জিয়া হাসান
ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, ফটো: Wikimedia

স্যার,

সালাম নিবেন। আপনাকে অনেক শ্রদ্ধা করি। আপনার আর আপনার ভাই এর বই পড়ে আমরা বড় হয়েছি। আজকে আপনি আমাদের কাছে জাতির বিবেক এর মতো। তাই দুঃসাহস নিয়ে কিছু কথা যদি বলে ফেলি, তাহলে সেটা নির্বোধের ভুল মনে করে মাফ করবেন আশাকরি। কিছুদিন আগে ‘তোমরা যারা শিবির কর‘ নামে আপনার একটা লেখা প্রথম আলোতে ছাপা হয়েছে। আপনার লেখাটা নিয়ে চারদিকে অনেক আলোচনার জন্ম নিয়েছে। এটি বোঝা যায় যারা শিবির করে,  তাদের প্রতিক্রিয়া দেখে। ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে শিবিরভক্ত একটা ছেলে আপনার লেখার বিরুদ্ধে, ‘তোমরা যারা ছাত্রলীগ কর‘ বলে একটা লেখা লিখে গণধোলাই খেয়েছে বলেও শুনতে পেয়েছি।

আপনাকে আমরা এই জাতির বিবেক হিসেবে দেখি। এবং আপনার এই লেখাটা অনেকটা যুগ সন্ধিক্ষণে একটা লেখা। কারণ এখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। বিচারে রায় যেটাই হোক বেশিরভাগ যুদ্ধাপরাধী আগামী দশ বছরে হয় ফাঁসি খেয়ে, নয় কারাগারে নয় বাংলার মানুষের ঘৃণা সয়ে মরে যাবে, তাদের আয়ু ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে। তখন বাংলার মাটি হবে যুদ্ধপরাধীমুক্ত। কিন্তু তখন রয়ে যাবে শিবির। এই শিবিরকে আমরা কী দৃষ্টি ভঙ্গিতে দেখব, আপনার লেখায় তার একটা দর্শন পাওয়া যায়। তাই আপনার লেখাটিকে, শুধুমাত্র ছাত্র শিবিরিয় এঙ্গেল থেকে নয় আরো বিবিধ এঙ্গেল থেকেও পর্যালোচনা করা উচিত।

নতুন পৃথিবীর সোসিয়াল অর্ডার

স্যার, আপনার লেখার সবচেয়ে ইম্পর্টেন্ট পার্টটা ছিল আমার কাছে তৃতীয় অংশটা যেখানে আপনি লিখেছেন –

“আজ থেকে কয়েক যুগ আগেও এই পৃথিবী যেরকম ছিল, এখন সেই পৃথিবী নেই। এই পৃথিবী অনেক পাল্টে গেছে। নতুন পৃথিবী তালেবান বা লস্কর-ই-তাইয়েবার পৃথিবী নয়। জামায়াতে ইসলামী বা শিবসেনার পৃথিবীও নয়। নতুন পৃথিবী হচ্ছে মুক্তচিন্তার পুরোপুরি অসাম্প্রদায়িক একটা পৃথিবী। এই নতুন পৃথিবীর মানুষেরা অসাধারণ, তারা একে অন্যের ধর্মকে সম্মান করতে শিখেছে, একে অন্যের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যকে উপভোগ করতে শিখেছে, একে অন্যের চিন্তাকে মূল্য দিতে শিখেছে। এই নতুন পৃথিবীতে মানুষে মানুষে কোনো বিভাজন নেই। দেশ-জাতির সীমারেখা পর্যন্ত ধীরে ধীরে উঠে যাচ্ছে।

তাই এই নতুন পৃথিবীতে যখন কেউ ধর্ম দিয়ে মানুষকে বিভাজন করে রাজনীতি করতে চায়, পৃথিবীর মানুষ তখন তাকে পরিত্যাগ করে। জামায়াতে ইসলামীর মতো বা শিবসেনার মতো রাজনৈতিক দল তাই হচ্ছে বাতিল হয়ে যাওয়া রাজনৈতিক দল—নতুন পৃথিবীতে এই দলগুলোর কোনো ভবিষ্যৎ নেই ।”

এই  লাইনগুলো আমাকে ব্যাপক চিন্তার মধ্যে-ফেলে। আসলে কী সম্ভব স্যার? যেইখানে ধর্ম মানুষের এত বড় একটা চেতনা সেইখানে এইটা কি সম্ভব যে ষোল কোটি মানুষের মধ্যে  কেউ তার রাজনৈতিক চেতনায় তার ধর্মীয় বোধগুলোর প্রতিফলন দেখতে চাইবে না?

