আলপনা তালুকদার

বাংলাদেশে ‘হালাল পতিতালয়’ স্থাপিত হলে কেমন হয়?

ইরান, ইন্দোনেশিয়া, নেদারল্যান্ডসসহ আরো অনেক দেশেই চালু আছে মুসলিম পুরুষদের জন্য হালাল পতিতালয়। পতিতা ও খদ্দেরদের মধ্যে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক “মুতা বিবাহ” দিয়ে এসব পতিতালয় চালানো হয়।

মুতা বিবাহ একটি স্বল্প সময়ের বিবাহ। অর্থাৎ কোন নারী ও পুরুষ অল্প কিছু সময়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে এ বিবাহ করতে পারে। তবে এই সময় সম্পর্কে কোন সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ সময় বাধা ধরা নাই। যেমন: কোন পুরুষ চাইলে কয়েক বছর, কয়েক দিন বা কয়েক ঘণ্টার জন্য ও কোন নারীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে। ভারতবর্ষে ইসলাম প্রচারের জন্য আসা ধর্মপ্রচারক ও ব্যবসায়ীরা এই বিয়ে করতো। তারপর ফিরে যাবার সময় স্ত্রীকে তালাক না দিয়েই চলে যেত।

সহজ ভাষায়, এক রাত্রির বিয়ের ইসলামি পরিভাষায় নাম হলো মুতা বিবাহ। এই বিয়ের প্রথা হলো একজন পুরুষ কোন মেয়ের সাথে স্বল্প সময়ের জন্য বিয়ের চুক্তি করে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে পারবে।

সুন্নি ইসলামে মুতা বিবাহ নিষিদ্ধ। তবে শিয়া ইসলামদের মধ্যে এটা এখনো প্রচলিত আছে। একসাথে একজন মুসলিম চার স্ত্রীর বেশি রাখতে পারে না। কিন্তু মুতা বিয়ের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়। মুতা বিয়ের মাধ্যমে একজন মুসলমান ইচ্ছে করলে যে কোন নারীর সাথে বৈধ শারীরিক সম্পর্ক করতে পারবে। মুতা বিবাহে কোন কাজী বা সাক্ষীর প্রয়োজন হয় না। কয়েকটি আয়াত পাঠের মাধ্যমে এ বিবাহ সম্পন্ন করা হয় এবং এ বিয়ের কোন তালাক নেই। বিয়ের পূর্বেই বিয়ের সময়কাল স্থির করা হয়। নির্ধারিত সময় পার হলে এমনিতেই বিয়ে তালাক হয়ে যায়।

বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলিম সুন্নী। তাই এদেশে শিয়াদের জন্য মুতা বিবাহের মাধ্যমে বৈধ বিয়ে চালু করলে মুসলিম পুরুষরা পাপের হাত থেকে বাঁচবে। যেসব বিবাহিত পুরুষরা পরকীয়া করেন, তারাও প্রেমিকাকে মুতা বিয়ে করে শারীরিক সম্পর্ক করতে পারেন। তাতে পাপও হবেনা, সংসারও ভাঙ্গবেনা। উভয় কূল রক্ষা হলো। পুরুষ অবাধ ও বৈধ যৌনাচারের সুযোগ পেলেন। এর চেয়ে ভাল আর কি হতে পারে?

তাছাড়া পতিতাদের তো পেট চালাতে হবে। তাই খদ্দেরকে বিয়ে করলে তার পাপও হবেনা, পেটও চলবে। এটি পতিতাদের জন্যও চরম ভালো।

আর ঘরের বৌ? একাধিক বা মুতা বিয়ে করার আগে বৌকে জানানো, তার ভালো লাগবেনা বা কষ্ট হবে একথা বিবেচনা করা, তার অনুমতি নেওয়া ইত্যাদি কথা ইসলাম স্বীকার করেনা। প্রথম স্ত্রী থাকাকালীন দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ বিয়ে করার সময় প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেবার কথা ইসলাম বলেনি (যদিও বাংলাদেশে চরম ইসলামবিরোধী এই আইনটি প্রচলিত আছে। এদেশে প্রথম স্ত্রী থাকাকালীন দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ বিয়ে করার সময় প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। এই অনুমতি আদায়ের জন্য স্বামীরা স্ত্রীকে নির্যাতন করে। একাধিক বিয়ে করতে না পেরে স্বামীরা পরকীয়া করে, পতিতালয়ে যায়।)। বললে কোন স্ত্রী সে অনুমতি দিতনা। ফলে কোন মুসলিম পুরুষেরই একাধিক বিয়ে করা সম্ভব ছিলনা।

