পর্যবেক্ষক

মিডিয়া দখলের খবরে নড়েচড়ে বসেছে গোয়েন্দা সংস্থা।

মালিকেরা এখনো নিশ্চুপ:
গত ৮ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে নবযুগ ব্লগে ‘গণমাধ্যম দৈত্য হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে, শেখ হাসিনা ও গণতন্ত্রের কী হবে‘ শিরোনামের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোতে কী পরিমাণ জামাত-হেফাজত ইসলামের লোকেরা বসে আছে সে বিষয়ে একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিলো। এ তালিকা প্রকাশের পর দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নড়েচড়ে বসে। মিডিয়াগুলোর মালিকদের এ বিষয়ে অবহিত করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত দেশের মিডিয়া হাউজ থেকে জামাত-শিবির-হেফাজতমুক্ত করার কোন উদ্যোগ মালিকগুলো নেয়নি। এতে ঝুকি রয়েই গেছে। বড় ধরনের সংকট যে কোন মূহুর্তেই ঘটতে পারে বলে মনে করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একাধিক প্রতিবেদন।

বসুন্ধরা কোন ব্যবস্থা নেয়নি:
বসুন্ধরা গ্রুপের নিউজ ২৪ ও পত্রিকা কালের কণ্ঠের প্রধান দুই নির্বাহী পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে নিউজ ২৪ এর প্রধান নির্বাহী হাসনাইন খুরশেদ সুচি ব্যক্তিগত জীবনে বিএনপির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।

অন্যদিকে কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। আইএসআই  যখন বাংলাদেশের সাংবাদিকদের টার্গেট করে ‘দোস্তি’ প্রোগ্রামটি শুরু করে তখন প্রথম কিস্তিতে যেসব সাংবাদিক পাকিস্তানে গিয়েছিলেন তার প্রথম দলে ছিলেন মোস্তফা কামাল। শুধু তাই নয়, পাকিস্তান থেকে তিনি আফগানিস্তানেও যান, সেখানে তালেবানদের সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠ অবস্থার বিবরণ দিয়ে তিনি রিপোর্টও লিখতে থাকেন। এটি সবাই জানে যে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের অন্যতম ঘনিষ্ঠ হলো আফগান তালেবানরা।

এ বিষয়ে নবযুগ ব্লগে তালিকা প্রকাশের পর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নড়েচড়ে বসে। মোস্তফা কামাল নিজেকে রক্ষা করার জন্য অতিমাত্রায় ভারতপন্থী সাজার চেষ্টা করেন। তিনি ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার সাথে দেখা করেন। এরপর মোস্তফা কামালের নিজের ফেসবুকে আত্মমর্যার্দাহীন একটি অতি চাটুকারি পোস্ট দিয়ে নিজেকে ভারতপন্থী হিসেবে প্রমাণের চেষ্টাও করেন।

তবে এখন পর্যন্ত ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়ার প্রধান কর্ণধর ও বসুন্ধরার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনবীর এই দুই ব্যক্তির বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেননি। এর প্রধান কারণ হলো, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম। নঈম নিজাম নিজে আওয়ামী লীগার হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার আর্শিবাদপুষ্টদের সমর্থন দিয়ে টিকিয়ে রেখেছেন।

চ্যানেল ২৪ ও সমকাল:
চ্যানেলটি চরম সরকার বিরোধী অবস্থান একদমই পাল্টায়নি। সরকারের পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য চ্যানেলের সিও হিসেবে পাঠানো হয়েছে তরুণকান্তি চক্রবর্তী। তবে তরুণকান্তি চক্রবর্তী চ্যানেলটির ওপর কোন ধরনের নিয়ন্ত্রণ আনতে পারেননি। চ্যানেলটি জামাত, বিএনপি, হেফাজত কর্মী দ্বারা পূর্ণ। মূলত চ্যানেলটির হেড অব নিউজ তালাত মাহমুদ ও আউটপুট এডিটর বিপ্লব শহীদ নিয়ন্ত্রণ করছে। এরা দুজন জামাতের লোক। চ্যানেল ২৪ বার্তাকক্ষের আরেক ব্যক্তি হলেন আমিন আল রশীদ। এ ব্যক্তি নিষিদ্ধ পার্টি হিযবুত তাহরীর করেন (হিযবুত তাহরীর বাংলাদেশে আইএসের হয়ে কাজ করে থাকে)। এ ছাড়া প্রতিবেদক মুস্তাফিজুর রহমান ছাত্র জীবনে শিবির করতেন। এখন তিনি রোহিঙ্গা বিটের স্পর্শকাতর বিষয়ে প্রতিবেদন করছেন। রোহিঙ্গা শরণার্থী ও রোহিঙ্গাদের জঙ্গী সংগঠন আরসা সম্পর্কে তিনি যত তথ্য পাচ্ছেন তা পাকিস্তান হাই কমিশনে নিয়মিত পাচার করছেন। এছাড়া ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাডার ছিলেন এ চ্যানেলের সাজিদ হক। বিএনপি বিট করেন আজিজুর রহমান কিরণ ও মহসিনুর রহমান বাদল। এ দুজন বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিতি থাকলেও বাস্তবে শিবির করেন। মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা এহসানুল হক তানিম শিবির কর্মী ছিলেন।