আর আপনি যে সোসিয়াল অর্ডারটা গড়তে চাচ্ছেন সেটা কি পৃথিবীতে কোথাও হয়েছে, যে দেশে সবাই সেক্যুলার, সবাই মুক্তচিন্তার পথিক, সবাই প্রগ্রেসিভ, কোন ধর্মীয় মৌলবাদী নাই, সাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ নাই?

আজকে আমাদের বাস্তবতা হচ্ছে, অধিকাংশ গোঁড়া ধর্মীয় মৌলবাদী ধরনের লোকজন হয় জামাত শিবির করে, নয় তাদের প্রতি সিম্পেথেটিক। কারণ তারা মনে করে জামাত বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মের স্বার্থ রক্ষা করে। যদিও বাংলাদেশে আরও অনেক ইসলামী দল আছে কিন্তু ধর্মভিত্তিক মুল দলটি জামাত এবং শিবির। একদিকে তাদের যুদ্ধাপরাধ অন্য দিকে মউদুদি ভাবনা ও গোঁড়া সাম্প্রদায়িকতার দোষ – এই দৃষ্টিকোণ থেকে আপনি জামাত শিবিরসহ সকল সাম্প্রদায়িক শক্তিকে বর্জন করেন।

আপনি আমাদের জাতির বিবেক। আপনি এবং আপনিসহ আরো অনেকের থেকে মরাল সাপোর্টটা পেয়ে আওয়ামী লীগ এর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যে আহবান জানিয়েছেন যেখানেই শিবির সেখানেই প্রতিরোধ করতে। তিনি ছাত্রলীগকে পুলিশ এর সাথে হাত মিলিয়ে শিবির নিধনে নামার আহ্বান জানিয়েছেন।

ফলে গত দুই মাস ধরে যেখানে ছাত্র শিবির মিছিল করতে গেছে, পুলিশ তাদেরকে বাধা দিয়েছে। এবং শিবির অনেক জায়গায় পুলিশ পিটিয়েছে, এবং পুলিশ এর অস্ত্র পর্যন্ত কেড়ে নেয়ার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। অন্যদিকে শিবির সন্দেহে একজন পথচারীকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে মারার দৃশ্য আমরা দেখেছি টিভিতে যা নিয়ে সোস্যাল মিডিয়া গরম আছে অনেকদিন ধরে।

দৃশ্যতই দেশ অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে এবং এই ঘাত প্রত্যাঘাত কোথায় থামবে তা কেউই বলতে পারবেনা।

 

ফ্রিডম অফ স্পিচ আর ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন ও পরমত সহিষ্ণুতা

কিন্তু আমার কাছে একটা জিনিস মনে হয়েছে। আপনি দুইটা ওয়ার্ড লিখছেন মুক্তচিন্তা এবং একে অন্যের চিন্তাকে মূল্য দেয়া যা ওপরের উদ্ধৃতিতেই আছে। আমি তার সাথে আর একটা ভাবনা যোগ করতে চাই তা হল ফ্রিডম অফ স্পিচ আর ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন।  আমরা জানি ধর্মীয় মৌলবাদ ফ্রিডম অফ স্পিচ আর ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন  সহ্য করতে পারেনা। ধর্মীয় মৌলবাদীরা চায়, আমাদের উপর খুব গোঁড়া কিছু ধর্মীয় অনুশাসন চাপিয়ে দিতে যার ফলে দেখা যাবে তাদের নিয়মে চললে আমরা আর গান করতে পারবোনা, আমাদের মা বোনেরা আর শাড়ি পড়তে পারবেনা, সবাই কে বোরখা পরে চলতে হবে চাক কি না চাক,  আমরা আর নাটক গান কবিতা সৃষ্টি করতে পারবোনা বা রবীন্দ্রনাথ পড়তে আমাদেরকে বাধা দিবে ওরা।  তাই আমাদের ফ্রিডম অফ স্পিচ আর ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন কে রক্ষা করার জন্যে গোড়া মৌলবাদ কে ঠেকানোর খুব জরুরী।

এই সাথে স্যার আপনার এও কি মনে হয়না, এই যে শিবির বা এই যে মৌলবাদী দল জামাত আমরা যাদেরকে মিছিল করতে দেখলেই পুলিশ দিয়ে পিটানো জায়েজ মনে করছি- আমরা তাদের ফ্রিডম অফ স্পিচ আর ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশনে বাধা দিচ্ছি এবং তাদের চিন্তা করার অধিকার এর সাথে ব্যাপক অসহনশীলতা দেখাচ্ছি?