সুন্নি ও শিয়া মুসলমানদের মধ্যে অনেক মৌলিক বিষয়েই রয়েছে মতের মিল। যেমন – উভয় মাজহাবই এক আল্লাহ, অভিন্ন ধর্মগ্রন্থ (পবিত্র কোরআন) এবং বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে সর্বশেষ নবী হিসেবে মানেন। উভয় মাজহাবই পরকালের পুণরুত্থান ও বিচার দিবসের প্রতি বিশ্বাস, নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ও নারীদের পর্দা করা ফরজ হওয়ার বিষয়সহ আরও অনেক বিষয়েই একমত।

‘সুন্নি’ আরবি সুন্নাহ শব্দের সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য। সুন্নাহ অর্থ পদ্ধতি, রীতি, প্রথা, বিধান, আচরণ ইত্যাদি। সাহাবীরা হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণী, কর্ম ও নির্দেশাদি সপূর্ণরূপে অনুসরণ করেছেন বলে তাঁদের উক্তি, কাজ ও নির্দেশাবলী অনুসারীরাই সুন্নি। সুন্নি নামটির উদ্ভব হয় আব্বাসী খলিফা আল-মুতাওয়াক্কিলের আমলে। তাঁকে সুন্নাহর পুণরুজ্জীবন সাধনকারী বলা হয়। অন্যদিকে ‘শিয়া’ শব্দটির অর্থ অনুসারী বা দল। ইসলামের ইতিহাসে হজরত আলী (রা.) অনুসারী দল (শিয়াত-ই-আলী বা আলীর দল) সাধারণত শিয়া নামে পরিচিত। শিয়া মাজহাব প্রথমে রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ইসলামের খলিফা হিসেবে হজরত আবু বকর (রা.)-এর নির্বাচনের সময় থেকে শিয়া আন্দোলনের বীজ বপন করা হয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মৃত্যুর পর তাঁর জামাতা হজরত আলী (রা.) খলিফা হবেন, এমন দাবী ছিল শিয়াদের। তাদের দাবী ছিল এজন্য যে, নবী করিম (সা.) এমন নির্দেশ দিয়ে গেছেন। কিন্তু তাঁদের এ দাবি উপেক্ষিত হলে হজরত আলী (রা.) সমর্থকেরা নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েন। এরপর হজরত ওমর ও হজরত ওসমান (রা.) যখন খলিফা নির্বাচিত হলেন, তখনো তাঁরা তাঁকে নির্বাচিত করার জন্য চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এরাই পরবর্তীকালে ‘শিয়া’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

শিয়া ও সুন্নির মৌলিক পার্থক্যঃ

১. সুন্নিরা খোলাফায়ে রাশেদীনের ইমামতে সমভাবে বিশ্বাসী। শিয়ারা হজরত আলী (রা.)-কে রাসুল (সা.)-এর একমাত্র ন্যায়সঙ্গত উত্তরাধিকারী এবং প্রথম তিন খলিফাকে খিলাফতের অবৈধ দাবিদার মনে করে।

২. সুন্নিদের বিশ্বাস হজরত মুহাম্মদ (সা.) শেষ নবী এবং তাঁর পরে আর কোনো নবী আসবেন না। শিয়াদের একটি বিরাট অংশবিশেষ (ইসমাইলীয়দের মধ্যে প্রচলিত বিশ্বাস) মনে করে, ইমাম ইসমাইল আখেরি নবী ছিলেন।

৩. সুন্নিরা হজরত ফাতেমা (রা.)-এর কোনো বিশেষ বংশধরকে ইমাম মাহদি বলে বিশ্বাস করে না। শিয়ারা তাঁর বংশধরের বিশেষ কোনো ব্যক্তিকে ইমাম মাহদি বলে বিশ্বাস করে।

