শ্রীশুভ্র

হায় বাঙালি হায়। পৃথিবীর সর্বত্তম আশ্চর্য্যের নামই বাঙালি। না এতে আর আশ্চর্য্য হওয়ার কি আছে। এমন জাতি সত্যিই বিশ্বে আর দুটি নাই। কথায় বলে পাগলেও নিজের বুঝ বোঝে। কিন্তু বাঙালি? বাঙালি কি নিজের বুঝ বোঝে? ইতিহাসের পাতা উল্টালে কি কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে তেমন কোন সত্য? তাহলে বাঙালি কোন সত্যে বিশ্বাস করে? বাঙালির বিশ্বাসের নোঙর তবে কোথায়? বাঙালিত্বে নয়? না হলে কোথায়? বিশ্বের সকল উন্নত জাতিগুলি যদি একদিকে থাকে, তবে বাঙালির অবস্থান ঠিক তার উল্টোদিকে। এমন কোন জাতি আছে, যার মাতৃভূমিকে কেটে দুই তিন টুকরো করে দিলেও জাতি নির্বিকার চিত্তে সেই অবস্থানকেই ধ্রুব সত্য বলে মেনে নিয়ে পরস্পর বিদেশী সেজে যায়? বাঙালি ছাড়া? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানিকে কেটে দুই টুকরো করা হয়েছিল বিশ্বরাজনীতির খেলায়। সেই বিভক্তি জার্মান জাতি কোনদিনও মন থেকে মেনে নিতে পারে নি। পারে নি বলেই মাত্র চুয়াল্লিশ বছরের মাথাতেই সেই অনৈতিক বিভক্তিকে জার্মানির মানুষ ধুয়ে মুছে সাফ করে দিয়েছে। নতুন করে গড়ে উঠেছে মিলিত বার্লিন, বার্লিন প্রাচীর ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিয়ে। প্রবল পরাক্রান্ত মার্কীন শক্তির বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে জয়ী হয়ে এক হয়ে মিলে গিয়েছে দুই ভিয়েতনাম। অতটুকু একটি দেশের একটি জাতির মধ্যে জাতীয়তাবোধের কি অফুরন্ত শক্তি। পেন্টাগনের সাধ্যেও কুলায় নি, তাদের রাজনৈতিক সার্থে দেশটিকে খণ্ডিত রেখে প্রভুত্ব করার। এসবই প্রতিটি বাঙালির নখদর্পনে। বাকি থাকলে কোরিয়া। রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির উপরে ভরসা রাখলে বলা যায়, মার্কিণ অপশক্তিকে রজনৈতিক ভাবেই ঠিকমতো মোকাবিলা করতে পারলে একদিন দুই কোরিয়াও মিলেমিশে একাকার হয়ে যাবে। কারণ কোরিয়া দুটুকরো হলেও কোরিয়ানরা দুই টুকরো হয়ে যায় নি। এইখানেই সারা পৃথিবীতে বাঙালির অনন্যতা। আজকে যদি সারা বাংলায়, কাঁটাতারের দুই পারেই সঠিক পদ্ধতিতে গণভোট নেওয়া হয়, দেখা যাবে প্রায় কেউই চাইবে না দুই বাংলা এক হয়ে স্বাধীন সার্বভৌম অখণ্ড একটি দেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করুক। খণ্ডিত বাংলার মিলনের কথা উঠলেই কাঁটাতারের দুই পার থেকেই অধিকাংশ বাঙালিই রে রে করে তেড়ে আসবে। তাদের একটিই দাবি, দুই বাংলা আলাদা। দুই বাংলাকে কখনোই এক করা যাবে না। তাদের মতো দুই পারের