রাষ্ট্রের কাছে ফ্রিডম অফ স্পিচ আর ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন আর লিবার্টি এই ভ্যালুগুলো  আবসলিউট এবং ইন্ডিসপোসেবল জিনিশ হওয়া উচিত। যেই রাষ্ট্র প্রগেসিভ এবং লিবারেল সেই রাষ্ট্রকে এই ভ্যালুগুলোকে সব ধরনের পলিটিকাল কারেক্টনেস এর ওপরে স্থান দিতে হয়।

এই কথাটা বোধ হয় ভলতেয়ার বলেছে,

“আমি তোমার সাথে একমত না হতে পারি, কিন্তু তোমার মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্যে আমি আমার জীবন দিতে পারি। “

আজকে স্যার, আপনার কাছে প্রশ্ন, এই ভ্যালুগুলো কি শুধু মাত্র প্রগ্রেসিভ, সেকুলার বা লিবারেলদের জন্যে প্রযোজ্য? এই টা কি একজন গোঁড়া ধর্মীয় মৌলবাদী শিবির এর জন্যে প্রযোজ্য নয়? আমাদের সংবিধান তো বলে, রাষ্ট্র তার প্রতি নাগরিক এর এই অধিকার নিশ্চিত করবে যতক্ষণ না পর্যন্ত না সে দেশের প্রচলিত আইন ভাঙছে বা সন্ত্রাসকে উস্কানি দিচ্ছে বা সন্ত্রাসে অংশ নিচ্ছে।

যদি আমরা তাদের এই মত প্রকাশের জায়গা না দিই, তাহলে বিপদটা কোথায়? বিপদটা হচ্ছে, সুযোগটা না দিলে হয়ে যাবে চরমপন্থী।  তারা বোমা ফাটাবে, রাস্তা ঘাটে গাড়ি পোড়াবে। এইটা তো কাম্য নয়।

এইটা খুব কমন হিউমেন বিহেভিয়ার যে , যার আর কোন উপায় থাকেনা সে তখন টেররিজম এর দিকে আগায়। আর আপনি যদি ওদেরকে একটা ব্রিদিং স্পেস দেন, মত প্রকাশের জায়গা দেন তখন আমরা ওদেরকে সামাজিকভাবে  মুখোমুখি হয়ে মোকাবেলা করতে পারি, যুক্তি দিয়ে ওদেরকে বোঝাতে পারি, আমাদের দেশের সামগ্রিক স্বপ্নের সাথে মিলিয়ে এদেরকে দেখাতে পারি যে তারা যা করছে তা দেশের জন্যে ক্ষতিকর এবং তাদের অনেক ভাবেই ডি মোটিভেট করতে পারি।

 

আমরা ভীত নই

গত ১৫ বছরে প্রথম আলো পত্রিকার নেতৃত্বে মৌলবাদ এর বিরুদ্ধে যে ফাইট দেয়া হয়েছে সেই ফাইটটা অনেকটাই সফল। আমরা মুসলমান দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম রেডিকালাইজড কান্ট্রি। আজকে মালয়েশিয়া ইন্দোনেশিয়াসহ যে কোন দেশের সাথে তুলনা করলে আমাদের সমাজে ধর্মীয় এক্সট্রিমিজম সবচেয়ে কম। কারণ আমাদের অনেক বড় একটা শক্তি হচ্ছে  আমাদের ভেতরে হাজার ধরে প্রোথিত বাঙালি জাতিসত্তা।

আজ ষোল কোটি মানুষের দেশ থেকে আপনি সব মৌলবাদী, বা জামাত সিম্পেথইজারদের সম্পূর্ণ দূর করে দিবেন সেই চিন্তা করাটা বোকামি।  তবুও বলা যায়, আমাদের রিস্ক এখন অনেক কম। কারণ, আমাদের দেশের মিডল ক্লাসকে একটা লো ডোজ লিবারেল আইডিয়া খাওয়ানো হয়েছে প্রথম আলোর নেতৃতে প্রায় ১৫ বছর ধরে। আশির দশক থেকে শুরু করে ৯০ দশকের শেষ পর্যন্ত ছাত্র শিবিরের ব্যাপক কার্যক্রম ছিল। হাজার হাজার ছাত্রকে তারা ব্রেইন ওয়াশ করেছিল, তখন কেউ তাদের আইডিয়াকে কন্টেস্ট করেনি। কিন্তু বিংশ শতকের প্রথম দশকে এসে আমরা দেখছি শিবিরের প্রভাব অনেক কমে আসছে। বাংলাদেশের মানুষ ওদের ভণ্ডামি বুঝতে পারছে। এমনকী বি,এন,পি’র দ্বিতীয়বার সেশনেও জামাত ক্ষমতায় থাকা সত্বেও তারা সামাজিকভাবে তাদের সাম্প্রদায়িক মুভমেন্টকে তেমন এগিয়ে নিতে পারে নাই। অন্যদিকে দেখা যায়, বিংশ শতকের শুরু থেকে  প্রচুর মানুষ তাবলীগ জামাত এর দিকে ঝুঁকে পড়ে। কারণ মানুষ তাদের ধর্মীয় চেতনাকে প্রকাশ করতে চায়। ফলে মানুষ যখন দেখে যে জামাত শিবির আসলে ভণ্ড তখন তারা অন্য একটা নন পলিটিসাইজড ইসলামিক এক্টিভিজম এর পথ খুঁজে নেয়।