এ চ্যানেলের বিষয়ে একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এমনকী চ্যানেলের মালিক একে আজাদকে বিষয়টি অবহিতও করেছেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত একে আজাদ চ্যানেলটিকে শিবির-হিযবুত-হেফাজত মুক্ত করার জন্য কোন ব্যবস্থা নেননি। দেশের কোন মিডিয়াতে এতো ব্যাপক সংখ্যক শিবির-হেফাজত-আইএস কর্মী নেই চ্যানেল ২৪ এর মত।

একে আজাদের মালিকানায় দৈনিক সমকাল পত্রিকা বের হয়। পত্রিকাটির সম্পাদক স্বাধীনতাপন্থী চেতনায় বিশ্বাসী গোলাম সরওয়ার হলেও বাস্তবে পত্রিকায় তাঁর কোন ক্ষমতা নেই। পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক সিলেটের সাবেক শিবির কর্মী মোস্তাফিজ শফী পত্রিকাটির বার্তা বিভাগের সবকিছু দেখাশোনা করেন। গোলাম সরওয়ারের ক্ষমতা খর্ব করতে সম্প্রতি সেখানে আবু সাঈদ খানকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আবু সাঈদ খান সাবেক জাসদ নেতা। একে আজাদের তাত্ত্বিক নেতাও তিনি ছিলেন। এ পত্রিকা যে কোন সময় ভোল পাল্টে দিতে পারে।

গাজি টিভি:
এ টিভির মালিক আওয়ামী লীগের এমপি গাজী গোলাম দস্তগীর। টিভিটির স্পেশাল করেসপনডেন্স সাজু যিনি প্রধানমন্ত্রীর নিউজ বিট করেন তিনি পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থার অতি কাছের মানুষ। বিষয়টি এমপি গাজী গোলাম দস্তগীরকে জানানোর পরও তিনি ব্যবস্থা নেননি।

বাংলা ভিসন:
এ টিভির এমডি হলেন সাদেক হোসেন খোকার ছেলে। বাংলাভিশন হচ্ছে শ্যামলবাংলা মিডিয়া লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান। অথচ শ্যামলবাংলা মিডিয়া লিমিটেডের মালিকানায় কোথাও সাদেক হোসেন খোকা ও তার ছেলে নেই। মালিকানায় না থাকলেও সাদেক হোসেন খোকার ছেলে চ্যানেলটি চালাচ্ছে। চ্যানেলটির প্রধান প্রতিবেদক নসরুল আনোয়ার ছাত্র জীবনে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এনটিভি:
এনটিভির মালিক বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক হোসেন ফালু এটি সবাই জানেন। বর্তমানে চ্যানেলটি খুব সতর্ক থেকে পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এটির প্রধান ব্যক্তি জহিরুল ইসলাম ভয়াবহরকম ঘনিষ্ঠ বিএনপি নেত্রী বেগম জিয়ার সঙ্গে। এনটিভি অনলাইনের দায়িত্বে রয়েছেন মুকুল নামের একজন এনটিভি অনলাইন এখন জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টালের একটি। শিবিরের রাজনীতি করতেন মুকুল। এ পোর্টালটি থেকে ক্রমাগতভাবে সরকারের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক নিউজ আপ করা হয়ে থাকে।

বাংলা ট্রিবিউন:
এ অনলাইন পোর্টালটিতে বেশকিছু শিবির কর্মী রয়েছেন। আর এদের প্রশ্রয়দাতা হলেন খোদ পোর্টালের সম্পাদক জুলফিকার রাসেল। রাসেলের সঙ্গে কট্টর সরকার বিরোধী হেফাজত ইসলামের বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত ফরহাদ মজহারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। যদিও এ পোর্টালের মালিকানায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত কাজী গ্রুপের কাজী শাহেদ আহমেদ। এক সময় তিনি দৈনিক আজকের কাগজের মালিক ছিলেন।

যমুনা টিভি:
যমুনা টিভির মালিক মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বাবুল দেশে একজন বিতর্কিত ব্যবসায়ী হলেও তাঁর প্রতিষ্ঠানটি জনপ্রিয় টিভি হিসেবে গড়ে তোলার একটা চেষ্টা আছে। এ চ্যানেলটির প্রধান ফাহিম আহমেদ চৌধুরী একজন সাবেক শিবির কর্মী। ফলে যে কোন সময় চ্যানেলটি সরকারকে বড় বিপদে ফেলতে পারে।

 

আরও পড়ুনগণমাধ্যম দৈত্য হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে, শেখ হাসিনা ও গণতন্ত্রের কী হবে

পর্যবেক্ষক এর ব্লগ   ৭৬৫ বার পঠিত