বাঙালি আলাদা দুটি রাষ্ট্রের নাগরিকই শুধু নয়, তারা নাকি আলাদা জাতি। তাদের রক্ত এক নয়। তাদের সংস্কৃতি এক নয়। তাদের ইতিহাসও এক নয়। শুধুমাত্র ভাষাটুকু নিয়ে যেটুকু অস্বস্তি রয়েছে, সেটুকু কাটিয়ে তুলতেই দুই পারেই মানুষ জোর কদমে তলায় তলায় এগিয়ে চলছে নিঃশব্দে। পশ্চিম পারে দিনে দিনে বাংলা হয়ে উঠছে হিন্দী ঘেঁসা। আর পূর্ব পারে বাংলাকে করে তোলা হচ্ছে ইসলামিক। অত্যন্ত সচেতন প্রয়াসেই। দুই পারেই মানুষের আশা, এই ভাবে এগিয়ে চলতে থাকলেই কোন এক শতাব্দীতে ভাষাটিকেও সফল ভাবে ভাগ করে দেওয়া যাবে। সেদিন বাঙালি সগর্বে আবিশ্ব ঘোষণা করতে পারবে, বিশ্বের মানুষ যা কল্পনাও করতে পারে না, বাঙালি সেই কাজই করে দেখাতে পেরেছে। অধিকাংশ বাঙালিই স্বীকার করে না বাঙালির এক ও অভিন্ন জাতিসত্ত্বার সত্যকে। বাঙালির কাছে বাঙালিত্বের কোনই বাস্তব অস্তিত্ব নাই। বাঙালির কাছে তার স্বাদেশিকতার থেকেও বড়ো সত্য তার সাম্প্রদায়িকতা। বাঙালির কাছে তার জাতীয়তার থেকেও বড়ো তার ধর্মীয় পরিচয়। হায় বাঙালি হায়। সত্যই এমন জাতি আর একটিও খুঁজে পাওয়া যাবে না কোথাও। এ এক অনন্য জাতি। অসামান্য তার ইতিহাস।

কাঁটাতারের পশ্চিম পারে, বাঙালি সদাই লজ্জিত পাছে লোকে তাকে বাঙালি বলে চিনে ফেলে! তাই সে উঠতে ভারতীয়। বসতে ভারতীয়। সারা ভারতই নাকি তার মাতৃভুমি স্বদেশ। কোন ইংরেজ ফরাসী জার্মানই এ কথা কখনোই মনে করতে পারে না যে, সারা ইউরোপই তার স্বদেশ। কিন্তু এপারের বাঙালি ভাবতেই পারে না, সে আগে বাঙালি। তারপর ভারতীয়। ঠিক যেমন একজন ইটালিয় কি একজন গ্রীক কি একজন রুশ আগে ইটালিয়ান, গ্রীক, রাশিয়ান তারপর তারা সকলেই ইওরোপীয়ান। কিন্তু বাঙালির ক্ষেত্রে সবই উল্টো। তার প্রধানতম পরিচয় সে ভারতীয়। যদি সে কাঁটাতারের এপারের নাগরিক হয়। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি, বাঙালির লোকাচার ও ঐতিহ্যকে আড়াল করে কত বেশি সে বিশ্বনাগরিক কিংবা নিদেন পক্ষে ভারতীয়, সেকথাই উঠতে বসতে প্রমাণ করতে সদাসচেষ্ট এপারের বাঙালি নামের প্রজাতিটি। আর সেই কারণেই, ক্ষুদ্র পশ্চিমবঙ্গের জমি মাটি সম্পদের অধিকার সারা ভারত থেকে অনুপ্রবেশ করা অবাঙালিদের হাতে তুলে দিতে তার এতটুকু অসুবিধা হয় না। অবাঙালি মাত্রেই যে বাঙালির স্বদেশী! বাঙালির জাতভাই! তাই কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, গুজরাট থেকে নাগাল্যাণ্ড যেখান থেকেই অবাঙালিরা আসুক না কেন, বাঙালি তাদের জন্যে নিজের রাজ্যকে উন্মুক্ত করে রেখে দিয়েছে। এসো