আমি তাই এখন সোসাইটিতে তেমন কোন জামাত দেখিনা, শিবির দেখিনা।  কিন্তু, সাধারণ মুসলমান বাদে প্রচুর তাবলীগ জামাত দেখতে পাই। শিবিরের সে প্রভাব আর নেই। কারণ এখন মানুষ প্রশ্ন করতে শিখছে। যুক্তি দিয়ে ওদেরকে মোকাবেলা করা হচ্ছে।

 

যখন মুক্তমনারা নেয় ফ্যাসিবাদীর ভুমিকা

কিন্তু আজকে দেখা যাচ্ছে আপনার এবং আপনার মতো অনেকের কাছ থেকে নৈতিক সমর্থন পেয়ে সরকার চলে গেছে সম্পূর্ণ ফ্যাসিবাদী ভূমিকায়।  বলা হচ্ছে  তাদেরকে যেখানে দেখবে সেখানেই মার দিতে হবে। ছাত্রলীগ লেলিয়ে দেয়া হচ্ছে,  তাদেরকে রাস্তায় নামলেই পেটানো হচ্ছে। ধর্মীয় বইসহ পেলে, জঙ্গিবাদী বইসহ পাওয়া গেছে বলে মামলা দিয়ে দেয়া হচ্ছে, যে কোনো  অজুহাতে দাড়ি ওয়ালা লোকদের পুলিশ ধরে নিয়ে জঙ্গী সিল মেরে দিচ্ছে।

সরি স্যার। এই সোসাইটি আমরা চাই নাই। এইটাকে আমরা মুক্তবুদ্ধি বলিনা। ধর্মীয় কুপমণ্ডুকতার মত এইটাও হইল সেকুলার কূপমণ্ডূকতা।

এবং আপনি যদি এই ভ্যেলুগুলোকে রক্ষা না করেন তখন ওদের দিন যখন আসবে ওরা বলবে, আমরা যখন শুধুমাত্র রাস্তায় মিছিল করার অপরাধে মার খেয়েছিলাম তখন কোথায় ছিল তোমাদের  ফ্রিডম অফ স্পিচ আর ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন?

ইস্যুটা হচ্ছে, জাতির বিবেক হিসেবে আপনাকে ফেয়ার হতে হবে, এবং  রাষ্ট্রকে ফেয়ার হতে হবে। রাষ্ট্র বায়াস হতে পারেনা। স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি বলে শিবির এর ছেলেদের রাস্তায় দেখলেই মার দিতে হবে, পুলিশ দিয়ে পিটাতে হবে, স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হলেই ছাত্রলীগ এর সোনার ছেলেরা কুপিয়ে মানুষ মেরে ফেলতে পারবে, সেইটা কখনো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হতে পারেনা।

গত কিছুদিন আগে, ছাত্রলীগ এর জান্তব শিবির নিধন উৎসবে বিশ্বজিত এর মতো নিরপরাধ পথচারীকে বার বার বলতে হয়েছে ‘আমি হিন্দু আমি শিবির না‘। কিন্তু সেটা বলেও বিশ্বজিত চাপাতি লীগ এর ছুরির হাত থেকে মুক্তি পায় নাই।

স্বাধীনতা যুদ্ধের বিখ্যাত একটা  ছবিতে আমরা দেখেছি, একজন পাক সেনা একজন মানুষের লুঙ্গিকে খুলে দেখছে সে হিন্দু না মুসলিম।

