জিয়া হাসান

মাহি বি চৌধুরী এবং মাহমুদুর রহমান মান্না সাহেবের ‘গোপন’ ফোন আলাপ শুনলাম।

এ বিষয়ে আমার ভাবনা –

১) ফোনালাপে মাহি বি এর ভয়েজ অনেক অনেক লাউড, মান্না সাহেবের ভয়েজ অনেক লো তাতে মনে হচ্ছে, এই ফোনালাপটা মাহি বি এর ফোন থেকে রেকর্ড করা এবং মাহি নিজে রিলিজ করেছেন। যদি সিক্রেট এজেন্সি এই অডিও ফাঁস করতো, তাহলে দুটো ভয়েজই সমান থাকতো।

২) মাহি বি ওয়াজ প্লেইং ফর দ্য ক্রাউড। কারণ, “জাতীয় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হচ্ছে আপনি ফেঁসে যাচ্ছেন, আমি ফেঁসে জাইতাম আল্লাহ যা করে মঙ্গলের জন্যে করে, আমার আব্বাকে ইনসাল্ট করা হইছে…”- এই আলাপগুলোতে বোঝা যাচ্ছিল – মাহি এইটা ক্রাউডের জন্যে প্লে করছেন।

৩) অনেকের কাছে শুনি মাহি বি খুব স্মার্ট। আমার খুব প্রিয় কয়েকজন বন্ধু যাদের বুদ্ধি প্রজ্ঞাকে আমি খুব রেসপেক্ট করি, তারা পর্যন্ত মাহিবিতে ইম্প্রেসড হয়েছিলাম।

সেগুলো দেখে আমি শকড হয়েছিলাম। কারণ মাহি বি’র যে নিয়ত ভালো না এবং সে যেটা করছে সেটা যে ফেয়ার না, এটা ডে ওয়ান থেকে বোঝা যাচ্ছিল।

এই ধরনের জ্ঞানী মানুষকে মাহি যখন কনফিউজড করছে আমি ভাবছিলাম না, লোকটা খুব স্মার্ট।

৪) কিন্ত নিজের ফাঁস করা ফোনালাপে যা শুনলাম তাতে লোকটাকে নাইভ মনে হয়েছে।

কারণ তিনি একবার বলছেন তাদেরকে বের করে দেয়া হয়েছে আরেক বার বলছেন আমরা বেঁচে গ্যাছি, আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল।

ফলে যখন তিনি ক্রাউড প্লে করছেন করছেন তখন তিনি দেখাচ্ছেন না, জামাত প্রশ্নের কারণে আমরা বের হয়ে গ্যাছি, যেটায় তাঁর ইজ্জৎ এবং পলিটিকাল কারেন্সি থাকে। বরং তিনি নিজের ফাঁস করা ফোনালাপে বলে দিচ্ছেন আমাদেরকে বের করে দেয়া হয়েছে, ষড়যন্ত্র করে।

ফলে আগামীতে তিনি যখন বলবেন বিএনপি তাদের দাবী না মানার কারণে তারা বের হয়ে গ্যাছে, এইটা আর টিকবে না। সবাই বলবে, তোমাদেরকে তো বের করে দেয়া হয়েছে। ঘরে ঢুকতে দেয়া হয় নাই।

মাহির কথায় মনে হয়েছে, তিনি স্বপ্নেও ভাবেন নাই এমন একটা কিক খাবেন।

৫) মাহি বি’র কথায় মনে হলো, ব্যারিস্টার মইনুল এবং বিএনপি লিডারশিপ রোল প্লে করছে। এবং সে যেইভাবে প্ল্যান করছিলেন, সেইটা ধুম করে চেঞ্জ হয়ে গ্যাছে এবং তিনি শকড।

৬) আওয়ামী শিবিরের প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হচ্ছে, তারাও শকড। এতোদিন তারা আশা করেছিল, তাদের প্লান্ট করা জিনিশ ভেতর থেকে সব কিছু নষ্ট করে দেবে। ফলে, এতোদিন তারা রিলাক্সড ছিল। কারণ সিস্টেম তাদের সাজানো নিয়মে চলছিল। কিন্ত মাহির কিক আউট হওয়াতে তাদের গেম প্লান নষ্ট হয়ে গেলো।

এখন যেহেতু তাদের প্ল্যান্ট করা ক্যান্সার সরিয়ে দেয়া হলো, আওয়ামী লীগ এখন অনেক কন্সারন্ড।