ভাই। বোস ভাই। থেকে যাও ভাই নিজের মতো করে। আমি তোমার মতো করে বদলে নেবো বরং আপন সাজসজ্জা সংস্কৃতি ভাষা ও কৃষ্টিকে। এপারের যে কোন বাঙালিকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, আপনার মূল পরিচয় কেনটি? সকলেই অম্লানবদনে বলে দেবে, ‘আমি ভারতীয়। সেটাই আমার মূল পরিচয়। তারপর আমি হিন্দু, কিংবা মুসলিম। তারপর (যদি তারপরেও কিছু অবশিষ্ট থাকে আর) আমি বাঙালি। কিন্তু কখনোই প্রাদেশিক নই! এই হলো এপারের বাঙালির আসল রূপ। আর সেই পথ ধরেই আজকের পশ্চিমবঙ্গে উত্তরভারতীয় হিন্দুত্ব তার ভাষা ধর্ম সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে দিনে দিনে জাঁকিয়ে বসছে পশ্চিমবঙ্গের বুকে। বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতি, তার স্বাতন্ত্র ধর্মীয় প্রকরণ, অনুষঙ্গ ও ধর্মীয় উৎসবগুলিও দিনে দিনে গ্রাস করে ফেলতে চলেছে এই উত্তরভারতীয় উগ্র এবং রাজনৈতিক হিন্দুত্ব। বাঙালি মহোৎসবে তাই শুরু করে দিয়েছে, রাস্তার মোড়ে মোরে বিশ্বকর্মা পুজোর বদলে গণেশ পুজো। বাড়িতে বাড়িতে লক্ষ্মী পুজোর বদলে ধনতেরাস!। এবং এরই সর্বশেষ সংযোজন বাসন্তী পুজোর জায়গায় রামনবমীর অস্ত্রমিছিল। পাল্টাচ্ছে এপার বাঙালির সামাজিক সংস্কৃতি দ্রুত থেকে দ্রুততর গতিতে। আর ভাষা হিসাবে হিন্দী তো বাঙালির মুখের ভাষা হয়েই গিয়েছে কবে থেকে। ফলে আজকের পশ্চিমবঙ্গ নিশ্চিত ভাবেই বিহারের বর্ধিত অংশ হয়ে দেখে দেবে অচিরেই। সেদিন কাঁটাতারের দুই পারের বাংলা ও বাঙালির মিলনের কোন প্রশ্নই তাই অবশিষ্ট থাকবে না আর।

কিন্তু কি অবস্থা কাঁটাতারের পূর্ব পারের? সেখানে তো বাংলাই জাতীয় ভাষা। একটি স্বাধীন কিন্তু খণ্ডিত দেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। সর্বনাশ খণ্ডিত দেশ! কে বলেছে বাংলাদেশ খণ্ডিত দেশ? কজন বাংলাদেশী মনে করে বাংলাদেশ একটি খণ্ডিত দেশ? নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়, প্রায় কোন বাংলাদেশীই মনে করে না বাংলাদেশ একটি খণ্ডিত দেশ। আর সেই কারণেই স্বাধীনতার পর কাঁটাতারের পূর্ব পারের বাঙালি আর নিজেদেরকে বাঙালি বলে পরিচয় দিতে রাজিই নয়। তাদের মূল পরিচয় তারা বাংলাদেশী মুসলিম। পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র পৃথক একটি জাতি। এবং এই বিষয়ে অধিকাংশ বাংলাদেশীর মনেই যথেষ্ট আত্মশ্লাঘা বিদ্যমান। তারা লড়াই করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিয়ে এসেছেন পাকিস্তানীদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করে। আর পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিতো চিরকাল দিল্লীরই গোলামী করে চলেছে। তাই ওদের সাথে তাদেরকে মিলিয়ে ফেললে চলবে না কোনভাবেই। তাঁরা স্বাধীন জাতি। তাঁরা বাংলাদেশী। হ্যাঁ অতিঅবশ্যই বাংলাদেশ মুসলিমদের দেশ। ইসলামই এখানে শেষ কথা। ফলে যাঁরা দুই বাংলার মিলনের দিবাস্বপ্ন দেখে তাদের কথায় কান দিয়ে লাভ নাই। তেলে জলে কখনোই মেলে না। হিন্দু হিন্দুই। মুসলমান মুসলমানই। কখনোই এক নয়। এক হওয়ার কথাও উঠতে পারে না তাই। আজকের হেফাজতি বাংলাদেশে কজন বাংলা ও বাঙালির অভিন্ন জাতিসত্ত্বার ইতিহাসটুকু সম্বন্ধে সচেতন? অধিকাংশ বাংলাদেশীই মনে করে তাদের পূর্বপুরুষের বাস ছিল মধ্য প্রাচ্যে। তাই নিয়ে তাদের গর্বেরও শেষ নাই। তাই রাজনৈতিক মানচিত্রের সীমানায় স্বাধীন একটি জাতি যখন তাঁর শিকড়ের ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিকতাকেই অস্বীকার করে কাল্পনিক পরিচয়ের বৈদেশিকতাকে আত্মশ্লাঘার বিষয়বস্তু বলে বিশ্বাস করতে শুরু করে, তখন আর সেই জাতির কাছ থেকে নতুন কিছু আশা করাই দুরাশা। ঠিক এই কারণেই কাঁটাতারের পূর্ব পারের বাঙালির বিশ্বাসে পশ্চিম পারের বাঙালি মাত্রেই ভারতীয়। অর্থাৎ পড়শী দেশের নাগরিক। তাই তাদের কাছে কলকতা মানেই বিদেশ। পশ্চিমবঙ্গ মানেই ইন্ডিয়া। আর পশ্চিমবাংলা বাঙালি মাত্রেই বিদেশী। ঠিক যেমন, কাঁটাতারের পশ্চিম পারের বাঙালিদের চেতনায় বাংলাদেশী মানেই বিদেশী। তারকাঁটার উভয় পারের বাঙালি নামের প্রজাতির মধ্যে, চেতনায় আর বিশ্বাসে কি অদ্ভুত মিল! আজকের বাংলাদেশে তাই সচেতন ভাবেই বাংলার ভাষা ও সংস্কৃতি কৃষ্টি ও ইতিহাসের ইসলামীকরণ করার কাজ চলছে দ্রুত থেকে দ্রুততর গতিতে। আর এই কাজে গতিবেগ বাড়াতে সাম্প্রদায়িকতার বিদ্বেষ খুবই শক্তিশালী একটি মাধ্যম। সেটাকেই তুরুপের তাস করে উঠে এসেছে হেফাজতি সংস্কৃতির রাজনীতি। পেছনে আন্তর্জাতিক রাজনীতির যে কূটকৌশলই থাকুক না কেন। যে বিদেশী অপশক্তিরই হাত থাকুক না কেন। বাংলাদেশীদেরকে আর কোন ভাবেই বাঙালি রাখা চলবে না। তাদেরকে করে তুলতে হবে বাংলাদেশী মুসলিম। সেই কারণেই ইসলাম নিয়ে এত জোরজবরদস্তি আজকের বাংলাদেশের রাজনীতিতে। বাংলা ভাষাটির ইসলামীকরণ সম্পূর্ণ করতে হবে। সব হিন্দু শব্দ থেকে ছেঁকে উদ্ধার করে নিতে হবে মুসলমানের বাংলাকে। স্কুল কলজের পঠনপাঠন থেকেই সেই বিষয়ে সক্রিয় হয়ে উঠতে হবে। বাংলাদেশের ইতিহাসকে করে তুলতে হবে মুসলমানের ইতিহাস। সেখানে বিধর্মীদের কোন স্থান ও গুরুত্ব দেওয়া চলবে না। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে হেফাজতী সংস্কৃতির তত্ত্বাবধানেই। সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে কাঁটাতারের পূর্ব পারের রাজনীতি। অবশ্যই সমাজ তারই অনুসরণ করবে। না করলেই দেশ ছাড়তে হবে তসলিমাদের মতো। আর নয়তো ধর থেকেই মাথা পড়ে যাবে অভিজিতদের মতো। গোটা বাংলাদেশের সমাজই আজ তাই তঠস্ত। তাকে প্রতিপদে মুসলিম হয়ে উঠতে হবে। প্রতিটি পদক্ষেপেই রেখে যেতে হবে তার প্রমাণচিহ্ন। সেই প্রমাণচিহ্ন রাখতেই ব্যস্ত আজকের প্রজন্ম। তাই তাদের চেতনায় কাঁটাতারই তার দেশের ও জাতির শেষ সীমানা। ওপারটা বিদেশ। বিধর্মীদের অঞ্চল।

এর বাইরে পড়ে থাকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জীবন। মন মানসিকতা। প্রতিদিনের লড়াই আর কষ্টের ইতিবৃত্ত। কাঁটাতারের উভয় পারেই সংখ্যালঘুদের দায় সব থেকে বেশি রাস্ট্রীয় নগরিকত্বের স্বপ্রমাণ দেওয়ার। আর সেই কারণেই তাঁদেরকে অন্য সম্প্রদায়ের ছত্রছায়ায় মানিয়ে নিয়ে চলার চেষ্টা করতে হয় দুইবেলা। এই বিষয়ে কাঁটাতারের এই পারের সংবিধান সংখ্যলঘুদের সবচেয়ে বড়ো রক্ষাকবচ বলেই তাঁদের অবস্থা পূর্ব পারের সংখ্যালঘুদের থেকে কিছুটা সুবিধাজনক ছিল এতদিন। কিন্তু বর্তমান ভারতীয় রাজনীতির সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের অশনি সংকেত এপারের সংখ্যালঘুদের ওপারের সংখ্যালঘুদের মতোই সঙ্কটজনক অবস্থায় ফেলতে চলেছে অচিরেই। সেটাই আন্তর্জাতিক রাজনীতির নীলনকশা। ফলে সেখানেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, তার বাঙালিত্বের পরিচয় বহন করার মতো অবস্থায় নাই। পশ্চিম পারে তাকে হতে হচ্ছে ভারতীয় মুসলিম। পূর্ব পারে তাকে হতে হচ্ছে বাংলাদেশী হিন্দু। দুই পারেই বাঙালিত্বের পরিচয় দিনে দিনে গৌন হতে হতে একদিন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে বিলুপ্ত হয়ে যাবে ইতিহাসের অধ্যায়ে। ব্রিটিশ ও তাদের দালাল গোষ্ঠীদের পুঁতে দেওয়া কাঁটাতার স্বগর্বে হয়ে উঠছে চীনের প্রাচীরের থেকেও শক্তিশালী। চীনের প্রাচীরের থেকেও অনেক উঁচু। যা টপকিয়ে ভারতীয় হিন্দু মুসলিম আর বাংলাদেশী মুসলিম হিন্দুরা কোনদিনই আর বাঙালি হয়ে উঠতে পারবে না। চাইবে না। মিলনের কথা তো দুরস্ত। স্বাধীন সার্বভৌম অখণ্ড বাংলা এবং এক ও অভিন্ন বাঙালি জাতি, বোকা ও বেকুবদের কষ্টকল্পনাই রয়ে যাবে বরাবরের জন্যে। বাঙালি বলে কেউ কি আর অবশিষ্ট আছে আর কোথাও? যে মিলবে মিলাবে এক হবে?

শ্রীশুভ্র এর ব্লগ   ১৫২ বার পঠিত