বিশ্বাস করুন, ওই ছবিটা আর বিশ্বজিতের রক্তাক্ত শরীরে তার আমি হিন্দু বলে আকুতির সাথে তেমন কোন পার্থক্য নেই।  আজ এমন বাংলাদেশ আমরা চাইনা যেখানে আবার লুঙ্গি বা প্যান্ট খুলে আমাদের প্রমাণ করতে হবে, আমরা হিন্দু কী হিন্দু নই বা দাড়ি কেটে কোন নিরপরাধ ধার্মিক মুসলমানকে প্রমাণ করতে হবে, সে শিবির কী শিবির নয়।

 

ধর্ম আর রাষ্ট্রের বিভাজন

হ্যাঁ একটা জায়গা আছে,  যেখান থেকে আপনি বলতে পারেন যে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি শেষ পর্যন্ত কূপমণ্ডুকতা সৃষ্টি করে এবং মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয় , তাই রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে বিযুক্ত করা বাঞ্ছনীয় ।

আপনার সাথে আমি একমত যে,  রাষ্ট্রের কোনো ধর্ম থাকতে পারেনা। রাষ্ট্র নামাজ পড়েনা, রাষ্ট্র মন্দিরে যায় না। নামাজ পড়ে বা মন্দিরে যায় মানুষ। এবং রাষ্ট্রের প্রধান কর্তব্য, হিন্দু, মুসলমান, চাকমা,মুরং, গোপালগঞ্জ, নোয়াখালী, মুক্তিযোদ্ধা সারটিফিকেটধারীর নাতি-নাতনি এবং সলিমুদ্দিনের পোলা কলিমুদ্দিনসহ সবাইকে একই চোখে দেখা।

একইসাথে রাষ্ট্রের যে মুল দায়িত্ব, রাষ্ট্রের প্রতিটা নাগরিকের সাথে সম ট্রিটমেন্ট করা।

ইতিহাস থেকে আমরা দেখি ইসরায়েল কর্তৃক প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের উপর বর্ণবাদ, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, আফগানিস্তানে তালেবান,  ইরাকে  মার্কিন ক্রিস্টিয়ান মৌলবাদী সমর্থিত হত্যাকাণ্ড হতে শুরু করে অনেক অন্যায় অত্যাচার হয়েছে ধর্মের নাম দিয়ে। তাই রাষ্ট্রের নীতি রাজনীতির সাথে ধর্মের মিলন ঘটানোটা খুব ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে। কারণ ধর্মীয় চেতনা মানুষের খুবই মৌলিক এবং প্রচণ্ড ইনফ্লেক্সিবল একটা বোধ এবং রাষ্ট্র ও সমাজ নিয়ত পরিবর্তনশীল দুইটা এন্টিটি।

তাই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে অনেক দেশ সাংবিধানিকভাবে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ  করে রেখেছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম একটা চেতনাও ছিল রাষ্ট্র থেকে ধর্মের এই বিভাজন।

তাই আমাদের দেশেও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করাটা প্রয়োজন বলে অনেকে মনে করেন।

আবার অন্যদিকে, ধর্ম মানুষকে তার নৈতিকতার একটা ভিত্তি দেয়। সেই নৈতিক ভিত্তি বাদে মানুষ অমানুষ হয়ে ওঠে। তাই, অনেকে রাষ্ট্রের ধর্মহীনতার বিরুদ্ধেও জোরালো যুক্তি দেন। কিন্ত, বিষয়টা সাংবিধানিক। সরকার যদি সাংবিধানিকভাবে, ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে বিযুক্ত করে তবে, জামাতে ইসলামী বা শিবির যেমন রাজনীতি করতে পারবেনা ওলামা  লীগ বা ইসলামী ঐক্য।  এবং আপনাদেরকে শিবির ফোবিয়া বন্ধ করতে হবে।

আজকে তাই ধর্মীয় রাজনিতি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে তর্ক বিতর্ক হতে পারে। এইটা অনেক জটিল থিওলজিকাল একটা বিতর্ক যেইটা আপনারা কখনো করেন না।

কিন্তু, যতোক্ষণ পর্যন্ত ধর্মভিত্তিক রাজনীতি অবৈধ না করা হচ্ছে, ততোক্ষণ পর্যন্ত রাষ্ট্রকে জামাত শিবিরের ফ্রিডম অফ স্পিচ আর ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন এর অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এইটা  আপনার কথিত ‘মুক্তচিন্তা‘ এবং ‘একে অন্যের চিন্তাকে মূল্য দেয়ার‘ একটা দায়।

