অর্পিতা রায়চৌধুরী

পৃথিবীতে মানুষই একমাত্র প্রাণী যারা পোশাক ব্যবহার করে। ক্ষতিকর পোকামাকড়, বন্য জীব-জন্তু ও প্রতিকূল আবহাওয়ার হাত থেকে নিজেদের সুরক্ষার জন্যই মূলত আদিম মানুষ পোশাকের ব্যবহার করলেও বর্তমানে এই পোশাক লজ্জা নিবারণসহ মানুষের জীবনে অত্যাবশ্যকীয় উপাদানে পরিণত হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এটিকেই প্রথমত কোন মানুষের ব্যক্তিত্বের ধারক ও বাহক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পোশাকের দ্বারাই কোন সমাজের মানুষের মাঝে ধনী-দরিদ্র, উচু-নিচু, হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, নারী-পুরুষ ইত্যাদির লক্ষণরেখা টানা হয়।

কোন দেশ বা অঞ্চলের ভৌগলিক আবহাওয়ার উপর ভিত্তি করেই মূলত সে দেশ বা অঞ্চলের পোশাকের ধরন গড়ে উঠে। যেমন, শীতপ্রধান দেশগুলোতে নিম্ন তাপমাত্রার হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রচুর উষ্ণ জামা-কাপড় পরতে হয়, আরব দেশগুলোতে উচ্চ তাপমাত্রা থেকে শরীরকে রক্ষা করতে গলা থেকে পায়ের গোড়ালি অবধি লম্বা জোব্বা নামক পোশাক পরিধান করতে হয়। আবার নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাকই ব্যবহার করা হয়।

পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হয়। সেটি হলো পরিধেয় পোশাকটি যেন আরামদায়ক হয়। তা যেন চলাফেরা, কর্মক্ষেত্র ও প্রাত্যহিক জীবনে কোনরকম বাধার সৃষ্টি না করে।

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে বাংলাদেশের মতো নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া সম্পন্ন দেশে মেয়েদের বোরখা, হিজাব বা ওড়নার মতো এতো অধিক ও অপ্রয়োজনীয় পোশাক পরিধান করার কারণ কী?

এর উত্তর একটাই, এই দেশের মানুষের ধর্মীয় গোড়ামী এবং প্রকৃত শিক্ষার অভাব।

কোন দেশ বা অঞ্চলে নারীদের পোশাকই অনেকাংশে প্রমাণ করে সে দেশের মানুষ কতোটা প্রগতিশীল, কতোটা শিক্ষিত, সে দেশের নারীরা কতটা স্বাধীন। কারণ যে জাতি শিক্ষার দিক থেকে যতো পিছিয়ে, সে জাতি ততো বেশি ধর্মান্ধ, কুসংস্কারাচ্ছন্ন, পুরুষতান্ত্রিক এবং নারীদের প্রতি বিদ্বেষী মনোভাবাপন্ন।

আমরা যদি মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন ইসলামি রাষ্ট্রের দিকে দৃষ্টিপাত করি তাহলে দেখতে পাই সেসকল ধর্মান্ধ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন দেশগুলোতে নারীদের পোশাকের ব্যপারে রয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ।

শরিয়া আইনের দ্বারা চালিত সকল দেশেই নারীদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত বোরখা নামক এক কালো কাপড়ের আচ্ছাদনে নিজেদের ঢেকে রাখতে হয়। নারীদের পায়ের নগ্ন গোড়ালি দেখলেও সেসব দেশের পুরুষের যৌনানুভূতি সপ্তমে চড়ে যায়, ধর্ষণের কামনা জাগে।  বাংলাদেশের মতো একটি অপার সম্ভাবনাময় দেশও আজ সেই পথেই হাটছে।

দূর্নীতিপরায়ন দূর্বল রাষ্ট্রকাঠামো, আইনের শাসনের ঘাটতি, ধর্মীয় গোড়ামী, ক্ষমতার অপব্যবহার, ভুলেভরা শিক্ষাকাঠামো, দারিদ্রতা ও পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থার যাতাকলে প্রতিনিয়তই পিষ্ঠ হচ্ছে এ দেশের নারীরা।

অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হয় এদেশের নারীদের পোশাকে আমি স্বাধীনতার ছিটেফোটাও দেখিনা, দেখিনা নারী-পুরুষের সম-অধিকারের কোন ছাপ। এদেশে পোশাক মানুষকে ধনী-দরিদ্র, উঁচু-নিচু, নারী-পুরুষের ক্যাটাগরিতে ফেলার পাশাপাশি আরেকটি প্রধান যে ক্যাটাগরিতে ফেলে সেটি হলো ‘ভালো’ এবং ‘মন্দ‘ ক্যাটাগরি। পুরুষশাসিত, ধর্মান্ধ বাঙালিসমাজ এই ক্যাটাগরিটি মূলত নারীদের জন্যই বিশেষভাবে তৈরি করেছে।

চলতি বছরে প্রথম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ের বারো নম্বর পৃষ্ঠার বর্ণপরিচয় অধ্যায়ে তে ওড়না চাই‘ এর সংযোজন তারই প্রমাণ বহন করে।

নব্বই শতাংশ মুসলিমের দেশে নারীদেরকে নিজেদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত ঢেকে রাখতে হবে এটাই এখন এদেশের অলিখিত নিয়ম। নিজেদের সু্রক্ষা, ধর্মের বিধান আর বেহেস্ত লাভের চাবিকাঠি মনে করে নারীরাও পুরুষের নিয়মমাফিক করে দেওয়া একের পর এক অনাবশ্যকীয় পোশাক গায়ে চাপিয়েই চলেছে। সেটা তাদের দরকার থাকুক অথবা নাই থাকুক।

এদেশের মানুষ কোন মেয়ে শিশু শৈশব থেকে কৈশোরে পা দেওয়ার পূর্বেই কীভাবে গায়ে পরিমিত পোশাক থাকা সত্যেও ওড়না দিয়ে নিজের শরীর ঢেকে রাখতে হয় সেই শিক্ষা দিতেই ব্যস্ত হয়ে উঠে।

ওড়না মূলত এক ফালি কাপড়ের টুকরা যা দিয়ে নারীর স্ফীত স্তন ঢেকে রাখার কাজে ব্যবহৃত হয়।

প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে কি বাঙালি নারীরা নিজেদের স্তন উদোম রাখে?

মোটেই না।

এদেশের নিয়মানুসারে কোন মেয়ে সালোয়ার-কামিজ, বোরখা,জিন্স-ফতুয়া, সেসব পোশাকের ভেতর অন্তর্বাস, সেমিজ সে যতো কাপড়ই পরুক না কেন, ওড়না তাকে অবশ্যই পরতে হবে। শুধু পরলেই হবেনা, টোয়েন্টি ফোর সেভেন আওয়ারই নিজের বুকের ওপর তা জড়িয়ে রাখতে হবে, যে কোন রকম প্রতিকূল পরিবেশেও একটুও এদিক-সেদিক হতে দেওয়া যাবেনা। নইলে এই সমাজে তাকে দেওয়া হবে নানান রকমের উপাধি। সেগুলো মোটেও ভাল কোন উপাধি নয়, কী উপাধি, তা আমরা সকলেই জানি।

আমাদের দেশে যেখানে ওড়না নামক কাপড়ের টুকরাটাকে নারীর জন্য অত্যাবশ্যক বানিয়ে ফেলা হয়েছে সেখানে একবারও এটা ভেবে দেখা হচ্ছেনা এটা আদৌ নারীর প্রয়োজন বা নারীর জন্য কমফোর্টেবল কীনা। ওড়না নামক কাপড়ের টুকরোটাকে আমার বাংলাদেশের আবহাওয়ার সাথে কখনই মোটেও মানানসই মনে হয় নি। এবং আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি তা প্রাত্যহিক জীবন, কর্মক্ষেত্র, রাস্তা-ঘাট, বিশেষত যানবাহনে চলাচলের সময় নানানরকম বিঘ্ন সৃষ্টির পাশাপাশি ঘটিয়ে চলেছে সমূহ বিপদ। যে একফালি কাপড়ের টুকরোকে নারীর সম্ভ্রমের সাথে তুলনা করা হচ্ছে, সে ওড়না যানবাহনে চলাচলের সময় একটু অসাবধান হলেই যানবাহনের (ইজিবাইক, রিকশা, অটো-রিকশা, ভ্যানগাড়ি, সিএনজি, পিক-আপ ভ্যান ইত্যাদি) চাকায় জড়িয়ে নারীর মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনছে। অথচ ওড়না যে নারীর সম্ভ্রম নয়, নারীর মরণফাদ; সে চিন্তা কারোর মাথাতেই ঢুকছেনা।

