ও নয়; কিংবা দয়াহীনও নয়। অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা বলে আদতে কিছুই নাই।

জোবায়েন সন্ধি এর ব্লগ   ৩৭৮ বার পঠিত