প্রশ্ন হল- আপনাদের নৈতিক আদর্শের ধ্বজাধারী সরকার তো এখন  ব্রুট মেজরিটির সংসদ চালাচ্ছে। এই সংসদে কন্সটিটিউশনে এমেন্ড করে আমাদের মত গোঁড়া এনারকিক ক্যাপিটালিস্ট দেশকে সোসিয়ালিস্ট বানিয়ে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৩০ মিনিটে।  আওয়ামী লীগ চাইলেই, আজকে সেইটা করতে পারে। এবং সেই গ্রাউন্ডে জামাত শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে পারে। আওয়ামী লীগ এর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেখানে ছাত্রলীগকে শিবির নিধনের আহ্বান জানাচ্ছেন, আপনি যখন কলাম লিখছেন তোমরা যারা শিবির কর -আওয়ামী লীগ এর সৈয়দ বংশের সম্পাদক  তখন বলছেন জামাত শিবিরকে নিষিদ্ধ করার কোন প্লান নেই। ওয়াই দিস কোলাবেরি ডি, স্যার?

যে ক্ষতস্থানে গেংরিন হয়েছে তাকে অপারেশান করে কেটে না ফেলে, কেন আপনি রোগীকে ব্যাথার ওষুধ ক্লফেনাক খাওয়াচ্ছেন?

এইখানেই স্যার আপনাদের হিপক্রেসিটা ধরা পরে যায়। এইখানেই আপনার সাথে জামাতে ইসলামীর ধর্ম ব্যবসায়ীদের কোন পার্থক্য থাকেনা। ওরা ধর্ম বেচার আড়তদার, আপনি হয়ে ওঠেন আড়ং বা নন্দন এর মত সেকুলারিজম বেচার সুন্দর সাজানো ওয়েল ব্রান্ডেড মুদীর দোকান। দুইটার ধান্দা একই, ধর্মকে বেচা। আপনারটা একটু পশ। এই যা।

 

এখন আসে দ্বিতীয় আরগুমেন্টটা

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি যদি নিষিদ্ধ নাও করা হয়,  মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি হিসেবে কী জামাত বা শিবির রাজনীতি করার অধিকার রাখে? সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার পর কি  নাজিরা রাজনিতি করতে পেরেছিল? তাহলে জামাত কেন পাবে? তাদের আণ্ডা বাচ্চা শিবির কেন পারবে?

গুড কোশ্চেন।  তাইলে নিষিদ্ধ করেন না স্যার! নিষিদ্ধ তো আপনারা করছেন না। ওদেরকে নিষিদ্ধ না করে, আপনারা সমস্যাটা জিইয়ে রাখছেন এবং জিইয়ে রাখার পর তারা যখন হৃষ্ট পুষ্ট হয়ে কিছু একটা করছে তখন আপনারা ওই অজুহাতে সমাজকে ডিভাইড করছেন, রাষ্ট্রে একটা কনফ্রন্টেশানাল সিচুয়শানে ঠেলে দিচ্ছেন।

আজ আপনার কাছে প্রশ্ন। কেন করছেন না? কেন আপনার আদর্শে বিশ্বাসীদের উদ্দেশে আপনি লিখছেন না,

তোমরা যারা আওয়ামী লীগ কর, ব্রুট মেজরিটির সংসদে জামাত শিবিরকে নিষিদ্ধ না করলে, তার সকল দায় তোমাদের ওপর আসে। নো  মোর বুলশিটিং।

এই দেশে তো বাংলা ভাই নিষিদ্ধ করা হয়েছে, হিযবুত তাহরির নিষিদ্ধ করা হয়েছে, পূর্ব বাংলা, জনযুদ্ধ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।  ওদেরকে পেলেই ধরা হচ্ছে। আমরা তো তার বিরুদ্ধে কিছু বলছি না। জামাত শিবিরকেও নিষিদ্ধ করুন, আমরা আপনার পাশে দাড়াবো। যেইখানে জামাত, শিবির দেখবো ঠেঙ্গিয়ে পুলিসে দিব।

কিন্তু আপনারা যেটা করছেন তা হল – আপনারা জামাত শিবিরকে কাল সাপ এর মত পালছেন। আবার ওই সাপ দিয়ে ছোবল মেরে শত্রু নিধন করছেন, আবার মানুষকে ভয় দেখাচ্ছেন সাপ, সাপ, পালাও পালাও বলে।  এর পর আবার সাপ এর বিষ এর ভেক্সিন ও বিক্রি করছেন কলাম লিখে। এইটা শুধু ডাবল  স্ট্যান্ডার্ড না, ট্রিপল, কোয়াড্রাপোল স্ট্যান্ডার্ড হয়ে যাচ্ছে।

 