৪. সুন্নিরা সুন্নাহ ও হাদিসের সমর্থক। শিয়ারা অধিক আগ্রহে তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য মেনে চলে।

৫. সুন্নিদের মতে, ইমাম মুসলিম সমাজ থেকে নির্বাচিত হবেন এবং তিনি তাঁর কার্যকলাপের জন্য মুসলমানদের কাছে জবাবদিহি করবেন। ইমামের পদ কোনো পরিবার বা গোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত থাকবে না। যেকোন মুসলমান, এমনকি, একজন গোলামও উপযুক্ত বা যোগ্য বলে বিবেচিত হলে তাঁকে ইমাম নির্বাচন করা যাবে। পক্ষান্তরে, শিয়াদের মতে, ইমাম মুসলিম উম্মতের একচ্ছত্র নেতা। তিনি আল্লাহ কর্তৃক নিযুক্ত এবং তাঁকে নিযুক্ত করার মানুষের কোনো অধিকার নেই।

৬. সুন্নিরা জুমার নামাজ জামাতে আদায় করে। কিন্তু শিয়াদের মতে, এ নামাজ ব্যক্তিগতভাবে পড়া যায়।

৭. ধর্মীয় পর্ব উদযাপনেও সুন্নি ও শিয়াদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। শিয়ারা ইমাম হুসাইন (রা.)-এর নির্মমভাবে শাহাদাতবরণের স্মৃতি রক্ষার্থে মহররম উদযাপনকালে তাজিয়া মিছিল বের করে এবং শোকের মাতম হিসেবে নিজের শরীরকে ক্ষতবিক্ষত করে। এ ক্ষেত্রে সুন্নিরা কেবল ১০ই মহররম বিশেষ ইবাদত করে।

৮. সুন্নিরা ইমামকে আল্লাহর প্রতিচ্ছায়া মনে করে না। শিয়ারা ইমামকে আল্লাহর প্রতিচ্ছায়া মনে করে।

মুতা বিয়েতে স্ত্রীর অনুমতি নিতে হয়না, ধর্মেও মানা নেই। তাহলে মুতা বিয়ে করে প্রকাশ্যে হালাল পতিতালয়ে যাওয়া নয় কেন?

সুন্নী মুসলিম পুরুষরা কি পতিতালয়ে যায়না? ঘুষ খায়না? পাপ করেনা? শিয়াদের সাথে সুন্নীদের মৌলিক বিষয়ে তো দ্বিমত নেই। তারা অমুসলিমও নয়। তাহলে শিয়াদের মত তারাও হালাল পতিতালয়ে গিয়ে মুতা বিয়ে করলে যৌনতার পাপ থেকে তারাও রক্ষা পেতে পারে।

পতিতারা শখ করে পতিতা হননা। তাঁরা বাধ্য হয়ে হলেও তাঁদের সে অনাকাঙ্ক্ষিত জীবন মেনে নিয়ে বেঁচে থাকেন। কিন্তু সাধারণ মেয়েরা? আমি এই পোস্টটি লিখতে গিয়ে বার বার একটা কথাই ভাবছি। যেসব মেয়েদেরকে একরাতের জন্য পুরুষরা বিয়ে করে, রাত শেষে মেয়েগুলোর মনের অবস্থা কেমন হয়? পরে তাদের অবস্থা কেমন হয়? তারা কি পুরুষদের বৈধ পতিতা হয়??? পুরুষের যৌন লালসার পাপ মোছার জন্য হালাল পতিতা???!!!!

ইসলামে নারীদের সবচেয়ে বেশী সম্মান দেয়া হয়েছে। তাঁদের সম্মান বাড়ানোর জন্যই পর্দাপ্রথা চালু করা হয়েছে। অথচ তাঁদেরকে এভাবে পতিতাদের মত যথেচ্ছ ব্যবহার করলে কী তাদের সম্মান থাকে? তাঁরা কি নারী নয়? তাঁরা তবে কী???

পুরুষ, তোমার বুদ্ধি অসাধারণ!!!! তোমার তুলনা হয়না!!!!!!