হ্যা, ওড়না নারীর সম্ভ্রম নয়; নারীর মরণফাদ

আমার এই কথা শুনে বেশিরভাগ বাংলাদেশিই হয়তো হাসবেন। কথাটা যে মোটেও হাস্যকর নয় তার জন্য ওড়নার দ্বারা সঙ্ঘটিত চলতি বছরের মাত্র কয়েকটা মৃত্যুর সংবাদ উল্লেখ করলাম,

০১। কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে ইজিবাইকে ওড়না পেচিয়ে বেগম ফখরুন্নেছা (৬৫) নামের নারীর মৃত্যু।- ০৭-০৪-২০১৭/হাওরবার্তা২৪ডটকম

০২। নোয়াখালী পৌরসভার সোনাপুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাকার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লেগে নাজমুন নাহার রাহা (১৮) নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু।- ০৪-০৪-২০১৭/ দিনাজপুর২৪.কম

০৩। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী-মঠখোলা সড়কে বেতাল নামক স্থানে অটো রিকশার চাকায় ওড়না পেচিয়ে ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী পূর্নিমা বর্মন পিংকি (১৩) নিহত।- ০৪-০৪-২০১৭/সংবাদপ্রতিক্ষণ.কম

০৪। বরিশালের বাবুগঞ্জে ওটোরিকশার চাকার সঙ্গে ওড়না পেচিয়ে জান্নাত(২১) নামের তরুণীর মৃত্যু ।-২৩-০৩-২০১৭/আমাদের বরিশাল/amadebarisal.com

০৫। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে ডলি বেগম(৫০) নামের নারীর মৃত্যু।-১৯-০৩-২০১৭/sonarbangla71.com

০৬। নোয়াখালীতে ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সার চাকায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে নাজমুন নাহার রাহা নামে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু।- ০৪-০৩-২০১৭/SATV

০৭। দোহার উপজেলায় ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে নাসিমা আক্তার (২৭) নামে গৃহবধুর মৃত্যু। ১৬-০২-২০১৭/টাইমওয়াচ/timewatch.com

০৮। ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ইজি বাইকের চাকায় ওড়না পেচিয়ে রানু আক্তার নামের (৮০) বৃদ্ধার মৃত্যু।- ২০-০১-২০১৭/ টাইমটাচনিউজ

০৯। কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সার চাকার সঙ্গে ওড়না পেচিয়ে শরীফা বেগম (২৫) নামের গৃহবধূর মৃত্যু।- ১৩-০১-২০১৭/ দৈনিক জাগরণ

১০। বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় ব্যাটারিচালিত ভ্যানের চাকায় ওড়না পেচিয়ে শামসুর নাহার (৩৫) নামের নারীর মৃত্যু।– ১২-০১-২০১৭/ রাইজিংবিডি

১১। বরগুনার সোনাখালি এলাকায় অটোরিকশার চাকায় ওড়না পেচিয়ে লুনা নামে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু।–০২-০১-২০১৭/বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ তো মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি মৃত্যুর কথা উল্লেখ করলাম। এরকম অসংখ্য ঘটনা অহরহই ঘটছে। এধরনের দুর্ঘটনার সকল খবর মিডিয়াতে না আসলেও সংবাদপত্রের পাতা উল্টালে প্রায় প্রতিদিনই এরকম অসংখ্য দুর্ঘটনার খবর চোখে পরে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, এগুলো কখনই সংবাদপত্রের ফ্রন্ট পেইজে ছাপা হয় না, ভেতরের কোন পাতার কোন এক কোণাতে পরে থাকে মাত্র। তা নিয়ে কারুর কোন মাথা ঘামানোর প্রয়োজন বোধ হয় না। কারোর মনে কোন চিন্তা বা অনুশোচনার উদ্রেক হয় না।