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর এবসোলিউট নয়

আমি জানি স্যার, এতোক্ষণে আপনি এবং আপনার অনুসারীরা আমার বা আমার মত অনেকে যারা এই ধারণাগুলোকে সমর্থন করি তাদের ওপর রেগে মেগে আগুন হয়ে গেছেন। আপনি চিন্তা করছেন।  ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে, আর লক্ষ লক্ষ মা বোন এর ইজ্জত এর বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আমরা প্রশ্ন করছি।

জ্বি স্যার। আমরা সৈয়দ আশরাফ এর নষ্ট প্রজন্ম,  হেলোওইন পালন করে বড় হওয়া প্রজন্ম না মাসুদ রানা, মিসির আলি পরে বড় হওয়া প্রজন্ম। আমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখি নাই, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের কাছে অদ্ভুত একটা ফ্যাসিনেশান যখন সময়ের কিছু সূর্য  সৈনিক, নিজেদের জীবনকে তুচ্ছ করে আমাদের জন্যে বাংলাদেশ নামের এই দেশটাকে জন্ম দিয়েছে। আমরা তাদেরকে নত হয়ে সালাম জানাই।

কিন্তু, যেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আপনারা আমাদের গলার মধ্যে ‘বাবু খাও‘ বলে গেলান সেই চেতনাকে আমরা এখন প্রশ্ন করি। কারণ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নামের এই কুল এইডটাকে এমনভাবে পলিটিসাইজ করা হয়েছে যে এইটা আমরা আর এবসোলিউট হিসেবে মেনে নিতে রাজি না।

চোখের সামনে এই আমাদের খুব কোমল এই ভ্যালুটাকে রেপ হতে দেখতে দেখতে, সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হতে প্রতি দিন লক্ষ লক্ষ অন্যায়ের জন্ম হতে দেখার পরেও  কেন আপনি মনে করছেন যে দেশপ্রেমে বুঁদ হয়ে অন্ধ আর বধিরের মতো আপনারা যা বলবেন তাই বিশ্বাস করবো?  কেন আমরা নিজের চোখ আর কানকে অস্বীকার করবো শুধুমাত্র আপনার মতো বিবেকদের মুখের কথায়।

আপনারা যখন পেপার এ লেখালেখি করেন, ধর্মীয় কুপমণ্ডূকতা নিয়ে, আমাদের অনেকের তখন মনে হয় আপনাদের সুশিলীয়, সেকুলার কূপমণ্ডুকতা নিয়ে লেখাটাও প্রয়োজন।

এই লেখাটা অনেক ভয়ে ভয়ে লিখছি।  এর পর কী ব্যক্তি আক্রমণ শুরু হয়ে যায় সেই ভয়ে। মুক্তচিন্তার পথে ভয় দেখিয়ে বাধা সৃষ্টি করে আরেকটা দল- ধর্মীয় মৌলবাদীরা। ওদের সাথে আপনাদের পার্থক্য এখন মাত্র আরাই ইঞ্চি। সেইটাও দিনে দিনে ঘুচে যাচ্ছে।

 

দেশপ্রেমের সহজ ত্বরিকা ও সময়ের প্রয়োজন 

স্যার, আপনার লেখাটায় আজকে দেশকে ভালোবাসার সাথে আপনি এক করছেন, শহীদ মিনারে যাওয়া, স্মৃতি সৌধে মালা দেয়া, রবীন্দ্র সংগীত গাওয়া আর পয়লা বৈশাখে পান্তা ভাত খাওয়ার সাথে। দ্বিমত পোষণ করার জন্যে দুঃখিত স্যার। এতো সহজে যদি মানুষ দেশপ্রেমিক হয়ে যায় তাহলে দেশের জন্যে ব্যাক্তিগত স্যাক্রিফাইস করবে কে?

আজকে স্যার, আমাদের ডিকশনারি থেকে দেশপ্রেম শব্দটা বরং তুলে দেওয়াই বাঞ্ছনীয়। ওইটা একটা ভুয়া শব্দ। ওই দেশপ্রেমের নামে সব অন্যায়, লুটপাট আর অবিচার করা হচ্ছে ।

দেশকে কে কতো বেশি ভালবাসে আর কে দালাল তা এখন আর কার দেশপ্রেম কতো বেশি সেই উত্তরে নির্ধারিত হবেনা। তা নির্ধারিত হবে সময়ের প্রয়োজনে দেশের প্রতি যার যে কর্তব্য তা কে করছে না করছে সেই উত্তর দিয়ে।

জাহির রায়হান তার সময়ের প্রয়োজনে গল্পে বলেছিলেন ঠিক এই কথা। তারা অস্ত্র ধরেছিলেন সময়ের প্রয়োজনে।

