অর্পিতা রায়চৌধুরী

আদালত:

আপনার বিরুদ্ধে ধর্মানুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

শ্রীজাত:

আমি কারুর ধর্মানুভূতিতে আঘাত করিনি মাননীয় আদালত।

আদালত:

আমরা জানি, আপনি কবি। সাধারণ মক্কেলদের কথা বললে আমরাও একটু সাহিত্যচর্চার সুযোগ পেতাম।

শ্রীজাত:

আসলে জনাব কবিতায় আমি নিজে কিছুই বলি নি। কবরের যে নারীকে ধর্ষণ করতে বলা হয়েছিল কবিতায় সেই নারীর কণ্ঠধ্বনিই উচ্চারিত হয়েছে। ওই কণ্ঠ আমার ছিল না মাননীয় আদালত।

আদালত:

তাহলে শিব, ত্রিশূল এইসবের অভিযোগ তাহলে কী?

শ্রীজাত:

মাননীয় আদালত, ত্রিশূল শিবের প্রতীক। প্রতীকের উপরে বড়জোর কন্ডম অংকন করা যায়, পড়ানো সম্ভব হয় না। আমি কোনদিন ত্রিশূল নাড়াচাড়াও করে দেখি নি। সেখানে কন্ডম কীভাবে পড়াবো?

আদালত:

আপনি হলফ করে সত্য বলতে চেয়েছেন। তাহলে কী আপনার লেখা কবিতাখানি মিথ্যে?

শ্রীজাত:

মাননীয় আদালত, আমি মোটেই মিথ্যে বলছি না। আসলে নড়াচড়াজনিত কারণে একটা দূর্ঘটনা ঘটে গেছে মাননীয় আদালত।

আদালত:

কীসের নড়াচড়া? কবিতাতো কাগজের উপরে আঁকাঝোকা ব্যাপার। জড় পদার্থ আবার আবার নড়াচড়া করতে পারে নাকী?

শ্রীজাত:

ঘটনাতো সেটাই হয়েছে মাননীয় আদালত। যা বলতে ভয় পাই।

আদালত:

নির্ভয়ে বলুন কবি।

শ্রীজাত:

শিবমূর্তির বেদিতে যেখানে জল ও দুধ ঢালা হয়, সেই জায়গাটার পবিত্রতা রক্ষার জন্য কবি সেখানে কন্ডম পড়াতে চেয়েছিল; যাতে সবকিছু পরিস্কার থাকে। কিন্তু হঠাৎ অনুভূতির ঝড় এসে সবকিছু গোলমাল পাকিয়ে দিয়েছে মাননীয় আদালত। অনুভূতির ঝড় ও বাতাসে কন্ডম উড়ে গিয়ে ত্রিশূলের উপরে গিয়ে সেট হয়েছে।

আদালত:

ওহ্, এই ঘটনা? এখানেতো কবির কোন দোষ দেখতে পাই না। এর জন্য দায়ি ওই ঝড়। অর্ডার-অর্ডার, আদালত এই মর্মে নির্দেশ দিচ্ছে যে, অনুভূতির ঝড়কে অবিলম্বে আদালতে হাজির করা হোক। এবং কবি শ্রীজাতের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ খারিজ করা হলো। আদালত এই মর্মে নির্দেশ দিচ্ছে, শ্রীজাত ব্র্যান্ডের কনডম বিপণনে আর কোন বাধা নেই।

শ্রীজাত:

কবির পাশাপাশি কন্ডমকেও মুক্ত করায় আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা, মাননীয় আদালত।