এতো দিন তারা প্যাসিভ ছিল, এখন তারা প্যাসিভ থাকবেনা।

আগামী কয়েকদিনে আওয়ামি লীগ মুভ করবে। কী করবে জানিনা, লেটস ওয়েট এন্ড সি।

৭) মান্না সাহেবের কথার টোন রেস্পন্স দুর্বল। অবশ্যই তারা একটা জোট করেছেন যুক্তফ্রন্ট এবং সেই জোট আলাপ না করে ভেঙ্গে আসাটা খারাপ দেখায়। কিন্ত তারপরেও মনে হচ্ছে, পাওয়ার ডাইনামিক্সে তিনি দুর্বল পক্ষ।  মনে হচ্ছে, উনি এখনো আশা রাখেন বি চৌধুরী জোটে ফিরবেন।

এমনভাবে ব্যাক স্টেবিং যে করে যাচ্ছে তার ভাষা এবং ইন্টেন্ট তিনি বুজতে পারছেন না এবং উনি যেভাবে রেসপন্স করছেন, আমতা-আমতা করছেন তাতে তিনি ইন্ডিপেন্ডেন্টদের মধ্যে এতোদিন উনার যে ভাবমূর্তি তৈরি করেছেন সেটায় আঘাত ফেলবে। উনাকে এটা রিবিল্ড করতে হবে।

৮) পুরো ঘটনায় একটা ইন্ডিপেন্ডেন্ট লোকও মাহির পক্ষে নেই। প্ল্যান বি ফেসবুক পেজের একটা কমেন্টে চরম বিনোদন দেখতে পেলাম। কারুর মন খারাপ থাকলে মন ভালো হয়ে যাবে কমেন্ট পড়লে। একজন লিখেছেন,

“একটা ইউনিয়নে মেম্বার হওয়ার ক্ষমতা যার নাই সে কীভাবে ভাবে, সে ১৫০টা সিট নেবে একটা জাতীয় দলের কাছ থেকে!”

এইটা বেসিক্যালি আনফেয়ার একটা চিন্তা। এবং মানুষ বেসিক্যালি ফেয়ার। সো আওয়ামী লীগের লোক বাদে কেউ তাকে পছন্দ করছিল না।

৯) আমার ধারনা ছিল, ডক্টর কামাল হোসেন জেন্টেলম্যান। ভিলেজ পলিটিক্স বুঝেন না। কিন্ত মাহি যেটা খেলছিল, সেটা ছিল নোংরা ভিলেজ পলিটিক্স। এবং মাহির সাথে উনি পারবেন না।  কিন্ত ডক্টর কামাল হোসেন এইভাবে বাসায় ডেকে এনে দরোজা না খুলে যে সবার সামনে বি চৌধুরীদের কিক-আউট করবেন সেটা উনার কাছে প্রত্যাশা করি নি।

কিন্ত স্যাড রিয়ালিটি হচ্ছে, মাহি বি এবং বি চৌধুরীর এই ধরনের একটা গদাম দরকার ছিল। সেই ধরনের একটা আনজেন্টেলম্যান টাইপ জিনিশ যে ডক্টর কামাল করতে পেরেছেন, তার জন্যে উনার ওপর আশা একটু বেড়ে গেলো।

১০) কয়েকদিন আগে দারুণ একটা ইউটিউব ভিডিও দেখছিলাম সেখানে একজন অরগানাইজেশানাল বিহেভারের এক্সপার্ট লোক বলছিল,

“পলিটিক্স লিডারশিপ অরগানাইজেশান কালচার টিম বিল্ডিং এই গুলো নিয়ে অনেক থিয়োরি আছে, অনেক বই আছে। কিন্ত কোন বইয়ে একটা কথাও নাই। সেটা হচ্ছে, কিছু কিছু মানুষ আছে, যারা অসৎ এবং ক্ষতিকর।  কোন টিমে এরা যদি সব কিছু ধ্বংস করতে থাকে, তবে কোন ধরনের থিয়োরি কাজে আসবেনা”।

মাহি বি সেই ধরনের একটা লোক ছিল। আগামী ইলেকশানে যাই হোক, ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াই-এ যাই-ই হোক, ঐক্যে প্রক্রিয়া যাই-ই হোক – এই জাতির ভাগ্য ভালো আমাদের পলিটিকাল সোপ অপেরা থেকে এই ধরনের একটা ধুরন্দর অসৎ লোক দূর হলো।

গুড রিডেন্স।

জিয়া হাসান এর ব্লগ   ৩৫৪ বার পঠিত