আজ আমাদের সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে, নিজেকে শিক্ষিত করে তোলা, ট্যাক্স দেয়ার সময় সরকার আমার জন্যে কী করছে না জিজ্ঞাস করা , রাস্তায় সিরিয়াল না ভেঙ্গে রঙ সাইড দিয়ে সবাইকে ফেলে সামনে চলে না যাওয়া, ফিক্সড প্রাইস গ্যাস চুলার  আগুন দিয়ে আন্ডারওয়ার না শুকানো, সবাই ঘুষ খাচ্ছে দেখেও নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত রাখা, দুর্নীতি না করা, পরিশ্রম করে মেধা দিয়ে বিশ্ববাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মত যোগ্য মানুষ হয়ে দেশের জন্যে কিছু করা, ভারতীয় সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ থেকে নিজেকে আর নিজের পরিবার মুক্ত করা, তেল গ্যাস রক্ষা কমিটির মিটিং এ গিয়ে সরকারকে দেশের সম্পদ বিদেশীদের হাতে তুলে দিতে বাধা দেয়া।  আজকের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক চেতনা এইগুলো।

এই কাজগুলো যে করে, তার ধর্মীয় বিশ্বাস যদি মৌলবাদও হয় তো সেই যুবক,  যে দেশপ্রেমিক ১৬ ডিসেম্বরে দলবল নিয়ে সৃতিসৌধে ফুল দেয় আর হরতালে  বিশ্বজিতদের মত নিরপরাধ নাগরিকদের টেক্সাস চেইনস মাসাকার এর মত ছুরি দিয়ে কেটে কেটে ফালা ফালা করে তার চেয়ে বড় দেশপ্রেমিক।

আজ আপনি দেশ প্রেমের যে সহজ তরিকা দেখিয়ে দিচ্ছেন, তত সহজেই যদি দেশপ্রেমিক হওয়া যায় তো আর কয় দিন পর আর দেশের জন্যে পারসনাল সেকরিফাইস করার লোক পাওয়া যাবে না, সবাই দেশের পেছন দিক থেকে মেরে দিয়ে, সৃতিসৌধে ফুল দিয়ে, দুই পাতা রবিন্দ্র সংগীত পড়ে দেশপ্রেমিক হয়ে যাবে।

এমন লক্ষ লক্ষ সার্টিফিকেটধারী দেশপ্রেমিক এর ছবি আপনি পেপার খুললেই পাবেন, টিভি খুললেই পাবেন।

এই দেশপ্রেমিকেরা এবং কনফ্রন্টেশনাল রাজনীতি দেশকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে তার একটা ছোট্ট উদাহরন দিই। ভিয়েতনাম ১৯৯৬ সালে তার গৃহযুদ্ধ থেকে বের হয়ে আসে। এই সময়ে তারা আমাদের থেকে অনুন্নত একটা দেশ ছিল। এই ১৮ বছরে তারা তাদের ইলেক্ট্রিসিটি ক্যাপাসিটি ২০০০ গিগাওয়াট থেকে আজ নিয়ে গেছে ২৫০০০ গিগাওয়াটে। বোঝেন তারা কী পরিমাণ এগিয়েছে। আর আমরা একইসময়ে ২০০০ থেকে পৌঁছেছি  ৬০০০ গিগাওয়াটে। দেখেন এই বিভাজনের রাজনীতি আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে! কেন আপনারা আজ আরো বেশি বিভাজন আর বিভক্তি সাজেস্ট করছেন? আমাদের সবার তো আমেরিকার ভিসা নাই স্যার।

সবশেষে আমার বেয়াদবির জন্য আবার ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আপনাকে অনেক  শ্রদ্ধা করি। আপনি জাতির বিবেক। আমাদের অনেকের কাছে নিয়ার পারফেক্ট একটা মানুষ। কিন্তু আপনার চেয়ে বেশি শ্রদ্ধা করি, আপনার বড় ভাইকে, যিনি ভুলে ভরা একটা মানুষ কিন্তু সারাজীবনে হিপক্রেসি করেন নাই।

ভুল ত্রুটি, বেয়াদবি আপন মহানুভবতায় মাফ করে দিবেন। এই আশায়।

জিয়া হাসান।

 

নোট: লেখাটি আজ থেকে ৫ বছর আগে ফেসবুকে নোটে লিখেছিলাম। গুরুত্ব বিবেচনায় লেখাটির কিছু বানান সংশোধন করে ব্লগে পূনঃপ্রকাশ করলাম।

জিয়া হাসান এর ব্লগ   ৫০৫ বার পঠিত