কারণ মনে করা হয় এই সব দুর্ঘটনার জন্য উক্ত নারী, মেয়ে বা শিশুটিই দায়ী। যেহেতু সে বেখেয়ালে ছিল, সে তার ওড়না ঠিকমতো পরে নি। এইরকম মৃত্যু বা দুর্ঘটনাতে এদেশের বেশিরভাগ মানুষকেই যে কথাটি সবচেয়ে বেশি বলতে শোনা যায় তা হলো,

“মেয়েরা যদি ওড়না বুকে না পরে গলায় ঝুলিয়ে রাখে তাহলে দুর্ঘটনা তো ঘটবেই”

তার মানে সকল দায়-দায়িত্ব সেই মেয়ের ঘাড়েই! 

কিন্তু আমরা একবারো ভেবে দেখিনা যে ওড়না নামক এই মরণফাদ আমরাই আমাদের মেয়ে, বোন, স্ত্রী, মা, প্রতিবেশি, আমাদের আত্নীয়-স্বজনদের পরতে বাধ্য করছি। তাদের মানসিকতা সেইভাবে গড়ে তুলতে বাধ্য করছি। তাদের বাধ্য করছি খারাপটাকেই নিজেদের ভাল হিসেবে বুঝে ও মেনে নিতে। আমরা কখনই তার কোন দায় দায়িত্ব নিই না।

এমনকী প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক ও তথাকথিত সর্বোচ্চ শিক্ষিত সমাজেও এই ওড়নাকে নারীর ড্রেসকোডে পরিণত করা হচ্ছে। (সম্প্রতি রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশন বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের ওড়না পরার নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়) নারীর পোশাককেই ইভটিজিং, ধর্ষণের জন্য দায়ী করা হচ্ছে। অথচ এদেশে বোরখা, হিজাব পরিহিতা তনুদেরও ধর্ষণের শিকার হতে হয়।

কোন মেয়ে যদি সমাজের অসংগতিগুলো ডিঙ্গিয়ে নিজের পছন্দমতো ও কম্ফোর্টেবল পোশাক পরতে যায় তাহলে আমরা সমাজের মানুষরা সেই মেয়ে আর তার পরিবারকে নানাভাবে হেনস্থা করছি। আজ যে মেয়েটা রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা বা ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাস লেগে মারা গেল তার দায় কী শুধুই সেই মেয়েটিরই? সেই দুর্ঘটনাটা কী শুধুই অসাবধানতা বশত? তার দায় কী এই সমাজের অন্য কারোর নয়? অথচ এই সমাজই তো তাকে ওড়না পরতে বাধ্য করেছে। শিখিয়েছে গায়ে হাজারটা পোশাক চাপালেও ওড়না তাকে পরতেই হবে। একমুহূর্তের জন্যও বুক ছাড়া করা যাবেনা একে। করলেই সে হয়ে যাবে খারাপ, নষ্টা…

আজ আমরা আমাদের যে মেয়ে, বোনকে ওড়না পরতে বাধ্য করছি কাল যে সেও ওভাবে লাশ হয়ে ফিরবেনা তার কী নিশ্চয়তা?

যেখানে পৃথিবীর অনেক উন্নত রাষ্ট্র পৃথিবীর বাইরে বসতি গড়ার জন্য দিনরাত গবেষণা করে চলেছে, মানুষের জীবনকে আরও উন্নত করার জন্য নিরলস পরিশ্রম করছে, জ্ঞান, বিদ্যা-বুদ্ধিতে এগিয়ে যাচ্ছে; সেখানে আমাদের অত্যন্ত লজ্জার সাথে বলতে হয় বাংলাদেশের মানুষ ‘মেয়েরা কেন ছেলেদের দেখলে বারবার ওড়না ঠিক করে’, ‘নারী কেন ওড়না দিয়ে বুক না ঢেকে গলায় পেচিয়ে রাখে’, ‘ওড়না দিয়ে শরীরের কোন কোন অংশ কীভাবে ঢেকে রাখা উচিত’ নারীর পোশাক নিয়ে এরকম হাজারো গবেষণায় ব্যস্ত।